পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ভূখণ্ডের মোট আয়তনের ২৫ শতাংশ বনভূমি থাকা অপরিহার্য। কিন্তু রয়েছে মাত্র ৭-৮ শতাংশ, যা চরম হতাশাজনক। মানুষের বসবাস, নির্মাণসামগ্রী তৈরি, মিল-ফ্যাক্টরির কাঁচামালের জোগান ইত্যাদি কারণে কেটে ফেলা হচ্ছে বনভূমি এবং পাহাড়। যার বিরূপ প্রভাব পড়ছে আবহাওয়ার ওপর। ঋতুর কোনো সুনির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য এখন নেই। গরমের সময় অতিরিক্ত গরম, শীতের সময় শীত থাকে না। বর্ষাকালে বৃষ্টি না হওয়া। ঢাকার বাতাসে প্রচুর পরিমাণে বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থ ঘুরে বেড়ায়। যার মধ্যে অন্যতম সালফার ডাই অক্সাইড, কার্বন মনোক্সাইড—যেগুলো আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য খুবই বিপজ্জনক।
আবহাওয়া চরমে যাওয়ার অন্যতম কারণ অপরিকল্পিত ইটভাটা, অতিরিক্ত যানবাহন, এলোমেলো রাস্তাঘাট নির্মাণ, পৌরসভার বর্জ্য পোড়ানো, অতিরিক্ত পলিথিন ব্যবহারসহ নানাবিধ কারণ। তবে এতকিছু থেকে কিছুটা হলেও নিস্তার পাওয়া যাবে যদি ছাদকৃষির দিকে লক্ষ রাখা যায়। যদিও এই কৃষির দিকে সবার নজর কাড়ছে, তবুও তেমন পদক্ষেপ নেই। অধিকাংশ ছাদেই গাছ চোখে পড়ে না এখন পর্যন্ত। ঢাকাতে লাখ লাখ বিল্ডিংয়ের ছাদে গাছপালা লাগানো হলে যেমন আর্থিকভাবে লাভবান হওয়া সম্ভব, ঠিক তেমনি পরিবেশ তথা আবহাওয়া সুন্দর হওয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। সেক্ষেত্রে বাড়ির মালিক, ঢাকা সিটি করপোরেশনসহ বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থা এই মহতি উদ্যোগ নিয়ে পরিবেশকে সুরক্ষা দিতে পারে। এতে ফিরে আসবে ঢাকার চিরচেনা রূপ। পরিবেশ ফিরে পাবে সৌন্দর্য।
মো. সায়েদ আফ্রিদী
শিক্ষার্থী, ঢাকা কলেজ