এক মাস আগে বিদেশিদের জন্য ওমরাহর দরজা উন্মুক্ত হলেও বিপাকে পড়েছেন চীনের তৈরি ভ্যাকসিন গ্রহীতারা। সিনোফার্মের ভ্যাকসিন নিয়ে পবিত্র ওমরাহ করতে যেতে পারছেন না বাংলাদেশিরা। চীনা টিকা নিলে ভিসা দিচ্ছে না সৌদি দূতাবাস। ফলে এক মাসেও ওমরাহ কার্যক্রমে গতি নেই হজ এজেন্সিগুলোর। ফলে ওমরাহ কার্যক্রম পরিচালনায় ধর্ম মন্ত্রণালয় অনুমোদিত ২৪৭টি হজ এজেন্সিকে প্রায় হাত গুটিয়ে বসে থাকতে হচ্ছে। গত দুই সপ্তাহে তারা মাত্র ২০০ জনকে ওমরাহ করতে যাওয়ার ব্যবস্থা করতে পেরেছে। এ ব্যাপারে হজ এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (হাব) সভাপতি এম শাহাদাত হোসাইন তসলিম বলেন, আমরা দুশ্চিন্তায় আছি। এখনো সমাধান মেলেনি। এ জটিলতার নিরসন না হলে আগ্রহীদের ওমরাহ পালন সম্ভব হবে না। আমরা বাংলাদেশ ও সৌদি সরকারের সঙ্গে আলাপ করে বিষয়টির সমাধানের চেষ্টা করছি। তিনি বলেন, বাংলাদেশে মফস্বল এলাকা থেকে যারা আসছেন তাদের প্রায় সবাই চীনের টিকা নিয়েছেন। সৌদি আরব তাদের ওমরাহ নির্দেশনায় বলেছে, ফাইজার-বায়োএনটেকের দুই ডোজ অথবা অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার দুই ডোজ অথবা মডার্নার দুই ডোজ অথবা জনসন অ্যান্ড জনসনের এক ডোজ যারা নিয়েছেন তাদের অনুমতি দেওয়া হবে। যারা শুধু সিনোফার্ম টিকা নিয়েছেন তাদের ওমরাহ পালনের অনুমতি দেয়নি দেশটির সরকার। তবে সিনোফার্ম টিকা গ্রহণকারীরা বুস্টার ডোজ হিসেবে অন্য কোনো টিকা নিলে আবার ওমরাহ পালনের অনুমতি পাবেন। বাংলাদেশে ব্যাপক হারে দেওয়া হচ্ছে চীনের সিনোফার্মার টিকা। কিন্তু এই টিকার বুস্টার ডোজ হিসেবে অন্য প্রতিষ্ঠানের টিকা না নিলে ওমরাহ পালনের অনুমতি দেবে না সৌদি আরব সরকার। বুস্টার ডোজ নেওয়ার সুযোগ আপাতত নেই দেশে। এমন জটিলতায় পড়ে এখনো ওমরাহ কার্যক্রমে মন্থর গতি হজ এজেন্সিগুলোর।
বাংলাদেশের হজ এজেন্সিগুলো ভ্যাকসিন ইস্যুতে অনেক ওমরাহ গমনেচ্ছুদের ‘না’ বলতে বাধ্য হচ্ছেন। তারা সরকারকে সৌদি আরবের সঙ্গে যত দ্রুত সম্ভব সমস্যা নিষ্পত্তি করতে তাগাদা দিচ্ছেন। ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের হজ বিভাগের উপসচিব আবুল কাশেম মুহাম্মদ শাহীন বলেন, আমরা সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছি। আমরা আশা করি, খুব শিগিগরই বিষয়টি নিষ্পত্তি হবে।
এদিকে আরব নিউজের খবরে বলা হয়েছে, সৌদি সরকার দেশটিতে গত ২৫ আগস্ট চীনে তৈরি সিনোভ্যাক ও সিনোফার্মের টিকার অনুমোদন দিলেও তা বিদেশিদের ওমরাহ করার ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য করেনি এখনো। নতুন সার্কুলার তৈরি হতে পারে। সেই সার্কুলারে হয়তো চীনা টিকার দুই ডোজ গ্রহণকারীরা ওমরাহ করতে যেতে পারবেন। এদিকে সৌদি আরবের নানা বিধিনিষেধ আরোপে ওমরাহর খরচও বেড়েছে। হজ এজেন্সিগুলো জানিয়েছে এখন বিমান ভাড়া অনেক বেড়েছে। আগে হোটেলের এক রুমে চার থেকে ছয় জন ওমরাহ যাত্রী থাকার সুযোগ থাকলেও এবার তা সম্ভব নয়। সৌদির শর্ত অনুযায়ী, দুজনের বেশি এক রুমে থাকা যাবে না। পরিবহন, ভিসা প্রসেসিং অন্যান্য খাতেও খরচ বেড়েছে। ফলে ১ লাখ ৫০ হাজার নিচে ওমরাহ পালনের প্যাকেজ করা সম্ভব হচ্ছে না। সম্প্রতি বিভিন্ন বিধিনিষেধ আরোপ করে ১ মহরম থেকে বিদেশিদের ওমরাহ করার অনুমতি দেওয়া হয়। বিভিন্ন দেশ থেকে সৌদি আরবে যেতে শুরু করেছেন ওমরাহ পালনকারীরা। এখন প্রতিদিন ৭০ হাজার মুসল্লি ওমরাহ পালন করতে পারবেন। এতে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আরো বেশি সংখ্যক মানুষ ওমরাহ করতে দেশটিতে যেতে পারবেন। আরব নিউজ দেশটির কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে জানায়, প্রতিদিন ওমরাহ পালনকারীর সংখ্যা ১ লাখ ২০ হাজার পর্যন্ত বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েছে সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
টুরিস্ট ও ভিজিট ভিসায়ও ওমরাহ করা যাবে
সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় বৃহস্পতিবার এক ঘোষণায় জানিয়েছে, ‘টুরিস্ট’ ও ‘ভিজিট’ ভিসাপ্রাপ্ত বিদেশিরাও ওমরাহ করতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে তাদের ‘ইতমারনা’ ও ‘তাওয়াক্কালনা’ অ্যাপে রেজিস্ট্রেশন করে প্রয়োজনীয় পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে।