রংপুরে ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষক মনিরুজ্জামান মজনু এবং জেন্ডার অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের দশম ব্যাচের শিক্ষার্থী পরাগ মাহমুদ গুরুতর আহত হয়ে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিত্সাধীন রয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর গোলাম রব্বানী সাংবাদিকদের জানান, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ নং গেটের সামনে পরাগ মাহমুদ নামে এক শিক্ষার্থীকে এবং শুক্রবার ভোরে লালবাগ এলাকায় বেরোবি শিক্ষক মনিরুজ্জামান মজনুকে ছিনতাইকারীরা কুপিয়ে জখম করে। জানা গেছে, শিক্ষার্থী পরাগ পার্কভিউ ছাত্রাবাস থেকে সরদারপাড়ায় তার বন্ধুর ছাত্রাবাসে যাওয়ার পথে ছিনতাইকারীদের কবলে পড়েন। তিন জন যুবক পরাগকে তার মোবাইলফোনসহ সবকিছু দিয়ে দিতে বললে তিনি তাতে রাজি হন না। তখন তার ডান হাতে কোপ দিয়ে মোবাইল ফোন নিয়ে যায় ঐ যুবকেরা। অন্যদিকে ভোরে হাঁটতে বের হলে ছিনতাইকারীদের হামলার শিকার হন শিক্ষক মনিরুজ্জামান মজনু। ছিনতাইকারীদের এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে তাকে রংপুর মেডিক্যালে ভর্তি করা হয়। রংপুর মেট্রোপলিটন তাজহাট থানার ওসি আখতারুজ্জামান প্রধান জানান, ছিনতাইকারীদের ধরতে পুলিশ অভিযান শুরু করেছে। জানা গেছে, গত বেশ কিছুদিন যাবত্ বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস-সংলগ্ন এলাকায় ছিনতাইকারীদের দৌরাত্ম্য বেড়ে গেছে। প্রায়ই তাদের কবলে পড়ছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন, সড়ক অবরোধ থানায় প্রক্টরের মামলা, আটক ১
রংপুরে ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থী জখম হওয়ার ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। ঘটনার প্রতিবাদে গতকাল শুক্রবার বিকেল থেকে সন্ধা পর্য়ন্ত ক্যাম্পাস সংলগ্ন পার্কের মোড় এলাকায় বৃষ্টিতে ভিজে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেন তারা। পরে ঘণ্টাব্যাপী ঢাকা-রংপুর মহাসড়ক অবরোধ করে হামলাকারীদের গ্রেফতারের দাবি জানানো হয়।
ছিনতাইকারীদের হাতে ছাত্র-শিক্ষক আহত হওয়ার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর আনোয়ারুল আজিম বাদি হয়ে থানায় মামলা করেছেন। সন্দেহভাজন একজনকে আটক করেছে পুলিশ।