সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
সিরাজগঞ্জে বিভিন্ন সড়কের বেইলি ব্রিজগুলো এখন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ । প্রায় ৪৫ বছর আগে নির্মিত এসব বেইলি ব্রিজ এখন নড়বড়ে হয়ে গেছে। যে কোনো সময় ধসে পড়ে ব্যাপক প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে।
স্বাধীনতার যুদ্ধের সময় হানাদার বাহিনীর চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির জন্য জেলার অধিকাংশ সড়কের সেতু ধ্বংস করা হয়। স্বাধীনতা যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক করাসহ মানুষের দুর্ভোগ কমাতে বিধ্বস্ত সেতুগুলো সরিয়ে অস্থায়ী ভিত্তিতে বেইলি ব্র্রিজ নির্মাণ করা হয়। এরপর দীর্ঘ সময় অতিক্রান্ত হয়েছে। এই দীর্ঘ সময়ে বেইলি ব্রিজগুলো নড়বড়ে হয়ে গেছে। যান চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্ত বেইলি ব্রিজগুলো বারবার মেরামত করে কোনোরকমে যান চলাচল সচল রাখা হয়েছে। মাঝে মধ্যেই দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে। আর কোথাও কোনো বেইলি ব্রিজ ভেঙে গেলে সেখানকার মানুষের দুর্ভোগের কোনো সীমা থাকে না। ইতিমধ্যে এলাকাবাসীর দাবির মুখে কিছু বেইলি ব্রিজ সরিয়ে পাকা সেতু নির্মাণ করা হয়। কিন্তু এখনো জেলার সিরাজগঞ্জ, রায়গঞ্জসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে এখনো ১৩টি বেইলি ব্রিজ রয়েছে। সবগুলো বেইলি ব্রিজই অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় জোড়াতালি দিয়ে যান চলাচল সচল রাখা হয়েছে। কবে নাগাদ ক্ষতিগ্রস্ত বেইলি ব্রিজগুলো সরিয়ে পাকা সেতু নির্মাণ করা হবে তা অনিশ্চিত।
সিরাজগঞ্জ জেলা সড়ক ও জনপথ বিভাগরে নির্বাহী প্রকৌশলী দিদারুল আলম তরফদার বলেন, সিরাজগঞ্জ জেলায় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে এখনো ১৩টি বেইলি ব্রিজ আছে। বিচ্ছিন্নভাবে কোনো বেইলি ব্রিজ সরিয়ে পাকা সেতু নির্মাণের সুযোগ নেই। তবে কোনো সড়কের সম্প্রসারণ শুরু হলে সেখানে বেইলি ব্রিজ থাকলে তা নিয়মতান্ত্রিকভাবে তুলে নিয়ে পাকা সেতু নির্মাণ করা হয়। তিনি আরো বলেন, সিরাজগঞ্জের গুরুত্বপূর্ণ সিরাজগঞ্জ-রায়গঞ্জ সড়কে পাঁচটি বেইলি ব্রিজ রয়েছে । এই সড়কটি সম্প্রসারণ কাজ আগামী এক বছরের মধ্যেই শুরু হবে। এসময় এই সড়কের সবগুলো বেইলি ব্রিজ সরিয়ে সেখানে পাকা সেতু নির্মাণ করা হবে।