গত বছরের ২০ সেপ্টেম্বর বরিশাল মহানগরীর ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া কীর্তনখোলা নদীর পানি বিগত ৫০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ বিপত্সীমা অতিক্রম করে। কেবল কীর্তনখোলা নয়, বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য মতে, বিভাগের ছোটবড় মিলিয়ে ১৩৩টি নদ-নদীর পানি প্রায়ই বিপত্সীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গত তিন মাসে কীর্তনখোলার পানি অব্যাহতভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় বরিশাল নগরীর নিম্নাঞ্চল প্রায়ই থাকছে নিমজ্জিত। বিগত এক সপ্তাহে এ অঞ্চলে তেমন বৃষ্টিপাত না হলেও নদীর পানি বিপত্সীমা অতিক্রম করায় ২৪ ঘণ্টায় দুইবার নিমজ্জিত হচ্ছে বরিশাল নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক ও পার্শ্ববর্তী এলাকা। গতকাল রবিবার বেলা ১১টা পর্যন্ত জোয়ারের পানিতে নগরীর রাস্তাঘাট নিমজ্জিত থাকায় নগরবাসীকে পোহাতে হচ্ছে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ। বিদ্যালয়গুলো খুলে যাওয়ায় শিক্ষার্থীদের হাঁটুসমান পানি ঠেলে চলাচল করতে হচ্ছে। পানিতে নিমজ্জিত রাস্তার গর্তে পড়ে রিকশা, অটোরিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহন উলটে পড়ে লোকজন আহত হওয়ার খবরও পাওয়া গেছে। গতকাল সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নগরীর ভাটিখানা এলাকার প্রধান সড়কটি পানিতে নিমজ্জিত থাকায় একটি অটোরিকশা গর্তে পড়ে উলটে যায়। এতে অটোরিকশার যাত্রী এস এম মমতাজ মজিদুন্নেছা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের তিন ছাত্রী আহত হয়।
বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ডের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. নুরুল ইসলাম সরকার ইত্তেফাককে জানান, গত বছরের সেপ্টেম্বরে কীর্তনখোলা নদীর পানি বিপত্সীমা অতিক্রম করে প্রায় ৫০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থানে ছিল। নদীর পানি উপচে শহরে প্রবেশ করায় এবং প্রবল বৃষ্টিপাতের কারণে বরিশাল মহানগরীতে সৃষ্টি হওয়া জলাবদ্ধতা নিরসনে শহর রক্ষা বাঁধ নির্মাণের বিষয়ে ‘স্টাডি কমিটি’ গঠন করা হয়েছে। ঐ কমিটি রিপোর্ট তৈরি করছে। রিপোর্ট শেষ হলেই ডিপিপি তৈরি করে মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হবে।