সাত কিলোমিটারের জন্য ২৬ কিলোমিটার অকার্যকর

২৬ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের বিশ্বনাথ-জগন্নাথপুর আঞ্চলিক সড়কটির বিশ্বনাথ অংশের ৭ কিলোমিটারের নানা স্থানে গর্ত থাকায় পুরো সড়কটিই এখন অকার্যকর। অনেকটাই চলাচল অনুপোযোগী। এ পথে যারা একবার গেছেন তারা আর  দ্বিতীয়বার নাম মুখেও নিতে চান না। কিন্তু নিয়মিত চলাচলকারী কয়েক লাখ মানুষ নিরুপায়। অন্তহীন দুর্ভোগ যেন তাদের ললাটে। বিশ্বনাথ অংশে সড়কটি ভেঙে বড় বড় গর্ত এমনভাবে সৃষ্টি হয়েছে দেখলে মনে হয় যেন পুকুর খনন করা হয়েছে। উপজেলার বাগিচাবাজার থেকে জগন্নাথপুর উপজেলা পর্যন্ত ৭ কিলোমিটার সড়কই বিধ্বস্ত। গর্তগুলোর গভীরতা রূপ নিয়েছে ছোট্ট নদীর মতো। স্থানীয়রা জানান, এই ৭ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে ১৫ মিনিট লাগার কথা কিন্তু সময় লাগে প্রায় এক ঘণ্টা। সড়কের গর্তে প্রতিদিন সিএনজি অটোরিকশা ও ট্রাক আটকা পড়ে। বৃষ্টি হলে সড়কটি বন্ধ হয়ে যায়। সড়কটি দ্রুত সংস্কারের দাবিতে গণ-অবস্থানসহ নানা কর্মসূচিও পালিত হয়।

এলজিইডি সূত্র জানায়, ২৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এ সড়কের সংস্কারে বরাদ্দ দেওয়া হয় ৪৮ কোটি ৫৫ লাখ ৬১ হাজার টাকা। এর মধ্যে জগন্নাথপুর অংশের ১৩ কিলোমিটারের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয় ২৫ কোটি ৮ লাখ ৩৬ হাজার টাকা। বিশ্বনাথ অংশের ১৩ কিলোমিটারের জন্য ২৩ কোটি ৪৭ লাখ ২৫ হাজার ৬৭১ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে এলজিইডি। প্রতি কিলোমিটার সড়ক সংস্কারের জন্য দেওয়া হয়েছে ১ কোটি ৮৬ লাখ ৭৫ হাজার টাকারও বেশি।

২০১৯ সালের ১৭ ডিসেম্বর বিশ্বনাথ উপজেলা অংশের ১৩ কিলোমিটার সড়ক সংস্কারের কার্যাদেশ দেওয়া হয় ঢাকার শাওন এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে। গত জুন মাসে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও এলজিইডির দেওয়া নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সড়কটির সংস্কারকাজ সমাপ্ত করতে পারেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি। প্রকল্পের মেয়াদ বাড়িয়ে আবারও কাজ শুরুর চেষ্টা করছে এলজিইডি। এলজিইডির বিশ্বনাথ উপজেলা প্রকৌশলী মো. আবু সাঈদ জানান, দু-একদিনের মধ্যে কাজ শুরু হবে, শেষ করতে কয়েক মাস লেগে যাবে।

অন্যদিকে সড়কের জগন্নাথপুর উপজেলা অংশের মিরপুর বাজারের পশ্চিমের ছোট ব্রিজ, ইসহাকপুর ব্রিজের অ্যাপ্রোচ ও  ইসহাকপুর হাইস্কুলের সামনে রাস্তা দেবে গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নিম্নমানের কাজের ফলে এগুলো দেবে গেছে। তাছাড়া তাড়াহুড়ো করে কার্পেটিং করায় এখন একাধিক জায়গার কার্পেটিংও উঠে যাচ্ছে। জগন্নাথপুর উপজেলা প্রকৌশলী গোলাম সারোয়ার বলেন, কাজ মানসম্মত হয়েছে। তবে যেসব জায়গায় নতুন মাটি ফেলা হয়েছিল, শুধু ঐ জায়গার মাটি দেবে গেছে।

এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ইনামুল কবীর বলেন, বর্ষার জন্য সড়কটির সংস্কার করা যাচ্ছে না। জুন মাসে প্রকল্পের মেয়াদও শেষ হয়ে গেছে। প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধির জন্য আবেদন করা হয়েছে। শিগিগরই অনুমোদন হয়ে যাবে। এ মাসেই কাজ শুরু হবে।