করোনায় স্কুল বন্ধে বাল্যবিবাহ বেড়েছে

  মনিরুল ইসলাম মিনি

 

করোনা মহামারির কারণে গত দেড় বছরের বেশি সময় ধরে বন্ধ রয়েছে আলীপুর আদর্শ মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়। এই সময়ে এই স্কুলের কমপক্ষে ৫০ জন ছাত্রীর বাল্যবিবাহ হয়েছে বলে জানিয়েছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। জেলার প্রায় প্রতিটি স্কুলের চিত্র একই রকম। আগে থেকেই বাল্যবিবাহপ্রবণ জেলা সাতক্ষীরায় বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা ও প্রশাসনের উদ্যোগে নানা কর্মসূচির কারণে বাল্যবিবাহের হার প্রায় অর্ধেকে নেমে আসে। তবে করোনা সেই হিসাবকিতাব পালটে দিয়েছে। ২০১৯ সালে আলীপুর আদর্শ মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সব শিক্ষার্থীকে বাল্যবিবাহ না করার শপথ করানো হয়। সে সময় উপজেলা প্রশাসন থেকে ঘটা করে আয়োজন করে প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে একটি ডাটাবেজের আওতায় এনে লালকার্ড প্রদান করা হয়।

বাল্যবিবাহের শিকার ঐ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির এক ছাত্রীর বাবা বলেন, ‘স্কুল বন্ধ থাকায় পড়াশোনায় মন বসত না মেয়ের। ভালো পাত্র পেয়েছিলাম বলে তাড়াতাড়ি বিয়ে দিয়ে দিয়েছি।’ আরেক ছাত্রীর বাবা বলেন, ‘পাড়ার এক বখাটে ছেলে তার মেয়েকে বিরক্ত করত। বিয়ের জন্য তাদের হুমকিধমকি দিত। সময় ভালো না, কখন কী হয়ে যায় এই ভয়ে ভালো পাত্র দেখে মেয়েকে বিয়ে দিয়েছি।’

জানা যায়, বর্তমানে আইনসংগত উপায়ে বাল্যবিবাহের নিবন্ধন হয় না। কিছু অসাধু রেজিস্ট্রার নকল নিবন্ধন ফরমে সই নিয়ে বিয়ে সম্পন্ন করছে। পরে যখন ছাত্রীদের বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হচ্ছে তখন রেজিস্ট্রেশন করা হচ্ছে। ফলে আইন করেও কৌশলের কারণে বাল্যবিবাহ বন্ধ করা যাচ্ছে না।’

বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা সেভ দ্য চিলড্রেনের হয়ে কাজ করা ব্রেকিং দ্য সাইলেন্স সাতক্ষীরার কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম বলেন, গেল পাঁচ বছর ধরে তারা সাতক্ষীরা সদর উপজেলায় বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ ও শিশু নির্যাতন বন্ধে কাজ করছেন। করোনার আগে জেলায় বাল্যবিবাহের হার অর্ধেকে নেমে এসেছিল। গত দেড় বছর করোনার কারণে স্কুল বন্ধ থাকায় সেই হার বেড়েছে। তবে সঠিক জরিপ ছাড়া এই মুহূর্তে ঠিক কতটা বেড়েছে তা বলা সম্ভব নয়। বিষয়টি নিয়ে আমাদের কর্মীরা কাজ শুরু করেছেন।

মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা বলেন, প্রতিটি উপজেলায় একটি করে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ কমিটি রয়েছে। যার সভাপতি স্ব স্ব উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ও সদস্য সচিব সেই জেলার মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা। এই কমিটি বাল্যবিবাহের কোনো সংবাদ পেলে তাত্ক্ষণিক বিয়ে প্রতিরোধ করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে। তবে কেউ গোপনে বিয়ে করলে বা আমাদের গোচরে না আনলে আমরা কিছু করতে পারি না।

 

ছবি: ইন্টারনেট