রাণীনগরে জমে উঠেছে নৌকার হাট

রাণীনগর (নওগাঁ) সংবাদদাতা

নওগাঁর রাণীনগর ও আত্রাই উপজেলা হচ্ছে নদীমাতৃক ও বিলবেষ্টিত এলাকা। বর্ষাকালে এই দুই উপজেলার বিলবেষ্টিত মত্স্যজীবী ও কৃষকদের প্রধান অবলম্বন হচ্ছে নৌকা। বিশেষ করে বিল ও নদী থেকে মাছ ধরতে নৌকার প্রয়োজন। চলমান ভারি বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে নদনদী, খাল-বিলে বর্ষার পানি বাড়তে শুরু করেছে। ফলে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় নৌকা তৈরি ও বিক্রির ধুম পড়েছে। ব্যস্ত সময় পার করছেন নৌকা তৈরির কারিগররা। নতুন নৌকা তৈরির পাশাপাশি পুরোনো নৌকা মেরামতের কাজও চলছে। জমে উঠেছে নৌকা বিক্রির হাটগুলো। বিশেষ করে উপজেলার সমাসপাড়া, আবাদপুকুর হাটে শুক্রবার ও সোমবার বিক্রি হচ্ছে শত শত নৌকা। নৌকা ক্রয়ে একদিকে সুফল পাচ্ছেন এলাকার পানিবন্দি মানুষ, অপরদিকে নৌকা তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করছেন অনেক কাঠমিস্ত্রি।

সমসপাড়া হাটে নৌকাবিক্রেতা আব্দুল লতিফ, আব্দুল মজিদসহ অনেকে বলেন, আমরা কৃষক মানুষ। বর্ষায় আমাদের মাঠ ডুবে যাওয়ায় আমরা কর্মহীন হয়ে পড়েছি। বর্তমানে বিভিন্ন গ্রামে নৌকার চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় আমরা নৌকা বিক্রির পেশায় নিয়োজিত হয়েছি। শুধু রাণীনগর ও আত্রাই নয়, নাটোরের সিংড়া এবং চলনবিল এলাকার লোকজনও আমাদের নৌকা ক্রয় করতে আসেন।

উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের নন্দনালী গ্রামের নৌকা তৈরির কারিগর নগেন, নরেশ ও নিতাই চন্দ্র বলেন, ৯-১০ হাত নৌকা তৈরিতে খরচ হয় ৩ হাজার ৫০০ থেকে ৪ হাজার টাকা। আর বিক্রি হয় ৪ হাজার ৫০০ থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত। ১২-১৩ হাত নৌকা তৈরি করতে খরচ হয় সাড়ে ৫ হাজার থেকে ৬ হাজার টাকা। আর বিক্রি হয় ৭ হাজার থেকে ৮ হাজার টাকা পর্যন্ত। এছাড়া কাঠের প্রকারভেদেও নৌকার দাম কম-বেশি হয়ে থাকে।

নৌকা কিনতে আসা মির্জাপুর গ্রামের আব্দুল আজিজ, শফিউল ইসলামসহ অনেকেই বলেন, বর্ষা মৌসুমে আমাদের এলাকার অধিকাংশ জায়গা পানিতে তলিয়ে যায়। তাই চলাচলের জন্য একমাত্র বাহন এই নৌকা। এছাড়া মাছ ধরা ও দৈনন্দিন কাজকর্ম সম্পন্ন করতে নৌকা প্রয়োজন। তাই নতুন নৌকা কিনতে এসেছি আর পুরোনো একটি নৌকা মেরামত করতে এসেছি।