‘দেবদাস’ উপন্যাসের রচয়িতা। দেবদাস উপন্যাসটি নিয়ে ১৯টি চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে। তাঁর সাহিত্যকর্মকে ঘিরে এ পর্যন্ত বিভিন্ন ভাষায় তৈরি হয়েছে প্রায় পঞ্চাশটি চলচ্চিত্র।
তিনি সাহিত্যসাধনার অনুপ্রেরণা পান শৈশবকালে, পিতার কাছ থেকে। তাঁর বাল্যকাল ও পাঠ্যজীবনের প্রথমাংশ কাটে গ্রামে। তারপর বিহারের ভাগলপুরের মামাবাড়িতে সপরিবারে চলে আসেন তাঁরা। শেষ পর্যন্ত অর্থের অভাবে এফএ পরীক্ষা দিতে না পারায় তাঁর পাঠ্যজীবনের সমাপ্তি ঘটে। তিনি আশৈশব ভবঘুরে। যৌবনে জীবিকার তাগিদে বহুদিন রেঙ্গুনে গিয়েছিন। পরবর্তী সময়ে থাকেন কখনো হাওড়ায়, পাণিত্রাসে বা কলকাতায়। হাওড়ার বাজে শিবপুরে থাকাকালে ১৯২১ খ্রিষ্টাব্দে অসহযোগ আন্দোলন শুরু হলে শরত্চন্দ্র দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশের আহ্বানে কংগ্রেসে যোগ দেন। হাওড়ায় থাকতেন বলে তাঁকে হাওড়া জেলা কংগ্রেসের সভাপতি করা হয়। শরত্চন্দ্র ভারতের মুক্তি আন্দোলনের সশস্ত্র সংগ্রামী বা সন্ত্রাসবাদী বিপ্লবীদের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখতেন। তাঁর ‘পথের দাবী’ উপন্যাসটি তত্কালীন বিপ্লবীদের সমর্থনের অভিযোগে ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করেছিল।
শরত্চন্দ্র তাঁর উপন্যাসগুলিতে তত্কালীন বঙ্গসমাজের নিষ্ঠুরতার চিত্র কঠোরভাবে তুলে ধরেছেন। সমাজের কুসংস্কার, অন্যায়-অবিচার, জাতিভেদ প্রথার বিরুদ্ধে তাঁর লেখা ছিল সবসময় প্রতিবাদী। সমাজের অবহেলিত মানুষ ও নারীজাতির অসহায়তার দুঃখ-দুর্গতি ও নানা সমস্যার বাস্তব ছবি পরম মমতা দিয়ে তিনি ফুটিয়ে তুলেছেন। তাঁর প্রথম উপন্যাস বড়দিদি ভারতী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। শ্রীকান্ত, চরিত্রহীন, গৃহদাহ, দেনাপাওনা, বামুনের মেয়ে, দত্তা, বিন্দুর ছেলে, পরিণীতা, বৈকুণ্ঠের উইল, পল্লীসমাজ, শেষ প্রশ্ন ইত্যাদি গল্প-উপন্যাস এবং নারীর মূল্য, স্বদেশ ও সাহিত্য প্রবন্ধগ্রন্থ রচনা করেন। কিরণময়ী, সাবিত্রী, রাজলক্ষ্মী, ষোড়শী, চন্দ্রমুখী প্রমুখ নারীচরিত্র নিজ মহিমায় উজ্জ্বল। বিধবাদের প্রতি ছিল তাঁর সমবেদনা।
কথার ফুল জড়ানো এমন একজন অমর কথাসাহিত্যিক শরত্চন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের জন্মদিবস আজ।
শ্রীধর দত্ত