রাজশাহীতে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপে সংঘর্ষ

আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে দলীয় মনোনয়নকে কেন্দ্র করে রাজশাহীর দুর্গাপুরে হামলা, সংঘর্ষ ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। পৃথক এসব ঘটনায় দলীয় মনোনয়নপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা নজরুল ইসলামের সহোদরসহ তিন সমর্থক আহত হয়েছেন। আহতদের দুর্গাপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শনিবার কেন্দ্রীয় কার্যালয় হতে দুর্গাপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে বর্তমান চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা নজরুল ইসলামের নাম ঘোষণা করা হয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন মনোনয়ন বঞ্চিত জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সহসভাপতি ও দুর্গাপুর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ সরদারের সমর্থকরা।

আরো পড়ুন: মনোনয়ন না পেয়ে নিজের ফাঁসি চাইলেন আওয়ামী লীগ নেত্রী

শনিবার বিকেলের দিকে মনোনয়ন বঞ্চিত আব্দুল মজিদ সরদারের সমর্থকরা বীর মুক্তিযোদ্ধা নজরুল ইসলামের মনোনয়ন বাতিলে দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। পরে মজিদের বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা সিংগা বাজারের জিয়া চত্বরে রাস্তা অবরোধ করে রাখেন। এ সময় উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি অধ্যাপক শামসুল ইসলাম কলেজ থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। পথিমধ্যে মজিদ সরদারের নেতাকর্মীরা তার মোটরসাইকেল ভাঙচুর করেন।

এদিকে বিকেল সোয়া ৫টার দিকে দুর্গাপুর উপজেলার চেয়ারম্যান পদে বীর মুক্তিযোদ্ধা নজরুল ইসলামের সমর্থকরা উপজেলা চত্বরে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে স্বাগত জানিয়ে মিছিল বের করেন। মিছিলটি সিংগা বাজারের মাছ হাটায় পৌঁছালে মনোনয়ন বঞ্চিত সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ সরদারের সমর্থক নেতাকর্মীরা তাদের ধাওয়া করেন। পরে মুক্তিযোদ্ধা নজরুলের সমর্থকরা তাদের প্রতিরোধ করার চেষ্টা করলে উভয়পক্ষে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

এসময় মজিদ সরদারের নেতাকর্মীরা জেলা ছাত্রলীগের সদস্য মাসুদ রানা (২৮), আওয়ামী লীগ কর্মী আবুল কালাম (৪২) ও পথচারী ইউসুফ আলীকে (৪০) পিটিয়ে জখম করেন। তাদের দুর্গাপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। অন্যদিকে হামলা পর উপজেলা মোড় ও সিংগা বাজারে বিপুল আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী লাঠিসোটা নিয়ে অবস্থান নেয়।

দুর্গাপুর থানার ওসি আব্দুল মোতালেব বলেন, দুই গ্রুপে টান টান উত্তেজনা থাকলেও পুলিশের তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণের কারণে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। দুর্গাপুর সদর বাজারে বিভিন্ন মোড়ে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। কোনো ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে দেওয়া হবে না বলেও জানান ওসি। 

ইত্তেফাক/জেডএইচ