নৌ চলাচল সচলের চেষ্টা
রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি
কাপ্তাই লেকের বিস্তীর্ণ এলাকা কচুরিপানায় ভরে গেছে। রাঙ্গামাটি জেলার ১০টি উপজেলার মধ্যে সাতটির সঙ্গেই মূলত নৌপথে যোগাযোগ। এতে লেকে নৌযান চলাচল যেমন বিঘ্নিত হচ্ছে তেমনি কচুরিপানার জঞ্জাল পচেগলে দূষিত হয়ে পড়ছে কাপ্তাই লেকের পানি।
সরেজমিনে দেখা যায়, কাপ্তাই লেকে মাইলের পর মাইল বিস্তার ঘটেছে কচুরিপানার। লেকে জমে থাকা কচুরিপানার জঞ্জালের কারণে শহরের অভ্যন্তরে নৌ চলাচল বিঘ্নিত হচ্ছে। জঞ্জালের কারণে সাপ ও মশার উপদ্রবও বেড়েছে। কচুরিপানা বেশি ভোগাচ্ছে সুবলং চ্যানেলে। স্থানীয়রা জানান, কাপ্তাই লেকে রাঙ্গামাটি সদর থেকে কাপ্তাই উপজেলা জেটিঘাট, বিলাইছড়ি, জুরাছড়ি, লংগদু, বরকল, বাঘাইছড়ি, ফারুয়া, হরিণছড়াসহ বিভিন্ন জায়গায় প্রতিদিন যাত্রীবাহী অসংখ্য ছোটবড় ইঞ্জিনচালিত বোট এই নৌপথে চলাচল করে। এছাড়া সাপ্তাহিক হাটবাজারে পণ্যবাহী বোটও চলাচল করে এই নৌপথে। রাঙ্গামাটির সুবলং ঝর্ণা ও বিলাইছড়ি উপজেলার বিভিন্ন ঝর্ণাগুলো দেখার জন্য এই মৌসুমে অসংখ্য পর্যটক চলাচল করে।
বোটচালক মনোরঞ্জন চাকমা জানান, প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পাহাড়ি ঢলে এই কচুরিপানা কাপ্তাই লেকে চলে আসে। শীতকাল পর্যন্ত এই কচুরিপানা থাকবে। যার ফলে স্বাভাবিক গতিতে আমরা বোট চালাতে পারি না। স্বাভাবিকভাবে রাঙ্গামাটি সদর ও কাপ্তাই জেটিঘাট হতে বিলাইছড়ি পর্যন্ত নৌপথে ইঞ্জিনচালিত বোট দিয়ে যেতে গড়ে এক ঘণ্টা ২০ মিনিট থেকে দেড় ঘণ্টা লাগে। কিন্তু বর্তমানে এই কচুরিপানার জঞ্জালের কারণে দুই ঘণ্টা থেকে আড়াই ঘণ্টা সময় লাগছে। ইঞ্জিনচালিত নৌযানে করে বাজারে কাঁচা মালামাল বিক্রি করতে আসা শান্তি রঞ্জন চাকমা ও কিনা চাঁন তংচঙ্গ্যা জানান, কাপ্তাই লেকের কচুরিপানার যানজটের ফলে দুই মিনিটের স্থান পৌঁছাতে এখন সময় লাগে এক-দেড় ঘণ্টা। এতে বাজারে বিক্রি করতে নিয়ে আসা আমাদের কাঁচা শাকসবজি পথে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। বহু ইঞ্জিনচালিত নৌযানের পাখা কচুরিপানার কারণে ভেঙে যাচ্ছে।
রাঙ্গামাটি শহরের আনাচে কানাচে কাপ্তাই লেকে কচুরিপানার জঞ্জালের কথা নিশ্চিত করে বিএফডিসি রাঙ্গামাটি ব্যবস্থাপক লে. কমান্ডার এম তৌহিদুল ইসলাম জানান, কাপ্তাই লেকের যেখানে কচুরিপানার জট আছে সেখানে একটু বাধার সৃষ্টি করছে। বিশেষ করে কাপ্তাই লেকের কাইন্দার মুখে প্রায় ১০ দিন যাবত্ কচুরিপানার জঞ্জাল লেগে ছিল। রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের নির্দেশে রাঙ্গামাটি লঞ্চ মালিক-শ্রমিক সংস্থার উদ্যোগ ও বিএফডিসির ব্যবস্থাপনায় তিনটি লঞ্চ ব্যবহার করে লেকের কচুরিপানার জঞ্জাল অপসারণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। আশাকরি, কয়েক দিনের মধ্যে হ্রদে যাতায়াতকারী নৌযানগুলোকে কচুরিপানার কারণে বিড়ম্বনায় পড়তে হবে না।
রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আশরাফুল ইসলাম জানান, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের সঙ্গে এই বিষয়টি নিয়ে আলাপ করা হবে। রাঙ্গামাটি লঞ্চ মালিক সমিতির সভাপতি মঈন উদ্দীন সেলিম জানান, কাপ্তাই লেকে কচুরিপানার জন্য সুবলং, বরকল, জুরাছড়ি, বিলাইছড়িসহ বিভিন্ন জায়গায় নৌ চলাচলে সমস্যায় পড়তে হয়। রাঙ্গামাটি পর্যটন ঘাটের ট্যুরিস্ট বোট চালকদের ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা রমজান আলী বলেন, প্রতি বছরই বর্ষা মৌসুমে সীমান্ত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে এই কচুরিপানায় দুর্ভোগ পোহাতে হয় আমাদের।