সদর উপজেলার চিকন্দী শরফ আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুস ছামাদ মাষ্টার হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে। ঢাকা মহানগর দায়রা ও জজ আদালতের দ্রুতবিচার ট্রাইব্যুনাল-৩-এর বিচারক মো. মনির কামাল গতকাল বুধবার এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ে চার আসামিকে মৃত্যুদণ্ড ও ৯ আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এর মধ্যে চান মিয়া খান, নুরুজ্জামান খান, জাহাঙ্গীর মাদবর ও জুলহাস মাদবরকে মৃত্যুদণ্ড এবং সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল হালিম মোল্যা, ফারক খান, আজিজুর মাদবর, জলিল মাদবর, আজাহার মাদবর, লাল মিয়া মীর, মিজান মীর, এমদাদ মাদবর ও আক্তার গাজীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। আর মামলা থেকে খালাস দেওয়া হয়েছে আজিবর বালি, খোকন ব্যাপারী, সোহরাব মোল্যা, আজাহার মোল্যা ও আব্দুল খন্দকারকে। খালাস পাওয়া আজিবর বালি মাদারীপুর সদরের ছিলারচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন।
মামলার বিবরণে জানা যায়, সদর উপজেলার সন্তোষপুর গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন চিকন্দী শরফ আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিহত আব্দুস ছামাদ মাষ্টার। ২০১০ সালের ১৫ জানুয়ারি চন্দ্রপুর ইউনিয়নের লক্ষ্মীর মোড় বাসস্ট্যান্ডে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। ১৭ জানুয়ারি নিহত ছামাদ মাষ্টারের স্ত্রী ফেরদৌসী আজাদ তত্কালীন চন্দ্রপুর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল হালিম মোল্যাকে প্রধান আসামি করে ৩০ জনের নাম উল্লেখপূর্বক শরীয়তপুর পালং মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ২০১০ সালের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন আব্দুস ছামাদ মাষ্টার। এর আগে ২০০৩ সালেও চন্দ্রপুর ইউপি নির্বাচনেও তিনি প্রার্থী ছিলেন। নির্বাচন নিয়ে বিরোধে তাকে হত্যা করা হয় বলে জানা যায়। মামলায় ১৮ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশ। অভিযুক্ত ১৮ জনের মধ্যে ১৭ জন কারাগারে রয়েছে।
দীর্ঘ আট বছর মামলার তেমন কোনো অগ্রগতি না থাকায় ২০১৮ সালে মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে নেওয়ার জন্য আবেদন করেন মামলার বাদী। ২০১৮ সালের মার্চ মাসে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে-৩-এ স্থানান্তর করে। ঐ বছরই সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়। গত মার্চ মাসে মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়। গত ৮ সেপ্টেম্বর এ মামলার দুই পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষ হয়।
আব্দুস ছামাদ মাষ্টারের স্ত্রী ফেরদৌসী আজাদ বলেন, ‘আমার স্বামী একজন জনপ্রিয় মানুষ ছিলেন। নির্বাচনের আগে তত্কালীন চেয়ারম্যান আব্দুল হালিম মোল্যা তার লোকজন নিয়ে আমার স্বামীকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করে। মামলার রায়ের জন্য দীর্ঘ ১১ বছর অপেক্ষা করেছি। রায় ভালো হয়েছে। কিন্তু এ হত্যাকাণ্ডের অন্যতম মাস্টারমাইন্ড আজিবর বালি খালাস পাওয়ায় আমরা বিস্মিত, হতাশ।’