পানি শোধনাগার প্রকল্পের জন্য বিকল্প পানির উত্স খুঁজছে চট্টগ্রাম ওয়াসা

মিরসরাই ইকনোমিক জোনে পানি সরবরাহে পানি শোধনাগার প্রকল্পের পানির উত্স নিয়ে সমস্যায় পড়েছে চট্টগ্রাম ওয়াসা। হালদা নদী থেকে প্রকল্পের জন্য আর পানি নেওয়া যাচ্ছে না। কারখানার বর্জ্য মিশে কর্ণফুলী নদীর পানি মারাত্মকভাবে দূষিত হয়ে পড়েছে। আবার কর্ণফুলীর পানিতে অতিমাত্রায় লবণাক্ততাও রয়েছে। ফলে ওয়াসা তাদের প্রস্তাবিত পানি শোধনাগার প্রকল্পের জন্য পানির বিকল্প উত্স খুঁজছে। পানির উত্স সমস্যায় ওয়াসার নতুন পানি শোধনাগার প্রকল্প গ্রহণ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

ওয়াসার প্রকল্পের জন্য পানির উত্স বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। চট্টগ্রামে শিল্প-কারখানা ও আবাসিক খাতে বিশুদ্ধ পানির চাহিদা মেটাতে নতুন করে প্রকল্প গ্রহণ করতে হচ্ছে। নগরীতে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর অস্বাভাবিক ভাবে নিচে নেমে গেছে। সুপেয় পানি পেতে দেড় হাজার ফুটেরও বেশি গভীরে যেতে হচ্ছে। ফলে চট্টগ্রামে বিশুদ্ধ পানির চাহিদা মেটাতে নদীর পানিকে উত্স হিসেবে নিতে হচ্ছে। এতদিন হালদা নদী ছিল ওয়াসার প্রকল্পের অন্যতম পানির উত্স। হালদা নদী থেকে ওয়াসা কর্তৃপক্ষ তাদের দুটি পানি শোধনাগারে দৈনিক ১৮ কোটি লিটার পানি উত্তোলন করছে। কিন্তু হালদা নদী থেকে প্রকল্পের জন্য আর পানি নেওয়া যাবে না বলে পরিবেশবিদরা আপত্তি তুলেছে। এতে মত্স্য প্রজনন ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ফলে মিরসরাইয়ে বঙ্গবন্ধু শিল্প নগরীতে পানি সরবরাহে চট্টগ্রাম ওয়াসার গৃহীত প্রকল্পের জন্য হালদা নদী থেকে পানি মিলছে না।

অন্যদিকে রাঙ্গুনিয়ায় চট্টগ্রাম ওয়াসা নির্মিত ২৮ কোটি লিটার ধারণক্ষমতার দুটি প্রকল্পের পানি কর্ণফুলী নদী থেকে নেওয়া হচ্ছে। তবে উত্সস্থলটি কর্ণফুলী নদীর অনেক উজানে হওয়ায় লবণাক্ততার পরিমাণ কম। এখান থেকেই বোয়ালখালীতে নির্মাণাধীন পানি শোধনাগার প্রকল্পের জন্য পানি নেওয়া হবে। মিরসরাই ইকনোমিক জোনে পানি সরবরাহের জন্য রাঙ্গুনিয়া এলাকায় কর্ণফুলী নদী থেকে মোহরায় প্রকল্প এলাকায় আনা চ্যালেঞ্জিং মনে করছেন ওয়াসা কর্তৃপক্ষ। তাই বিকল্প উত্স খুঁজতে হচ্ছে ওয়াসাকে।

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম ওয়াসা তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, কর্ণফুলী নদীর উজানে রাঙ্গুনিয়া এলাকায় কর্ণফুলী নদী থেকে বর্তমানে দুটি প্রকল্পের জন্য পানি নেওয়া হচ্ছে এবং ভান্ডারজুরি প্রকল্পের জন্য নেওয়া হবে। সেই জায়গা থেকে পানি মোহরায় প্রকল্প এলাকায় নিয়ে আসা অনেক চ্যালেঞ্জিং হবে। নদীর নিচ দিয়ে পাইপ লাইন বসাতে হবে। তার পরিবর্তে মিরসরাই শিল্পনগরীর জন্য প্রস্তাবিত প্রকল্পের পানি চাঁদপুরের মেঘনা নদী থেকে আনার বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে।’

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চট্টগ্রাম ওয়াসাকে তাদের প্রকল্পের জন্য পানির বিকল্প উত্স খুঁজে বের করতে হবে। কর্ণফুলী নদী শিল্প কারখানার বর্জ্যে অতিমাত্রায় দূষিত হয়ে পড়েছে। বিশেষজ্ঞরা কয়েকটি উেসর ওপর ওয়াসাকে জোর দিতে বলেছেন। ওয়াসাকে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণে উদ্যোগী হতে হবে। সীতাকুন্ড ও মিরসরাইয়ে পাহাড়ি এলাকায় বাঁধ তৈরি করে বর্ষাকালে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। এছাড়া কাপ্তাই, রাঙামাটি এলাকায় বাঁধ দিয়ে বৃষ্টির পানি আটকে রেখে প্রকল্পে ব্যবহার করা যেতে পারে।

মিরসরাইয়ে সমুদ্র উপকূলে নির্মিত হচ্ছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগরী। এই শিল্পনগরীতে ২০৪০ সাল নাগাদ দৈনিক ৯১ কোটি লিটার পানির চাহিদা দাঁড়াবে। এখানে নিকটস্থ সমুদ্রের পানিতে লবণাক্ততা থাকলেও দূষিত নয়। ফলে সমুদ্রের পানি পরিশোধন করে মিরসরাই ইকনোমিক জোনে ব্যবহার করা যেতে পারে। চট্টগ্রাম ইউএসটিসির উপাচার্য প্রফেসর ড. জাহাঙ্গীর আলমের তত্ত্বাবধানে মিরসরাই ইকনোমিক জোনের পাশে সমুদ্রের পানি নিয়ে গবেষণা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, এখানে সমুদ্রের পানি দূষিত নয়। তবে লবণাক্ততা আছে। লবণাক্ত পানি পরিশোধন করে শিল্পে কীভাবে ব্যবহার করা যেতে পারে সেই ব্যাপারে গবেষণা করা হচ্ছে। গবেষণার কার্যক্রম এখনো শেষ হয়নি।