হল ভাড়া মওকুফ ও প্রণোদনার দাবিতে সারা দেশে নাটক প্রদর্শনী বন্ধ

হল ভাড়া মওকুফ ও প্রণোদনার দাবিতে নাটক প্রদর্শনী বন্ধ রেখেছে দেশের নাট্য সংগঠনগুলো। করোনার এই সময়ে দলগুলো যে আর্থিক ক্ষতির শিকার হয়েছে তা কাটিয়ে উঠে দেশে সাংস্কৃতিক আবহ সৃষ্টি করতে এ পৃষ্ঠপোষকতাকে খুবই যৌক্তিক দাবি বলে মনে করছেন নাট্য সংগঠনগুলো। সে কারণেই আগামী এক বছর বিনা ভাড়ায় মিলনায়তন বরাদ্দ এবং প্রতি মঞ্চায়নে কমপক্ষে ৫ হাজার টাকা প্রণোদনার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটারে ফেডারেশান। সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রীর কাছে এ দাবি জানিয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে কিন্তু মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। এদিকে, মন্ত্রণালয় কোনো সাড়া না দেওয়ায় আগামীকাল শুক্রবার বিকাল ৫টায় শিল্পকলা একাডেমির মূল ফটকের সামনে প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করেছে গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশান। শিল্পকলা একাডেমি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ ভাড়া মওকুফ করার এক্তিয়ার মন্ত্রণালয়ের। যদিও সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী মৌখিকভাবে ভাড়া মওকুফ করার কথা জানিয়েছেন। কিন্তু এ সংক্রান্ত কোনো আদেশ এখন পর্যন্ত মন্ত্রণালয় থেকে আসেনি।

এর আগে, এক বছরের জন্য মিলনায়তন ভাড়া মওকুফ ও বিশেষ             প্রণোদনার দাবি জানিয়ে নাট্য প্রদর্শনী বাতিল করে দেশের শীর্ষ দুই নাট্য সংগঠন ঢাকা থিয়েটার ও আরণ্যক। গত সপ্তাহে জাতীয় নাট্যশালায় নাটকের প্রদর্শনী করার জন্য এ দুটি সংগঠনকে জাতীয় নাট্যশালার মিলনায়তন কমিটি হল বরাদ্দ দেয়। কিন্তু দুটি সংগঠনই গত সপ্তাহে সব সাংস্কৃতিক সংগঠনের জন্য আগামী এক বছর শিল্পকলার সব মিলনায়তনের ভাড়া মওকুফ করা ও বিশেষ প্রণোদনার দাবি জানিয়ে নাটক মঞ্চায়ন থেকে সরে আসে।

গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশানের সাধারণ সম্পাদক কামাল বায়েজীদ ইত্তেফাককে বলেন, আমরা শুধু ঢাকার দলগুলোর জন্য এ দাবি জানাইনি। আমরা দাবি জানিয়েছি রাজশাহী, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রামসহ দেশের সব জেলায় হল ভাড়া মওকুফ করে প্রণোদনা দিতে হবে। করোনার অভিঘাতে সাংস্কৃতিক আয়োজন বন্ধ হয়ে গেছে। তাকে সচল করতে মানুষের মাঝে সাংস্কৃতিক আবহ ফিরিয়ে আনতে সরকারকে পাশে দাঁড়াতে হবে। আমরা সাংস্কৃতিক কর্মীকে প্রণোদনা দেওয়ার কথা বলছি না, সাংস্কৃতিক দলগুলোকে তাদের কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য প্রণোদনার কথা বলছি। এটা মানবিক দাবি। মিলনায়তনের ভাড়া না পেলে সরকারের এমন কিছু লোকসান হবে না। কিন্তু এটুকু প্রণোদনা না পেলে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড স্থবিরতা কাটিয়ে সচল হওয়ার শক্তি পাবে না।

এ প্রসঙ্গে নাট্যব্যক্তিত্ব নাসির উদ্দীন ইউসুফ জানান, করোনা মহামারির কারণে দেশের প্রায় সব সাংস্কৃতিক সংগঠনই আর্থিক সংকটে পড়েছে। সরকারকে সংস্কৃতিকর্মীদের পাশে দাঁড়ানোর অনুরোধ জানাই।

নাট্যব্যক্তিত্ব মামুনুর রশীদ জানান, সব নাট্য সংগঠনের পক্ষ থেকে আমরা এ প্রদর্শনী বাতিল করেছি। যাতে সারা দেশের সব দল প্রণোদনা পেয়ে নাটক প্রদর্শনী করতে পারে। তবে শুধু নাটকের দল নয় সব সাংস্কৃতিক সংগঠনকে বিশেষ প্রণোদনা দিতে হবে।