সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
‘ঘর-দোর, জাগা-জমি, সব শেষ। আশ্রয় নিছি একটা দোকান ঘরে। আমরা ভাটির সময় জাগি, আবার জোয়ার হলি ডুবি। এভাবে আর কত দিন থাকপো। এবার ভাবিছি চলি যাবো নড়াইলি। বাপ-দাদার ভিটি-মাটি সব গেছে। দুবছর হতি যাচ্ছে ডুবি মরতিছি। বাঁধ হবার নাম নেই। বাঁধ-টাধ হলি আবার আসব।’
সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগরে জলবায়ু ধর্মঘটে অংশ নেওয়া স্থানীয় বাসিন্দা সাইদুল ইসলাম এভাবেই তার ভোগান্তির কথা তুলে ধরলেন। পরিবেশবাদী আন্দোলন ‘ফ্রাইডেস ফর ফিউচার বাংলাদেশ’ এবং ‘ইয়ুথনেট ফর ক্লাইমেট জাস্টিস’ এর আহ্বানে শুক্রবার বেলা ৩টায় ইউনিয়নের দরগাতলায় অনুষ্ঠিত এই ধর্মঘটে উপকূলের ভুক্তভোগী বাসিন্দারা অংশগ্রহণ করেন। জলাবদ্ধতা নিরসনে দ্রুত টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ, সুপেয় পানি ও উপকূল সুরক্ষার দাবিতে এ কর্মসূচি পালন করেন ক্ষতিগ্রস্তরা।
জলবায়ু ধর্মঘট কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা জানান, বেশ কয়েক দিন আগে দরগাতলা গ্রামের হাবিবুর রহমানের স্ত্রী সাদিয়া সুলতানা (২২) সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে মারা যান। চারিদিকে পানি আর পানি। তাই দূরের গ্রামে দাফন করা হয় মৃত গৃহবধূকে। একই উপজেলার প্রতাপনগর গ্রামের মাহমুদুল হাসান (৩৫) গেল জুলাইয়ে হূদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। মাটির ওপর কোনো রকম পলিথিন বিছিয়ে ইট গেথে সমাধি তৈরি করে দাফন করা হয় মৃতদেহ। কয়েক দিন পর লাশ পচে চারিদিকে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। পানি দূষিত হয়ে যায়। এমন চিত্র বিগত কয়েক বছর ধরে চলছে উপকূলীয় বানভাসি জনপদে। তারা আরো বলেন, দীর্ঘ দেড় বছরের অধিক সময় সাতক্ষীরা উপকূলের বিস্তীর্ণ এলাকা লবণ পানিতে ডুবে আছে। জলাবদ্ধতা এবং করোনা এই অঞ্চলের মানুষকে দুর্বিষহ অবস্থায় ফেলেছে। মানুষের জীবনযাত্রা জোয়ার-ভাটা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে। বেড়িবাঁধ ভাঙনের আতঙ্কে স্থানীয়দের তটস্থ থাকতে হয় সবসময়। অনেক এলাকায় যোগাযোগব্যবস্থা এখনো বিচ্ছিন্ন। চিকিত্সা, স্যানিটেশন, সুপেয় পানিসহ বিভিন্ন সংকটে বিপর্যস্ত উপকূলের লক্ষাধিক মানুষ।
‘ইয়ুথনেট ফর ক্লাইমেট জাস্টিস’ এর সাতক্ষীরা জেলা সমন্বয়ক এস এম শাহিন আলম বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে আজ উপকূল ক্ষতবিক্ষত। মানুষের বেঁচে থাকাটাই চ্যালেঞ্জ। মানুষ উপকূল ছেড়ে চলে যাচ্ছে। আগামী জলবায়ু সম্মেলনে আমরা কথার বাস্তবায়ন দেখতে চাই, ন্যায্য ক্ষতিপূরণ চাই।’