বিনোদন পার্কে দর্শনার্থীদের ভিড়

 মো. আমিরুজ্জামান

 

করোনায় দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর দেশজুড়ে  বিনোদন পার্ক, রিসোর্ট ও পর্যটন কেন্দ্র খুলে দেওয়া হয়েছে। সৈয়দপুরের ৩টি বিনোদন পার্ক খুলে দেওয়ায়ও দর্শনার্থীদের ভিড় বেড়েছে। সরকারের পূর্ব-ঘোষণা অনুযায়ী সম্প্রতি এসব পার্ক দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দেন মালিক পক্ষ। এতে করে দর্শনার্থীদের চাপ বেড়েছে। তবে এ ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য বলা হয়েছে।

বৈশ্বিক মহামারি করোনাকালে দীর্ঘদিন বন্ধ  রাখা হয় সৈয়দপুরের থিম পার্ক, রংধনু ও পাতাকুঁড়ি পার্ক। ফলে বিভিন্ন রাইডস ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। অর্থসংকটে পড়ে পার্ক কর্তৃপক্ষ কিছু শ্রমিকও ছাঁটাই করেন। অবশেষে একপর্যায়ে সরকার বিনোদন পার্ক খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। 

স্থানীয় পার্কগুলোর গাছপালা, ফুলের বাগান, দর্শনার্থীদের চলাচলের রাস্তা, বিভিন্ন রাইডস মেরামত করে এরই মধ্যে ব্যবহার উপযোগী করে তুলেছেন। দীর্ঘদিন বিনোদন পার্কগুলো  বন্ধ থাকায় ক্ষতির মুখে পড়েছেন পার্কের মালিকরা। এতে মোটা অঙ্কের আর্থিক ক্ষতিতে বিনোদন পার্কের মালিকরা পুঁজি হারিয়ে হতাশায় ভুগছেন।

সরকারের সিদ্ধান্তে গত ১৯ আগস্ট থেকে বিনোদন কেন্দ্রগুলো খুলে দেওয়া হয়েছে। এমতাবস্থায় ব্যস্ত হয়ে উঠেছে বিনোদন কেন্দ্রের মালিক-কর্মচারীরা। দীর্ঘদিন বন্ধ  থাকার পর সৈয়দপুরের বিনোদন পার্কগুলো খুলে যাওয়ায় দর্শনার্থীদের ভিড় বেড়েছে। দর্শনার্থীরা ছুটছেন বন্ধু-বান্ধব ও পরিবার-পরিজন নিয়ে। তবে অনেকের মুখেই মাস্ক  নেই। অনেক ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধিও মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন দর্শনার্থী তৈয়বুর রহমান।

সৈয়দপুর থিম পার্কের ম্যানেজিং ডিরেক্টর আবু বাশার মো. সাঈদ জানান, ইতিমধ্যে প্যাডেল ও ইলেকট্রনিক্স বোট, ব্যালেরিনা, স্লাইডার, পাইরেট শিপ, জ্যাম্পকিং ক্যাসেল, কিডস রাইডস, রেসিং কার, কিডস ট্রেন রাইডসের ৩০ শতাংশ বিকল হয়ে গিয়েছিল। যা মেরামত করতে প্রায় ৩০ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। সরকারের আর্থিক সহায়তা না পেলে আমাদের সমস্যায় পড়তে হবে। এসময় তিনি সরকারের নির্দেশনা যথাযথভাবে পালন করে পার্কে দর্শনার্থী প্রবেশ করার বিষয়টি নিশ্চিত করবেন বলে জানান।

নীলফামারী জেলা প্রশাসক মো. হাফিজুর রহমান চৌধুরী জানান, লকডাউনের জন্য সরকার কঠোর বিধিনিষেধ জারি করায় বন্ধ  ছিল এসব বিনোদন কেন্দ্র। ইতিমধ্যে সরকার বিনোদন পার্ক খোলার নির্দেশনা জারি করায় খুলে দেওয়া হয়েছে। বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি যেন উপেক্ষিত না হয় সেজন্য প্রতিনিয়ত মনিটরিং করা হবে।

লেখক সৈয়দপুর, নীলফামারী প্রতিনিধি