পাঠকের পদচারণায় যেমন জমজমাট, তেমনি সাহিত্যিক শিল্পীদের আনাগোনাও বইমেলার সৌন্দর্য বাড়িয়ে তুলেছে। আসছে নতুন নতুন বই, সব মিলিয়ে বইমেলা এখন জমে উঠেছে।
গতকাল শনিবার দ্বিতীয় দিনের মতো মেলায় এসেছিলেন মুহম্মদ জাফর ইকবাল। তাম্রলিপির স্টলের সামনে শিশুরা ঘিরে ধরেছিল তাঁকে। বইয়ে অটোগ্রাফ না দিয়ে তার নিস্তার মেলেনি। তিনি শিশু-কিশোরদের ভালো বই পড়ার আহ্বান জানিয়ে বললেন, ‘বইমেলাতে আসতেই আমি সবচেয়ে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। শিশু-কিশোরদের মধ্যে সময় কাটাতেই সবচেয়ে বেশি ভালো লাগে আমার।’
অন্যপ্রকাশের প্যাভিলিয়নে দাঁড়িয়ে বইয়ে অটোগ্রাফ দিচ্ছিলেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আসাদুজ্জামান নূর। বললেন, মেলা বেশ জমে উঠেছে। মেলার বিন্যাসও সুন্দর, খোলামেলা। ভালো লাগছে। সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, দেশে নানা দিক থেকে স্থিতিশীল পরিবেশ বিরাজ করছে। যে কারণে মেলায় মানুষের আরও বেশি স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ দেখা যাচ্ছে।
কথাসাহিত্যিক আনিসুল হকের ইতিহাসনির্ভর সিরিজ গ্রন্থের চতুর্থ খন্ড ‘এই পথে আলো জ্বেলে’ প্রকাশিত হয়েছে। প্রথমা স্টলের সামনে একনাগাড়ে অটোগ্রাফ দিচ্ছেন বইতে। আনিসুল হক বললেন, ‘ইতিহাস নির্ভর বই। কিন্তু এটাকে পড়তে হবে উপন্যাস হিসেবে। বিশেষ করে, নতুন প্রজন্মের পাঠকদের এই গ্রন্থ সিরিজটি পড়ার অনুরোধ জানাই।’
বইমেলায় এসেছিলেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ইয়াফেস ওসমান। তিনি বাংলা ভাষায় অনূদিত পরমাণু শক্তি বিষয়ক তিনটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেন।
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ‘লেখক বলছি’ মঞ্চে নিজেদের সাহিত্যকর্ম নিয়ে আলাপ করেন কবি মাহবুব সাদিক (নির্বাচিত কবিতা), কবি-কথাসাহিত্যিক মাহবুব আজিজ (এইসব কলহাস্য), কবি মারুফ রায়হান (হাওয়ানগরের পারুল ফুল), কথাসাহিত্যিক পাপড়ি রহমান (নদীধারা আবাসিক) এবং কবি ও প্রাবন্ধিক কুমার চক্রবর্তী (কবিতা সংগ্রহ)।
নতুন বই:গতকাল মেলায় নতুন ২১৮টি বই এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে - ফরিদুর রেজা সাগরের ‘এবারো হাফ ডজন ছোটকাকু’ ও গোলাম কুদ্দুছের ‘ ভাষা আন্দোলন সহজ পাঠ’ (অন্যপ্রকাশ), তারেক শামসুর রেহমানের ‘দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার রাজনীতি’ (শোভাপ্রকাশ), মশিউল আলমের ‘বাংলা দেশ ও অন্যান্য গল্প’ (মাওলা ব্রাদার্স), ওবায়দুল কাদেরের ‘বঙ্গবন্ধু, মুক্তিযুদ্ধ ও অন্যান্য’ (অন্বেষা), শহীদুল্লাহ কায়সারের ‘সংশপ্তক’ অবলম্বনে নাজমা জেসমিন চৌধুরীর ‘কিশোর সংশপ্তক’ (জয়তী), জাকির তালুকদারের ‘গল্পের জার্নাল’ ও সৈয়দ শামসুল হকের ‘কানার হাটবাজার ও অন্যান্য’ (ঐতিহ্য)।
গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় ‘আবদুল হক : জন্মশতবর্ষ শ্রদ্ধাঞ্জলি’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সৈয়দ আজিজুল হক। আলোচনায় অংশ নেন সাংবাদিক অজয় দাশগুপ্ত, কবি-সাংবাদিক সোহরাব হাসান এবং প্রাবন্ধিক আহমাদ মাযহার। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সুব্রত বড়ুয়া। সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক পর্বে কবিকণ্ঠে কবিতাপাঠ করেন কবি আতাহার খান এবং ফরিদ কবির। আবৃত্তি পরিবেশন করেন বেলায়েত হোসেন এবং অনন্যা লাবণী পুতুল। এছাড়া ছিল গোলাম কুদ্দুছের পরিচালনায় বহ্নিশিখা এবং খাজা সালাহ উদ্দিনের পরিচালনায় নৃত্যসংগঠন ঘুংঘুর সাংস্কৃতিক একাডেমির পরিবেশনা।
আরও পড়ুন: ইলিশের করিডোর তৈরি করছে ভারত
‘বাংলাদেশের শতবর্ষী নাট্যমঞ্চ’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন: বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি প্রকাশিত ‘বাংলাদেশের শতবর্ষী নাট্যমঞ্চ’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন হয়েছে। গতকাল বইমেলায় বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশন আয়োজিত মাসব্যাপী নাট্য উত্সবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে লিয়াকত আলী লাকী রচিত গ্রন্থটির মোড়ক উন্মোচন করা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন গ্রন্থের লেখক লিয়াকত আলী লাকী, নাট্যজন আতাউর রহমান, নাসির উদ্দিন ইউসুফ, লাকী ইনাম, গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের সেক্রেটারি জেনারেল কামাল বায়েজিদ প্রমুখ।
ইত্তেফাক/আরকেজি