লাউয়াছড়ায় ৩৩ হাজার কেভির বিদ্যুত্ লাইন, হুমকিতে বন্যপ্রাণী

কমলগঞ্জের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের বনাঞ্চল দিয়ে পল্লী বিদ্যুত্ বিভাগের ৩৩ হাজার কেভি প্রধান বিদ্যুত্ লাইন চলে গেছে। সড়ক ও রেলপথের মতো বিদ্যুত্ লাইনও এই বনের প্রাণীকূলের জন্য হুমকিস্বরূপ। প্রতি বছরই বিদ্যুতায়িত হয়ে সেখানে অনেক বন্য প্রাণী হতাহতের ঘটনা ঘটে। এমতাবস্থায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক (প্রশাসন)-এর সভাপতিত্বে গত ২ আগস্ট অনুষ্ঠিত সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বন্য প্রাণী রক্ষায় লাউয়াছড়া বনাঞ্চলের ভেতর দিয়ে ৩৩ হাজার কেভি বিদ্যুত্ লাইন ও তত্সংলগ্ন কিছু এলাকায় তারের ওপর আবরণ বা তাপ অপরিবাহী কভার লাগানোর জন্য মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুত্ সমিতির জেনারেল ম্যানেজারকে পত্র দেওয়া হয়েছে। গত মঙ্গলবার পত্রটি দিয়েছেন বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম চৌধুরী।

চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান ১৬৭ প্রজাতির বৃক্ষ, ২৪৬ প্রজাতির পাখি, ২০ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী, ৫৯ প্রজাতির সরীসৃপ (২৯ প্রজাতির সাপ, ১৮ প্রজাতির লিজার্ড, ২ প্রজাতির কচ্ছপ), ২২ প্রজাতির উভচরসহ অনেক বিরল ও বিপন্ন প্রজাতির বন্য প্রাণীর আবাসস্থল ও প্রজননক্ষেত্র। লাউয়াছড়া উদ্যানের অভ্যন্তরসহ আশপাশের বিদ্যুতায়িত এলাকায় ৩৩ হাজার কেভি হাই ভোল্টেজের বিদ্যুত্ লাইনে কোনো আবরণ না থাকায় প্রায় প্রতি মাসে বিরল ও বিপন্ন উল্লুক, মুখপোড়া হনুমান, চশমাপরা হনুমান, লজ্জাবতী বানরসহ বিভিন্ন স্তন্যপায়ী বন্য প্রাণী বৈদ্যুতিক তারে জড়িয়ে হতাহতের ঘটনা ঘটছে।

ডিএফও মো. রেজাউল করিমের বর্ণনা অনুযায়ী গত ৯ এপ্রিল গ্র্যান্ড সুলতান রিসোর্ট এলাকায় একটি লজ্জাবতী বানর, ১৮ জুন মুসলিমপাড়ার রামনগর এলাকায় একটি চশমাপরা হনুমান, ১৬ জুলাই কালাছড়া বনবিট অফিসের সামনে একটি  মুখপোড়া হনুমান, ২৪ জুলাই ভিক্টোরিয়া স্কুলের সামনে একটি হনুমান এবং ১৩ সেপ্টেম্বর একটি বানর বিদ্যুত্স্পৃষ্ট হয়ে মারা গেছে। এভাবে চলতে থাকলে একসময় এসব বিরল ও বিপন্ন প্রাণী এই বনাঞ্চল থেকে বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে। তাতে বনে জীববৈচিত্র্যের ভারসাম্য বিনষ্ট হয়ে যাবে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। তিনি আরো বলেন, বন আইন, ১৯২৭ (সংশোধিত ২০০০ ইং) অনুযায়ী সংরক্ষিত বনাঞ্চলে বন বিভাগের অনুমতি ছাড়া বৈদ্যুতিক খুঁটি স্থাপন, লাইন টানা ও বিদ্যুতের সংযোগ সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ।

এই পত্রের অনুলিপি প্রধান বন সংরক্ষক ঢাকা, মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কমলগঞ্জ ও শ্রীমঙ্গলসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কার্যালয়েও পাঠানো হয়।

উল্লেখ্য, লাউয়াছড়া বনের ভেতরে মাগুরছড়া ও লাউয়াছড়া খাসিয়াপুঞ্জিতে দেওয়া বৈদ্যুতিক লাইনের তারে রাবারের আবরণ দেওয়া আছে। বাকি লোকালয়গুলোতে তারে নিরাপত্তা আবরণ দেওয়া হয়নি।

মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুত্ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার মো. জিয়াউর রহমান বন্য প্রাণী  ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের পত্রের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।