চালক ও যাত্রীরা দুর্ভোগে
মো. আমিরুজ্জামান, সৈয়দপুর (নীলফামারী) সংবাদদাতা
সৈয়দপুর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে হেরিং বন্ডের ইট উঠে খানাখন্দ ও ছোট-বড় গর্তের কারণে পার্কিং ব্যাহত হচ্ছে। এতে চালকেরা বাস, মিনিবাস ও দূরপাল্লার কোচ টার্মিনালে পার্কিং না করে সৈয়দপুর-রংপুর মহাসড়কের ওপর করছেন। এতে মহাসড়কে নিত্যদিন যানজটসহ ভোগান্তির শিকার হচ্ছে বাসযাত্রীরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সৈয়দপুর-রংপুর মহাসড়কের নিয়ামতপুর এলাকায় ১৯৮৯ সালে চালু হয় বাস টার্মিনালটি। সেই থেকে টার্মিনালের আর কোনো উন্নয়নকাজ হয়নি। এরপর ২০০৪ সালে নীলফামারী জেলা প্রশাসন টার্মিনালের দায়িত্ব সৈয়দপুর পৌরসভার কাছে হস্তান্তর করে। তিন দশক ধরে উন্নয়ন ও সংস্কার না হওয়ায় টার্মিনালজুড়ে খানাখন্দ ও ছোট-বড় অসংখ্য গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টি হলে কাদা ও গর্তগুলোতে পানি জমে থাকে। এতে যানবাহন টার্মিনালে ঢুকলে প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হয়। ফলে দুর্ঘটনা এড়াতে বাস-মিনিবাস ও কোচগুলো টার্মিনাল ব্যবহার বন্ধ করে দিয়েছে। অথচ এই টার্মিনাল হয়ে প্রতিদিন পাঁচ শতাধিক বাস-মিনিবাস যাতায়াত করে বিভিন্ন গন্তব্যে। এদিকে বেহাল টার্মিনাল সংস্কার ও ব্যবহারযোগ্য করতে নীলফামারী জেলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির পক্ষ থেকে সৈয়দপুর পৌরসভা মেয়র বরাবর চিঠি দেওয়া হয়েছে। চিঠিতে মালিক সমিতি টার্মিনালের দুরবস্থা তুলে ধরে ব্যবহারযোগ্য করার দাবি জানিয়েছে।
নীলফামারী জেলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির সভাপতি শাহনেওয়াজ হোসেন সানু বলেন, সৈয়দপুর টার্মিনাল হয়ে প্রতিদিন আন্তঃজেলা ও দূরপাল্লার অগণিত গাড়ি চলাচল করে। এর মধ্যে সৈয়দপুরের মালিকদের গাড়ি রয়েছে দুই শতাধিক, কিন্তু টার্মিনাল ব্যবহার অযোগ্য হয়ে পড়ায় কোনো গাড়ি টার্মিনালে প্রবেশ এবং যাত্রী ওঠানামা করাতে পারছে না। এসব গাড়ি মহাসড়কের ওপর পার্কিং করায় দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন চালক ও যাত্রীরা। বছরের পর বছর টার্মিনালে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। বর্তমানে টার্মিনাল চত্বরের ইট উঠে খানাখন্দে ভরে গেছে। এতে গাড়ি পার্কিং ও ধোয়ার কাজে সমস্যা হচ্ছে।
একইভাবে মালিক সমিতির সহসভাপতি আনোয়ারুল হাফিজ জানান, টার্মিনাল থেকে মোটা অঙ্কের আয় হলেও টার্মিনালের উন্নয়নে পদক্ষেপ নেই পৌরসভার। সংস্কারের অভাবে টার্মিনালে গাড়ি পার্কিং ও যাত্রী পরিবহন করা যাচ্ছে না। তিনি আরো বলেন, সৈয়দপুর রেল ও আকাশপথে যাতায়াতের সুবিধা থাকায় সড়কপথে বহু যাত্রী আসে রেল ও বিমান ধরতে। কিন্তু টার্মিনালের বেহাল অবস্থায় লাগেজ নিয়ে নানা বিড়ম্বনায় পড়তে হয় তাদের। টার্মিনাল ভবন থাকলেও কোনো সেবা পাওয়া যাচ্ছে না। ওয়াশরুম থাকলেও তা ব্যবহারে সমস্যায় পড়তে হয়। নীলফামারী জেলা বাস-মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আলতাফ হোসেন বলেন, অসংখ্য গর্তে ভরা টার্মিনালে গাড়ির যাত্রাবিরতিতে সমস্যা হচ্ছে। বর্তমান অবস্থায় টার্মিনালে গাড়ি ঢুকলে স্প্রিং, টায়ার ও চেসিসে মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। দুর্ঘটনাও ঘটেছে অনেকবার। তাই ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে গাড়ির চালকেরা টার্মিনাল ব্যবহার বন্ধ করে দিয়েছেন। ঝামেলা পোহাতে হচ্ছে গাড়ি পার্কিং করা নিয়ে। এমন নানা সমস্যায় সৈয়দপুর বাস টার্মিনাল পরিত্যক্ত টার্মিনালে পরিণত হয়েছে।
সৈয়দপুর পৌরসভার মেয়র রাফিকা আকতার জাহান বাস টার্মিনালের দুরবস্থার কথা স্বীকার করে বলেন, বর্তমান বাস টার্মিনালকে আধুনিকায়ন করতে মিউনিসিপ্যাল গভর্নমেন্ট সাপোর্ট (এমজিএসপি) প্রকল্পভুক্ত করা হয়েছে। ইতিমধ্যে পৌর কাউন্সিলরসহ এমজিএসপি প্রকল্পের কর্মকর্তারা টার্মিনালের বর্তমান অবস্থা পরিদর্শন করেছেন। খুব শিগিগর বাস টার্মিনালের উন্নয়নকাজ শুরু হবে। তবে এই সময়ের মধ্যে টার্মিনাল ব্যবহারযোগ্য করতে খানাখন্দ ও গর্ত ভরাট করা হবে। এজন্য কাউন্সিলরদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব চলাচলের উপযোগী করা হবে টার্মিনালটিকে।