চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরের বাইরে জাহাজের শৃঙ্খলা ফেরানোর উদ্যোগ

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ বহির্নোঙরের বাইরে অপেক্ষমাণ জাহাজের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে বেসরকারি পর্যায়ে পাইলট নিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে। বন্দরের সমুদ্রসীমা কুতুবদিয়া থেকে বহির্নোঙর পর্যন্ত আসা জাহাজের দুর্ঘটনা রোধে দেশীয় পাইলট নিয়োগ করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

চট্টগ্রাম বন্দরের সমুদ্রসীমা আগের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ হওয়ায় এবং চট্টগ্রাম বন্দর অভিমুখী জাহাজ বাড়ায় প্রায়ই নতুন জাহাজগুলো দুর্ঘটনায় পড়ে। এছাড়া বহির্নোঙরে অপেক্ষমাণ জাহাজের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে জাহাজগুলো দুর্ঘটনায় পড়ে বলে বন্দরের মেরিন বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান।

চট্টগ্রাম বন্দরের সমুদ্রসীমা বৃদ্ধির বহু পূর্ব থেকে বে-পাইলট কার্যক্রম চলে আসছে। সে ক্ষেত্রে সাধারণত উক্ত রুটে আসা কোনো নতুন বড় জাহাজ বা নতুন পাইলটের সহায়তায় জাহাজের মূল মালিক বা এমএলওর চাহিদা মোতাবেক বন্দরের বহির্নোঙরের বাইরে থেকে স্থানীয় পাইলট বহির্নোঙরে নিয়ে আসে। এরপর বন্দরের নিজস্ব পাইলট কর্তৃক ঐ জাহাজ বন্দরের জেটিতে নিয়ে আসে।

বাংলাদেশে শিপিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক শফিকুল আলম জুয়েল বলেন, বে-পাইলটিং যেন সব জাহাজের জন্য মেন্ডেটরি করা না হয়। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ সম্প্রতি পাইলটিংয়ের জন্য একটি কমিটি গঠন করেছে। কমিটি ইতিমধ্যে পাইলট নিয়োগের ক্ষেত্রে একাধিক বৈঠক করেছে। জানা যায়, বর্তমানে প্রতিদিন সমুদ্রসীমা থেকে বহির্নোঙর পর্যন্ত ১৫/২০টি জাহাজের পাইলট নিয়োগের প্রয়োজন রয়েছে। বন্দর কর্তৃপক্ষের পর্যাপ্তসংখ্যক পাইলট না থাকায় ঐ সব পাইলট আউট সোর্সিং, কিংবা বেসরকারি কোম্পানি থেকে নেওয়ার কথা চিন্তা হচ্ছে বলে জানা যায়।

বন্দরের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সূত্রে জানা যায়, যে পর্যায় থেকে পাইলট নিয়োগ করা হোক না কেন বন্দর কর্তৃপক্ষ তাদের প্রশিক্ষণ দেবে। বন্দর থেকে লাইসেন্সপ্রাপ্ত পাইলটরাই শুধু পাইলটিংয়ের কাজ করতে পারবে। তাছাড়া চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষও নতুন পাইলট নিয়োগ দিচ্ছে।

সূত্রে জানা যায়, বেসরকারি পর্যায়ে পাইলট বা প্রতিষ্ঠানকে নিয়োগের ক্ষেত্রে টেন্ডার আহ্বানের বিষয় বিবেচনা করা হচ্ছে। যাতে করে পাইলট নিয়োগে বেশিসংখ্যক প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করতে পারে। তবে বেসরকারি পর্যায়ে পাইলট নিয়োগের টেন্ডার আহ্বানের ক্ষেত্রে বন্দরের অর্ডিন্যান্স ১৯৭৬-এ কিছুটা সমস্যা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান। সেক্ষেত্রে নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় কর্তৃক তা নিরসন করা সম্ভব। আবার টেন্ডার আহ্বানের বিষয়ে গঠিত কমিটির পক্ষ থেকে সরকারের কেন্দ্রীয় ক্রয় কর্তৃপক্ষ (সিপিটিইউ) এর মতামত গ্রহণের বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে বলে জানা যায়।

চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল মো. শাহজাহান ইত্তেফাককে জানান, বন্দরের সমুদ্রসীমার মধ্যে জাহাজসমূহকে পাইলটিং সুবিধা দেওয়া বন্দরের দায়িত্ব। শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার জন্য এটা প্রয়োজন। সেটা কোন উপায়ে দেওয়া হবে তা গঠিত কমিটির রিপোর্টের আলোকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।