নবম দশম শ্রেণির বাংলাদেশ বিশ্বপরিচয়

বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়

সুধীর বরণ মাঝি, শিক্ষক

হাইমচর সরকারি মহাবিদ্যালয়, চাঁদপুর                                                                             বাংলা আমার প্রাণের ভাষা  

এ ভাষাতে কথা বলে জুড়ায় মনের সকল আশা।

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের অনুষ্ঠানে সৌমেন কবিতা আবৃত্তি করবে। তার বাবা কবিতাটি শেখাচ্ছেন। সৌমনের আবৃত্তি শুনে বড় ভাই মিলু তার ছাত্রজীবনের কথা মনে পড়ে যায়। ফেব্রুয়ারি মাসের এই দিনে ঢাকা শহরের ছাত্র জনতা বিশাল মিছিল নিয়ে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করতে রাস্তায় বেরিয়ে পড়ে। শুরু হয় পুলিশের সাথে সংঘর্ষ। সেই গোলাগুলিতে অনেকে শহিদ হন।

                                                                           ক) ভারতবর্ষে ব্রিটিশ শাসনের অবসান হয় কত সালে?                                                                                                                                     খ) ‘তমদ্দুনমজলিস’ সংগঠনটির উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করো।                                                                                                                                                                                                   গ) উদ্দীপকে মিলু ভাইয়ের মনে পড়া আন্দোলনটির প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করো।                                                                                        ঘ) ‘বাঙালি জাতীয়তাবাদ বিকাশে উক্ত আন্দোলন সকলকে ঐক্যবদ্ধ করেছে।’ তোমার মতামত বিশ্লেষণ করো।

উত্তর : ক) ভারতবর্ষে ব্রিটিশ শাসনের অবসান হয় ১৯৪৭ সালে।

উত্তর:খ) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবুল কাসেমের নেতৃত্বে ১৯৪৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর তমদ্দুন মজলিস গঠিত হয়। এটি একটি সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান। এ সংগঠনটির উদ্দেশ্য ছিল বাংলা ভাষাকে রক্ষা করার জন্য আন্দোলন গড়ে তোলা এবং বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা। তাই তো ৬-৭ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত যুবকর্মী সম্মেলনে

‘ বাংলাকে শিক্ষা ও আইন আদালতের বাহন ’ করার প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়। ১৫ সেপ্টেম্বর এ সংগঠন ‘পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু নামে একটি পুস্তিকা প্রকাশ করে।  এ সময় তমদ্দুন মজলিস ‘ভাষা সংগ্রাম পরিষদ ’ গঠন করে।

উত্তর:গ) উদ্দীপকের মিলু ভাইয়ের মনে পড়া আন্দোলনটি ভাষা আন্দোলনকে নির্দেশ করে। বাংলাদেশের ইতিহাসে ভাষা আন্দোলন খুবই গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। ১৯৪৭ সালের ডিসেম্বর মাসে করাচিতে অনুষ্ঠিত এক শিক্ষা সম্মেলনে উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হলে পূর্ব বাংলায় তীব্র প্রতিবাদ শুরু হয়। বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবি ওঠে, লেখালেখি শুরু হয়। ঢাক বিশ্ববিদ্যালয়, সচিবালয়সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে মিছিল,সভা-সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। পাকিস্তান সরকার ১৪৪ ধারা জারিসহ সভা সমাবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। পরবর্তীতে ১৯৪৮ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান গণপরিষদ সদস্য ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত গণপরিষদের ভাষা হিসেবে উর্দু ও ইংরেজির পাশাপাশি বাংলা ব্যবহারের দাবি জানান। কিন্তু তা অগ্রাহ্য হয়। একই সালের ১৯ মার্চ গভর্নর জেনারেল মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ এবং ১৯৫২ সালের ২৬ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিমউদ্দীন উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা ঘোষণা দেন। এর প্রতিবাদে ছাত্রসমাজ ৩০ জানুয়ারি ধর্মঘট পালন করে। ২১ ফেব্রুয়ারি দেশব্যাপী সাধারণ ধর্মঘট এবং ঐদিন রাষ্ট্রভাষা দিবস পালন করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। কিন্তু ২০ ফেব্রুয়ারি সরকারি এক ঘোষণায় ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৪৪ ধারা জারিসহ সভা-সমাবেশ ও মিছিল এক মাসের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়। ২১ ফেব্রুয়ারি সকাল ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আমতলায়, ঢাকা মেডিকেল কলেজের চত্বরে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সিদ্ধান্ত হয় ১০ জন করে মিছিল শুরু করা হবে। ঢাকা মেডিকেল কলেজের দিক থেকে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে মিছিল এগিয়ে চলে। পুলিশ প্রথমে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে, মিছিলে লাঠিচার্জ ও কাঁদুনে গ্যাস নিক্ষেপ করে। এক পর্যায় পুলিশ গুলিবর্ষণ করলে আবুল বরকত, রফিক, জব্বার সালাম সহ আরও কয়েকজন শহিদ হন এবং অসংখ্য লোক আহত হন। ১৯৪৭ সালে রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন ১৯৪৮ থেকে ১৯৫২ সালে প্রতিবাদ ও রক্তক্ষয়ী সংগ্রামে পরিণত হয়।                         ঘ-এর উত্তর আগামীকাল