রূপকথার ঐতিহাসিক সমাপ্তি টানলেন রাদুকানু

স্পোর্টস ডেস্ক

র্যাংকিংয়ের ১৫০-এ থাকায় এমা রাদুকানু ভেবেছিলেন ইউএস ওপেনের বাছাইপর্বেই বিদায় হবে। তাই ঘরে ফেরার টিকিটটা আগেভাগেই কেটেছিলেন তিনি। সেই টিকিটে করে ঘরে আর ফেরা হয়নি তার, কবে ফিরবেন সেটাও জানেন না। কেননা গত তিন সপ্তাহ ধরে যে রূপকথা লিখে আসছিলেন এই ১৮ বছর বয়সি ব্রিটিশ কন্যা, সেটার সমাপ্তিও টেনেছেন ঐতিহাসিকভাবে। লাইলাহ ফার্নান্দেজকে ৬-৪, ৬-৩ গেমে হারিয়ে প্রথম টেনিস খেলোয়াড় হিসেবে বাছাইপর্ব থেকে খেলে গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়ের ইতিহাস গড়েছেন রাদুকানু।

এই জয়ের পর পুরো ব্রিটেন জুড়েই প্রশংসার সাগরে ভাসছেন রাদুকানু। ব্রিটেনের রাণি এলিজাবেথ থেকে শুরু করে এমন কেউ নেই যে, তাকে নিয়ে উল্লাসে মাতেনি। ৪৪ বছর আগে ভার্জিনিয়া ওয়েড সবশেষ ব্রিটেনের হয়ে গ্র্যান্ড স্ল্যাম  জিতেছিলেন। সেই ওয়েডের সামনেই রূপকথাকে পূর্ণতা দেন তিনি।

বাবা রোমানিয়ান ও মা চাইনিজ হলেও রাদুকানু বেড়ে উঠেন লন্ডনে। মাত্র তিন মাস আগেই শেষ করেন এ লেভেল পরীক্ষা। প্রস্তুতি কম হওয়ার পরও ওয়াইল্ডকার্ডের সুবাদে সুযোগ পান উইম্বলডনে। ক্যারিয়ারে প্রথম গ্র্যান্ড স্ল্যামে শেষ ষোলতে থামে তার দৌড়। কিন্তু ইউএস ওপেনে এসে তাক লাগিয়ে দেন সবাইকে। বাছাইপর্ব থেকে ফাইনাল পর্যন্ত ১০ ম্যাচে হারেননি কোনো সেট। ইউএস ওপেনের তাই ট্রফি পাওয়ার পর সেটাকে এমন ভাবে আঁকড়ে ধরে রাখেন, যেন সেটা নেওয়ার সাধ্য নেই আর কারো।

 ২০০৪ সালে মারিয়া শারাপোভার পর সবচেয়ে কম বয়সে শিরোপা জেতা রাদুকানু বলেন, ‘এই ট্রফিটা আঁকড়ে ধরে রাখাটাই আমার কাছে সবকিছু এবং আমি এটা হাতছাড়া করতে চাই না। আমি গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়ের স্বপ্ন দেখেছি। কিন্তু জেতার জন্য যে বিশ্বাস রেখেছি, সত্যিই জয়ের পর তা অবিশ্বাস্য লাগছিল।’

ফাইনালের স্কোরলাইন দেখে মনে হবে একপেশে কোনো লড়াই। কিন্তু আদতে তা নয়। ১৯৯৯ সালের পর ফ্লাশিং মিডোয় অল টিনেজ ফাইনালে ছিল তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা।  ছেড়ে কথা বলেননি আসর জুড়ে বড় মাছ শিকার করা লাইলাহ ফার্নান্দেজ। কিন্তু রাদুকানুর দাপটের সামনে পেরে উঠেননি এই কানাডিয়ান।  দ্বিতীয় সেটের শেষ দিকে পা থেকে রক্ত বের হলেও খেলায় মনোযোগ হারাননি রাদুকানু। 

তাকে নিয়ে বিশ্বে উত্তেজনার ঝড় বইছে। অথচ সেসবের ধার না ধরে শুধু জীবনটাকে উপভোগ করতে চান রাদুকানু, ‘ঘরে কবে ফিরব সে ব্যাপারে ধারণা নেই। জানি না কাল আমি কি করব। আমার মনে হয় সময়ে এসেছে সব ভবিষ্যত্ ভাবনা বা পরিকল্পনা, সূচিকে বাতিল করার। আমি আসলেই জানি না কী করব। এই মুহূর্তে পৃথিবীর চিন্তা না করে শুধু জীবনটাকে ভালোবাসছি আমি।’ 

রাদুকানুর যত কীর্তি

১-             উন্মুক্ত যুগে বাছাপর্বে খেলে এসে শিরোপা জেতা প্রথম টেনিস খেলোয়াড় (নারী বা পুরুষ) হলেন রাদুকানু।  

৩-            মনিকা সেলেস (১৯৯২), মার্টিনা হিঙ্গিসের (১৯৯৭) পর তৃতীয় নারী টিনেজার হিসেবে বাছাইপর্ব বা মূলপর্বে কোনো সেট না হেরেই চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন রাদুকানু।

২১-           ইউএস ওপেন জয়ের প্রাইজমানি হিসেবে ২১ কোটিরও বেশি টাকা পেয়েছেন রাদুকানু। টুর্নামেন্টে খেলতে আসার আগে তার ক্যারিয়ার প্রাইজমানি ছিল  আড়াই কোটি টাকা।