ফেরি করে পানি বিক্রি করে ওরা। এর বিনিময়ে যা উপার্জন হয়, দিন শেষে বাবা-মায়ের হাতে তুলে দেয়। দরিদ্র পরিবারের এমন চারটি শিশুকে ভাড়া দিতে না পারায় লঞ্চের ওপর থেকে নদীতে নিক্ষেপ করেছেন দায়িত্বে থাকা সুপারভাইজার। যদিও সৃষ্টিকর্তার অশেষ কৃপায় শিশুদের কিছু হয়নি। তারা সবাই এখন সুস্থ আছে। ইমাম হোসেন-৫ নামের লঞ্চে শনিবার এ ঘটনা ঘটেছে। লঞ্চটি ঢাকা-চাঁদপুর রুটে চলাচল করে। তবে পুলিশ এখনো লঞ্চটি আটক করতে পারেনি, গ্রেফতার করা যায়নি ‘অমানুষতুল্য’ সেই সুপারভাইজারকে। যদিও পুলিশ অভিযান অব্যহত রেখেছে বলে ইত্তেফাককে জানিয়েছেন নৌ-পুলিশের ইন্সপেক্টর লুত্ফর রহমান।
মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রইছ উদ্দিন ইত্তেফাককে বলেন, শনিবার বেলা ১১টার দিকে গজারিয়া থেকে মুন্সীগঞ্জের দিকে যাচ্ছিলেন তিনি। সে সময় তিনি সরকারি একটি স্পিডবোটে ছিলেন। মুন্সীগঞ্জ লঞ্চ টার্মিনাল থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে ঢাকার দিকে দুটি শিশুকে সাঁতার কাটতে দেখেন তিনি। সে সময় তারা উদ্ধারের জন্য চিত্কারও করছিল। এমন অবস্থায় তিনি স্পিডবোট নিয়ে গিয়ে তাদের উদ্ধার করেন। তবে উদ্ধারের আগে শিশু দুটি কতক্ষণ পানিতে ছিল সে বিষয়ে কিছু জানতে পারেননি।
রইছ উদ্দিন বলেন, উদ্ধারের সময় তারা সুস্থই ছিল। ঐ শিশু দুটির বয়স ১২-১৩ বছর হবে। উদ্ধার করার পর শিশু দুটি তাকে জানায়, তারা ফেরিতে পানি বিক্রি করে। তারা পরিবারের সঙ্গে ঢাকাতেই থাকে। মুন্সীগঞ্জ থেকে ঢাকায় ফেরার জন্য তারা একটি লঞ্চে ওঠে। তবে তাদের কাছে ভাড়ার জন্য কোনো টাকা না থাকায় লঞ্চের কর্মীরা তাদের লঞ্চের ছাদ থেকে পানিতে ফেলে দেয়। তিনি বলেন, শিশু দুটির এই বক্তব্যের পর পুলিশ নড়েচড়ে বসে। খোঁজ করতে শুরু করে সেই লঞ্চটির। অবশেষে লঞ্চটি শনাক্ত করা গেছে।
গজারিয়া থানার ওসি যে দুই শিশুকে উদ্ধার করেছেন, তারা পুলিশকে জানিয়েছে, তাদের যখন লঞ্চের ছাদ থেকে ফেলে দেওয়া হয়, তখন তাদের সঙ্গে আরো দুই শিশু ছিল। গজারিয়া থানার ফেসবুক পেইজে দেওয়া এক ভিডিওতে এক শিশুকে বলতে শোনা যায়, আরো দুই জন ছিল। ওদের তো এখন দেখতেছি না।
মুন্সীগঞ্জের মুক্তারপুর নৌ পুলিশের ইন্সপেক্টর লুত্ফর রহমান ইত্তেফাককে বলেন, ‘আমরা সেই দুটি শিশুকেও খুঁজে পাই। তারা নিজেরাই সাঁতরে তীরে উঠেছে। পরে আমরা চারটি শিশুকেই পরিবারের কাছে পাঠিয়ে দিই। তারা সবাই এখন ভালো আছে। ওসি রইছ উদ্দিন বলেন, ভাড়া না থাকায় কোনো যাত্রী বা শিশুকে মাঝ নদীতে ফেলে দেওয়ার ঘটনা এর আগে আর কখনো শোনেননি তিনি। ইন্সপেক্টর লুত্ফর রহমানও বলেন, তার দেখা এ ধরনের ঘটনা এটাই প্রথম। এর আগে এমন কোনো ঘটনা তিনিও শোনেননি। এ ঘটনায় নৌ পুলিশ একটি সাধারণ ডায়েরি করেছে। পাশাপাশি গজারিয়া থানায়ও পৃথক একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন ওসি রইছ উদ্দিন।