সাত চিকিত্সকসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে দুদকের চার্জশিট অনুমোদন

আজিমপুরের মাতৃসদন ও শিশুস্বাস্থ্য প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের যন্ত্রপাতি ক্রয়ের দুর্নীতির মামলায় ৭ চিকিত্সকসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল মঙ্গলবার কমিশনের নিয়মিত সভায় এ চার্জশিট অনুমোদন দেওয়া হয়। খুব শিগগিরই বিচারিক আদালতে এ চার্জশিট দাখিল করা হবে বলে জানিয়েছেন দুদক সচিব আনোয়ার হোসেন হাওলাদার। উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ১৫ ডিসেম্বর পৃথক চারটি মামলা করে দুদক। মামলার পরপরই আসামিদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। মামলায় ১৭ জন চিকিত্সক এবং সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দফতরের আট জনকে আসামি করা হয়। আজিমপুর মাতৃসদন ও শিশুস্বাস্থ্য প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের সাবেক তত্ত্বাবধায়ক ইসরাত জাহানকে চারটি মামলাতেই আসামি করা হয়। গতকাল ওই চার মামলার মধ্যে সোয়া কোটি টাকার দুর্নীতির মামলার এ চার্জশিট অনুমোদন দিলো কমিশন।

দুদকের অনুমোদিত চার্জশিটভুক্ত আজিমপুর মাতৃসদন হাসপাতালের আসামিরা হলেন, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক ডা. ইসরাত জাহান, পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকার সাবেক অধ্যক্ষ ডা. পারভীন হক চৌধুরী, সাবেক  জুনিয়র কনসালটেন্ট ডা. মাহফুজা খাতুন, সাবেক সহকারী কো-অর্ডিনেটর ডা. চিন্ময় কান্তি দাস, জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সাবেক মেডিকেল অফিসার ডা. সাইফুল ইসলাম, মেডিকেল অফিসার (শিশু) ডা. বেগম মাহফুজা, দিলারা আকতার ও ডা. নাজরীনা বেগম এবং সাবেক প্রশাসনিক কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম। এছাড়া চার্জশিটভুক্ত তিন ঠিকাদার হলেন, মনার্ক এস্টাবলিশমেন্টের মালিক মো. ফাতে নূর ইসলাম, নাফিসা বিজনেস কর্নারের স্বত্বাধিকারী শেখ ইদ্রিস উদ্দিন (চঞ্চল) এবং সান্তনা ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী নিজামুর রহমান চৌধুরী।

কমিশন অনুমোদিত অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার করে দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে ২০১৪-১৫ অর্থবছরে মেডিসিন অ্যান্ড ইকুইপমেন্ট টেন্ডারের মাধ্যমে ক্রয়ের ক্ষেত্রে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা লঙ্ঘন করেছেন। এছাড়া বর্তমান বাজারদর আমলে না নিয়ে গঠিত বাজার কমিটির মনগড়া ও ভিত্তিহীন দরকে বিবেচনায় নিয়ে এমআরপি ওয়েবসাইটের উত্তরপত্র মূল্যায়নের মাধ্যমে মালামাল ক্রয় করেছেন। এর মাধ্যমে তারা মোট ১ কোটি ২৮ লাখ ৬৩ হাজার ২৪১ টাকা আত্মসাত করেছেন। যা দন্ডবিধি ৪০৯, ৪২০, ১০৯ ধারা তত্সহ ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ।