বাফুফে এলিট ফুটবল একাডেমি
স্পোর্টস রিপোর্টার
সিলেট থেকে ঢাকার বেরাইদে বাফুফের একাডেমি ঘুরল। বাফুফের আশপাশে ফ্ল্যাট বাসা ভাড়া করে একাডেমি করতে চেয়েছিল বাফুফে, সেটিও হলো না। অবশেষে কমলাপুর স্টেডিয়ামে প্রেসবক্সের ওপরে একাডেমি ভবন করা হয়েছে। দুটি ফ্লোর নিয়ে খেলোয়াড়দের থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এখানেই প্রশিক্ষণ, এখানেই থাকা এবং খাওয়ার ব্যবস্থাও করেছে বাফুফে। ৫১ জন ফুটবলার নিয়ে ক্যাম্প শুরু হয়েছে। নাম দেওয়া হয়েছে বাফুফে এলিট ক্যাম্প।
একাডেমিতে প্রশিক্ষণ নিয়ে আসা ফুটবলাররা মুখে না বললেও নানা সমস্যায় ভুগছে। গত কয়েক দিনের গরমে ওষ্ঠাগত অবস্থা। কমলাপুর স্টেডিয়ামে এই ক্যাম্পের রুমগুলো গরমে আগুন হয়ে থাকে। সূর্য ওঠার পর হতে খেলোয়াড়দের রুমে রোদের তাপ ঢুকতে থাকে। সূর্য ডুবে যাওয়ার ছয়-সাত ঘণ্টা পরও রুমের গরম কমে না। সেই সঙ্গে পাশে রেলওয়েতে আমদানি-রপ্তানিকৃত পণ্য খালাস করতে আসা ভারী যানবাহনের শব্দ দূষণে ঘুমানো কঠিন হয়ে পড়ে। গতকাল দুপুরে খেলোয়াড়দের রুমগুলো ঘুরে দেখা যায় জানালায় পর্দা দেওয়া। রুমের ভেতরে খেলোয়াড়দের বিছানা গরম হয়ে আছে। অনুশীলন করে এখানে ঘুমানো কঠিন। এসব রুমে আগেও প্রিমিয়ার লিগ, চ্যাম্পিয়নশিপ লিগসহ নানা লিগের ক্লাবগুলো ক্যাম্প করেছে। কয়েক দিন অবস্থান করে তাদেরও ত্রাহি অবস্থা হয়। খেলোয়াড়রা দিনের বেলা গরমে কষ্ট করেছেন আর রাতে ট্রাক এবং লরির আওয়াজে ঘুমাতে পারেননি। রাতে ভারী ট্রাকের যাওয়া আসার গতিতে কেঁপে ওঠে ভবন। সেই রুমগুলোই রং করে নতুন সাজে তৈরি করা হয়েছে। টয়লেটগুলো স্বাস্থ্যসম্মত, কাপড় ধোয়ার জন্য ওয়াশিং মেশিন রাখা আছে। খেলোয়াড়দের জন্য ডাইনিং হল করা হলেও সেখানে রান্নার ব্যবস্থা নেই। হোটেলের খাবার খেতে হয়। একটি প্রাইভেট কোম্পানিকে খাবার সরবরাহ করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এই নিয়ে গতকাল উদ্বোধনের সময় খোদ ফুটবলের লোকেরাই আফসোস করছিলেন। একাডেমিতে বাবুর্চি থাকবে, খেলোয়াড়দের স্বাস্ব্য সুরক্ষায় ডায়েট্টিশিয়ানের দেওয়া তালিকা অনুসারে খাবার তৈরি করবেন বাবুর্চি। আর এখানে, ডাইনিং হলে খাবার সরবরাহকারী প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানের দুই প্রতিনিধি জানালেন, কোচ, খেলোয়াড়দের জন্য তারা বাইরে থেকে খাবার নিয়ে আসেন। বাফুফের সহসভাপতি এবং ডেভেলপমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মানিক এখানে কোনো সমস্যা খুঁজে পাননি। তিনি বলেন, ‘অন্যান্য ফ্ল্যাট বাড়ির মানুষ ঘুমায় কীভাবে ? আমার একটা অফিস ছিল চট্টগ্রামে। রুমটা ছিল রাস্তার পাশে। প্রথম দিনই বললাম এখানে আওয়াজে ঘুমায় কীভাবে। আমার একজন স্টাফ বললেন, ‘দুই দিন থাকলে অভ্যাস হয়ে যাবে।’ রুমগুলোতে এয়ারকন্ডিশনার প্রসঙ্গে বললেন, ‘এসি লাগানো হবে।’ আর খেলোয়াড়দের খাবার প্রশ্নে মানিক বললেন, ‘রান্নাঘর কমপ্লিট হয়নি। এখন খাবারের মান ভালো। আপনি একদিন আসুন খেলোয়াড়দের সঙ্গে খেয়ে দেখুন।’ তিনি বলেন, ‘আমি নিজে খেলোয়াড়দের সঙ্গে কথা বলেছি, কোনো সমস্যা নেই।’ একাডেমি উদ্বোধন করেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল।