ইঞ্জিনিয়ার পলাশ মজুমদার
শিক্ষক
চাঁদপুর জনতা হাইস্কুল এন্ড কলেজ, কুমিল্লা
তথ্যপ্রযুক্তি বিজ্ঞানের জয়যাত্রাকে ব্যাহত করেনি বরং এগিয়ে দিয়েছে। স্পর্শ মজুমদারের কলেজের আইসিটি শিক্ষকসহ অন্যান্য শিক্ষক এখন আর ক্লাসে হাজিরা খাতা নিয়ে আসেন না। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের হাজিরা কলেজে প্রবেশের সাথে সাথে একটি যন্ত্রের বাটনে প্রেস করা মাত্রই হয়ে যায়। এই বিষয়টিসহ শিক্ষার্থীদের শরীরবৃত্তীয়, আচরণগত বিষয়, জৈব তথ্যে DNA, জিন এমিনো এসিড এবং নিউক্লিক এসিডসহ অন্যান্য উপাদানগুলো কীভাবে ভূমিকা রাখে তা আইসিটি শিক্ষক জনাব আমিনুল ইসলাম স্যার বিশদভাবে তুলে ধরেন।
ঘ. উদ্দীপকের আলোকে আমিনুল ইসলাম স্যারের বক্তব্য অনুযায়ী বায়োইনফরমেট্রিক্স-এর কী কী কাজ ও ব্যবহারিক ক্ষেত্র রয়েছে তা
উল্লেখপূর্বক বিশ্লেষণ করো।
(ঘ) নং প্রশ্নের উত্তর:
উদ্দীপকের আলোকে বায়োইনফরমেট্রিক্স- এর যে সকল ব্যবহারিক দিক রয়েছে তা নিম্নে বিশ্লেষণাত্মক বর্ণনা করা হলো:
বায়োইনফরম্যাট্রিক্স-এর কাজ: এই শাখার প্রধান কাজ হচ্ছে জীববিজ্ঞান সম্পর্কিত জ্ঞান ব্যবহার করে সফটওয়্যার টুলস তৈরি করা। তবে সিকুয়েন্স অ্যালাইনমেন্ট, জিন অনুসন্ধান, জিনোম সমন্বয়, প্রোটিনের গাঠনিক অ্যালাইনমেন্ট, প্রোটিনের গঠন, জিন বহিঃপ্রকাশ সম্পর্কে, জিন খুঁজে বের করা, জিনোম সমাগম, ড্রাগ নকশা, ড্রাগ আবিষ্কার এবং বিবর্তনের নকশা প্রণয়ন সম্পর্কিত সকল বিষয়ে এই শাখায় গবেষণা হয়ে থাকে।
বায়োইনফরম্যাট্রিক্স-এর ব্যবহারিক দিক সমূহ:
মাইক্রোবিয়াল জিনোম: মাইক্রোবিয়াল জিনোমস রিসোর্স প্রোকারিওটিক জিনোম সিকোয়েন্স প্রকল্প থেকে জনসাধারণের তথ্য উপস্থাপন করে। মেডিসিন:মলিকিউলার মেডিসিন, পার্সোনালাইজড মেডিসিন, প্রিভেনটেটিভ মেডিসিন ইত্যাদিতে এর ব্যবহার রয়েছে।
জিন থেরাপি: জিন থেরাপি হলো ত্রুটিপূর্ণ জিনের চিকিত্সায় রিকম্বিনেন্ট ডিএনএ প্রযুক্তির প্রয়োগ অর্থাত্ ত্রুটিপূর্ণ জিনকে অপসারণ করে ত্রুটিমুক্তি জিন প্রতিস্থাপন করাই হলো জিন থেরাপি।
তুলনামূলকশিক্ষা: জীব বৈচিত্র্যের জিনগত পরিবর্তন সম্পর্কিত বিষয়ে তুলনামূলক শিক্ষাগ্রহণ করা যায়।
প্রাণীর জিন প্রণালী:প্রাণীর বংশবিস্তার ও আকৃতিসহ ডিএনএ নালাইসিস ও নতুন সিকোয়েন্স তৈরি করা হয়।
আবহাওয়া পরিবর্তন শিক্ষা- বায়োইনফরম্যাটিক্স:এর মাধ্যমে আবহাওয়া পরিবর্তনগত প্রভাবসমূহ বিশ্লেষণ করা যায়।
বায়োটেকনোলজি:জৈবপ্রযুক্তির বৈজ্ঞানিক ও প্রকৌশলগত নীতি অনুসরণ ও প্রয়োগ করে জীবদের ব্যবহার করে মানুষের ব্যবহারযোগ্য উপাদান তৈরি করার বিশেষ প্রযুক্তি হচ্ছে বায়োটেকনোলজি।
কৃষি উত্পাদন বৃদ্ধি:বায়োইনফরম্যাটিক্স ব্যবহারের মাধ্যমে নতুন নতুন জাত ও আবহাওয়ার সহিষ্ণু জাত আবিষ্কার ফলে কৃষি উত্পাদন বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
জৈব অস্ত্র সৃষ্টি: জীবাণুভিত্তিক রণযুদ্ধে জীবাণু বা জৈবিক অস্ত্রশস্ত্র তথা জৈব অস্ত্র ব্যবহার করে মানুষের ক্ষতি সাধন করা হয়।
ভেটেরিনারি বিজ্ঞান:পশু চিকিত্সায় পশুপাখির রোগের কারণ খুঁজে বের করা এবং নিরাময়ের জন্য প্রতিষেধক তৈরিতে বায়োইনফরম্যাট্রিক্স-এর ব্যবহার রয়েছে।
মানব টিকা:মানব টিকা তৈরিতে বায়োইনফরম্যাট্রিক্স সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। টিকা তৈরির আগে ভাইরাসের জিনোম সিকুয়েন্স করতে হয়। এই কাজটিতে বায়োইনফরমেট্রিক্স-এর ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে।
পুষ্টি মান উন্নয়ন:খাদ্যের পুষ্টিমান যাচাই ও উন্নয়নে বায়োইনফরম্যাট্রিক্স-এর ব্যাপক ব্যবহার ও অবদান রয়েছে।
তাই সহজে বোঝা যায় যে আমাদের প্রাত্যহিক জীবনে বায়োইনফরম্যাট্রিক্স-এর ব্যবহার কত বিশাল ক্ষেত্র জুড়ে রয়েছে।