শামসুজ্জামান ডলার, মতলব উত্তর (চাঁদপুর) সংবাদদাতা
১৯৮৮ সালে নির্মাণকাজ সম্পন্ন হওয়া পর আর খননের আওতায় আসেনি চাঁদপুরের মতলবের মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্পে ছোট-বড় ৫৬১ কিলোমিটার খাল। সেচ প্রকল্পের নবুরকান্দি পানি নিষ্কাশন খালে কচুরিপানার স্তূপ জমে ব্যাহত হচ্ছে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ। ফলে খালগুলোর গভীরতা কমে যাওয়া ও দখল হওয়ায় সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা। এতে অন্তত ১০ হাজার হেক্টর ফসলি জমি পানির নিচে থাকায় মারাত্মক ক্ষতির মুখে সেচ প্রকল্পের কৃষকরা।
তারা জানায়, উপজেলার ৬৪ কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও সেচ প্রকল্পের অভ্যন্তরীণ ১৭ হাজার ৫৮৪ হেক্টর জমিকে জলাবদ্ধতার হাত থেকে রক্ষার পাশাপাশি ১৩ হাজার ৬০২ হেক্টর জমিতে সেচের মাধ্যমে খাদ্য উত্পাদনের উদ্দেশ্যে প্রকল্পটি নির্মাণ করা হলেও এখনো সেই জলাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতে পারেনি সেচ প্রকল্পবাসী।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যমতে, বোরো মৌসুমে ৭ হাজার হেক্টর কৃষি জমির মধ্যে ৫ হাজার ৬১৯ দশমিক ৭৪ হেক্টর জমিতে গ্র্যাভেটি সিস্টেমের মাধ্যমে পানি সেচ প্রদান করা হয়। বাকি ৮৮৬ দশমিক ৮৬ হেক্টর জমিতে স্যালো টিউবয়েলের মাধ্যমে কৃষক নিজেরা উত্তোলন করে এবং ৪৯৩ দশমিক ৪০ হেক্টর জমিতে নিষ্কাশন খাল থেকে লো-লিফট পাম্পের মাধ্যমে সেচ প্রদান করা হচ্ছে। সেচ প্রকল্পের উদামদী, কালিপুর, এখলাসপুর, ডুবগীসহ মোট চারটি পাম্প হাউজে মোট ৪৪২ দশমিক ১৯ কিউবিক মিটার পার সেকেন্ড পানি বের কিংবা প্রবেশ করানোর সক্ষমতা খাতা কলমে থাকলেও কার্যত তা বাস্তবতার ছোঁয়া পায়নি।
এ বিষয়ে মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বলেন, অবৈধভাবে ভরাট হওয়া খালগুলো খনন ও দখলমুক্ত করতে তারা পরিকল্পনা গ্রহণ করছেন। তিনি বলেন, কালিপুর ও উদামদি এই দুটি পাম্প হাউজের ৮টি মেশিন একত্রে মাত্র ৩০ কিউসেক মিটার পানি সেচ করতে সক্ষম। কিন্তু নিষ্কাশন খাল, সেচ খাল, প্রধান খাল, টারশিয়ারী খাল ও সেকেন্ডারি খালসমূহের ৫৬১ কিলোমিটারের মধ্যে বিভিন্ন জায়গা অবৈধভাবে ভরাট হওয়ায় বর্ষা মৌসুমে পানি সরিয়ে নিতে যেমন বাঁধার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তেমনি বোরো মৌসুমে কৃষকের জমিতে পানি পৌঁছে দিতেও সক্ষমতা হারিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
সেচ প্রকল্পের পানি ব্যবস্থাপনা ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক সরকার মো. আলাউদ্দিন জানান, ৩০টি পানি ব্যবস্থাপনা দল, ছয়টি অ্যাসোসিয়েশন ও একটি ফেডারেশনের মাধ্যমে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে লজিষ্টিক সাপোর্ট দেওয়া হচ্ছে। অতি দ্রুত খালগুলো খনন ও অবৈধ দখল মুক্ত করে অধিক ফসলের নিশ্চয়তা দিতে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে অনুরোধ জানান তিনি।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গাজী শরিফুল হাসান জানান, সেচ প্রকল্পের খাল খননের বিষয়গুলো ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সেচ প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলীকে লিখিতভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জানানো হয়েছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সালাউদ্দিন জানান, জলাবদ্ধতার ফলে আউশ ধানের উত্পাদন মাত্র ২ হাজার হেক্টর জমিতে নেমে এসেছে। এছাড়াও বোরো উত্পাদনে জমির পরিমাণ নেমে এসেছে ৯ হাজার হেক্টরে।