সেতুর আশায় শতবর্ষ

সিরাজদিখানে দুর্ভোগ

সামসুজ্জামান পনির

    সিরাজদিখান (মুন্সীগঞ্জ) সংবাদদাতা

‘জন্মের পর থেকেই দেখছি খাল পারাপারে বাশের সাঁকোর ভোগান্তি। এ ভোগান্তি কবে শেষ হবে তা জানি না। তবে মৃত্যুর পূর্বে একটি পাকা সেতু দেখে গেলে শান্তি পেতাম’। কথাগুলো আক্ষেপ করে বললেন, উত্তর রাঙ্গামালিয়া গ্রামের ৮০ বছরের বৃদ্ধ মো. ইদ্রিস মাদবর। সিরাজদিখান উপজেলার উত্তর রাঙ্গামালিয়া গ্রামের মাদবর বাড়ি ঘেঁষে ইছামতি খাল পারাপারে বাশের সাঁকোর দুরবস্থা শতবর্ষেরও অধিককালের। গুরুত্বপূর্ণ এ সাঁকোটি এলাকার মানুষের খাল পারাপারের একমাত্র ভরসা। সাঁকোটি প্রায় ২০০ ফুট লম্বা। এলাকাবাসী জানায়, শুরু থেকেই সাঁকোটির দুরবস্থা। সাঁকো থেকে পড়ে এ পর্যন্ত দুই শিশুর মৃত্যু ও কয়েক জন পঙ্গু হয়েছে। অনেকের মালামাল পানিতে পড়ে তলিয়ে গেছে। সাঁকোটির নিচ দিয়ে প্রতিদিন বালুবাহিত ট্রলার (বাল্কহেড), যাত্রী ও মালবাহী বিভিন্ন ধরনের নৌকা চলাচল করে। তাই প্রায় সময়ই ট্রলার ও নৌকার ধাক্কায় সাঁকো ভেঙে কিংবা নড়বড়ে হয়ে যায়। তখন  মেরামত না করা পর্যন্ত চলাচল বন্ধ থাকে। ঐ সময়ে খাল সাঁতরে পার হওয়া ছাড়া উপায় থাকে না। রাতের বেলা  কিংবা বৃষ্টির সময় বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের পক্ষে পারাপার কঠিন হয়ে পড়ে।

জানা যায়, প্রতি বছর সাঁকোটি মাদবর বাড়ির টাকায় মেরামত করতে হয়। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনকে অবহিত করেও কোনো কাজ হয় না। তবে প্রতিটি নির্বাচনের পূর্বে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা সাঁকোর জায়গায় পাকা সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিলেও নির্বাচিত হওয়ার পর আর কেউ মনে রাখে না। তাই এলাকাবাসী একটি পাকা সেতু নির্মাণের জন্য প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে ধরনা দিচ্ছে।