তিন দিনে ১৭ হাজার কোটি টাকা তুলে নিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক

করোনায় ব্যাংকগুলো বিনিয়োগ করতে পারছে না। ফলে আমানত হিসেবে যা নিয়ে রেখেছে তা অলস পড়ে আছে। আর এর সঙ্গে প্রতি মাসেই রেমিট্যান্সের অর্থ যুক্ত হচ্ছে। এছাড়া সরকার ঘোষিত প্রণোদনার অর্থও ব্যাংকের টাকা বাড়িয়েছে। এতে ব্যাংকগুলোতে অলস টাকার পাহাড় জমে গেছে।  এমন পরিস্থিতিতে বাজার মুদ্রাবাজার স্থিতিশীল রাখতে বাণিজ্যিক ব্যাংকের কাছে থাকা অতিরিক্ত টাকা তুলে নেওয়া অব্যাহত রেখেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এরই ধারাবাহিকতায় ‘বাংলাদেশ ব্যাংক বিল’ ও ‘ট্রেজারি বিল’ নিলামের মাধ্যমে বাজার থেকে তিন দিনে ১৭ হাজার ৪৯৫ কোটি টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে।

৭, ১৪ ও ৩০ দিনমেয়াদি বাংলাদেশ ব্যাংক বিলের বার্ষিক সুদ দেওয়া হচ্ছে ১ দশমিক ০১ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ১ দশমিক ৬০ শতাংশ পর্যন্ত। ৯১ দিনমেয়াদি ট্রেজারি বিলের সুদ ১ দশমিক ৬৯ শতাংশ। ৩৬৪ দিনমেয়াদি একই বিলের সুদ ২ দশমিক ৬৯ শতাংশ। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসহ বাংলাদেশের সব নাগরিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী নিলামে বিড দাখিল করতে পারে। তবে ব্যাংকগুলোই এ নিলামে বেশি অংশ নেয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম নিলামে সাত দিনমেয়াদি বিলে ১ দশমিক ০১ শতাংশ সুদে ৩ হাজার ৬১৯ কোটি এবং ১৪ দিনমেয়াদি বিলে ১ দশমিক ৩০ শতাংশ সুদে ৩ হাজার ৯৫০ কোটি টাকা তোলা হয়েছে।

গত ৮ সেপ্টেম্বর ৯১ দিনমেয়াদি বিল বিক্রি করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজার থেকে তুলে নেয় ২ হাজার কোটি টাকা। এ অর্থের বিপরীতে সুদ হয়েছে ১ দশমিক ৬০ শতাংশ। একই দিনে এক       বছর (৩৬৪ দিন) মেয়াদি দেড় হাজার কোটি টাকার বিল বিক্রি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এক্ষেত্রে সুদহার নির্ধারণ করা হয় ২ দশমিক ৬৯ শতাংশ। এছাড়া, ৯ তারিখ ৩০ দিনমেয়াদি ৩ হাজার ৪২৫ কোটি টাকার বিল কিনেছে বিভিন্ন ব্যাংক। যার সুদহার ছিল ১ দশমিক ৬০ শতাংশ।

এদিকে, দীর্ঘ আড়াই বছর বন্ধ থাকার পর চলতি বছরের আগস্টে বাংলাদেশ ব্যাংক বিলের নিলাম ডেকে ১৯ হাজার ৬৪৬ কোটি টাকা তোলা হয়। ৭, ১৪ ও ৩০ দিনমেয়াদি বিলে পাঁচ দিনের নিলামে অংশ নিয়ে এ পরিমাণ টাকা রাখে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর মধ্যে এক দিনে সর্বোচ্চ ৬ হাজার ৭০ কোটি টাকা তোলা হয় গত ১১ আগস্ট। ঐ দিন ৩০ দিনমেয়াদি বিলে ০ দশমিক ৫৪ শতাংশ সুদে এ পরিমাণ অর্থ তোলা হয়। গত আগস্টের আগে সর্বশেষ ২০১৯ সালের ৩ জানুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংক বিলের নিলাম হয়।

বাজারে অতিরিক্ত তারল্য নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে মুদ্রাবাজারে স্থিতি বজায় রাখতে চলতি সেপ্টেম্বর মাসে আরো কয়েকটি নিলাম হবে। এর আগে, গত ১ সেপ্টেম্বর সব ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে এ সংক্রান্ত চিঠি দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে জানানো হয়েছিল, চলতি মাসের ৯ ও ২১ সেপ্টেম্বর ৭ ও ১৪ দিনমেয়াদি বিলের এবং ৭, ১৯ ও ২৩ সেপ্টেম্বর ৩০ দিনমেয়াদি বিলের নিলাম হবে।

২০১৯ সালের ৩ জানুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংক বিলের নিলাম অনুষ্ঠিত হয়। ঐ দিন একটি ব্যাংক মাত্র ০ দশমিক ০২ শতাংশ তথা দুই পয়সা সুদে সাত দিনের জন্য ১৫০ কোটি টাকা রেখেছিল। এরপর থেকে নিলাম বন্ধ ছিল। বাজারে উদ্বৃত্ত তারল্য বেড়ে যাওয়ায় গত ৯ সেপ্টেম্বর সব ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীকে চিঠি দিয়ে নিলামের বিষয়টি জানানো হয়।