আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে বর্তমান সরকারকে ছয়টি শর্ত দিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, ‘নিরপেক্ষ সরকার ও নির্বাচন কমিশন গঠন ছাড়া দেশে আগামীতে জাতীয় নির্বাচন হবে না। আমরা পরিষ্কার ভাষায় বলতে চাই, বাংলাদেশে নির্বাচন একটা হবে। সেই নির্বাচন অবশ্যই হতে হবে একটা নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে, সেই নির্বাচন হতে হবে একটা নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের পরিচালনায়। আর সবার আগে বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে হবে এবং একই সঙ্গে মুক্তি দিতে হবে যারা কারাগারে আছেন। গণতন্ত্রের নেতাকর্মী, শুধু রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে যাদের আটক করে রাখা হয়েছে, তাদের মুক্তি দিতে হবে। আর ৩৫ লাখ মানুষের বিরুদ্ধে যে মিথ্যা মামলা আছে, সেই মামলাগুলো প্রত্যাহার করতে হবে। এর আগে কোনো নির্বাচন হবে না এ দেশে।’
গতকাল শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের ৪৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনাসভায় তিনি এসব কথা বলেন। মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাসের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদের সঞ্চালনায় আলোচনাসভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সংগঠনের নেত্রী নেওয়াজ হালিমা আরলি, হেলেন জেরিন খান, ইয়াসমীন আরা হক, চৌধুরী নায়াব ইউসুফ বক্তব্য রাখেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের সভায় নির্বাচনের কথা বলেছেন। তার দলের কার্যনির্বাহী পরিষদের সভায় সবাইকে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে বলেছেন। কোন নির্বাচন? যে নির্বাচন শুধু আপনাকে নির্বাচিত করবে সেই নির্বাচন? যে নির্বাচনে আমাদের জনগণ যারা ভোটার আছে, তারা ভোট দিতে যেতে পারবে না, এমনকি তাদের বাড়িঘরে আক্রমণ করা হবে, ভোটকেন্দ্রে গেলে তাদের বেইজ্জতি করা হবে, নির্যাতন করা হবে সেই নির্বাচন? যে নির্বাচনের আগের রাতেই আপনারা দখল করে নিয়ে চলে যাবেন সেই নির্বাচন? যে নির্বাচন আপনাদের ক্ষমতায় যাওয়ার আরেকটা পথ সুগম করবেন, সেই নির্বাচন?’ নির্বাচন কমিশন গঠনের জন্য সংসদে আইন প্রণয়নে আপত্তি জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা বলতে চাই, নির্বাচন কমিশন গঠন হবে তখনই, যখন সত্যিকার অর্থেই একটা নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠন হতে পারে সেই ব্যবস্থা তৈরি করা হয়। একতরফা আইন পাশ করে নির্বাচন কমিশন গঠন করা হলে সেটা এ দেশের মানুষ মেনে নেবে না।’ বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘সমস্ত রাষ্ট্রযন্ত্রকে আপনারা দলীয়করণ করেছেন। আমরা কথা বলতে পারছি না, লিখতে পারছি না। এভাবে একতরফা, একদলীয় শাসনব্যবস্থা, একটা কর্তৃত্ববাদী সরকার প্রতিষ্ঠা করা, ফ্যাসিবাদী সরকারকে চিরস্থায়ী করা—এটা কোনো দিনই এ দেশের জনগণ মেনে নিতে পারে না। স্বাধীনতাযুদ্ধে আমাদের মূল লক্ষ্য কী ছিল? একটা ছিল রাজনৈতিক মুক্তি, আরেকটা অর্থনৈতিক মুক্তি। সেই রাজনৈতিক মুক্তিই তো পাইনি।’ তিনি বলেন, ‘আন্দোলনের কোনো বিকল্প নেই—এ কথা মনে করে আমাদের রাস্তায় নামতে হবে।’