চট্টগ্রামে পরীর পাহাড় নামে পরিচিত আদালত প্রাঙ্গণ এলাকায় আইনজীবীদের জন্য দুটি নতুন ভবন নির্মাণকে কেন্দ্র করে জেলা প্রশাসন ও জেলা আইনজীবী সমিতির বিরোধ তুঙ্গে উঠেছে। আইনজীবীদের জন্য নতুন ভবন নির্মাণের অংশ হিসেবে চেম্বার বরাদ্দ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ‘পরীর পাহাড় রক্ষায়’ গণমাধ্যমে বিজ্ঞাপন প্রকাশ করা হয়। এ ঘটনায় গত ৮ সেপ্টেম্বর আইনজীবী সমিতি সাধারণ সভা করে। দুপক্ষের দ্বন্দ্বের মধ্যেই চট্টগ্রাম ওয়াসা, বিদ্যুত্ বিভাগ ও কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানিসহ ১৪টি সেবা সংস্থার কাছে চিঠি দেয় জেলা প্রশাসন।
গতকাল বুধবার জেলা আইনজীবী সমিতির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আইনজীবী সমিতির ভবনগুলো সিডিএ কর্তৃক যথাযথভাবে অনুমোদিত। এর আগেও ভবনসমূহ নির্মাণে কোনো পাহাড় বা টিলা কাটা হয়নি। সমিতির প্রস্তাবিত ‘আইনজীবী একুশে ভবন’ সিডিএ অনুমোদিত স্থানেই নির্মাণ করা হচ্ছে। অপর ভবন নির্মাণের জন্য সিডিএ-র অনুমোদন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
আদালত ভবনের চতুর্পার্শ্বে সমিতির কোনো অবৈধ স্থাপনা নেই উল্লেখ করে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দোকানপাট, খাবার হোটেল, মুদি দোকান, রাস্তার হকার, বস্তি ইত্যাদি স্থাপনাগুলোর অধিকাংশই জেলা প্রশাসনের লিজ প্রদানকৃত ও কিছু অংশ জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ কর্তৃক ভাড়ায় লাগিয়তকৃত যা থেকে জেলা প্রশাসন মাসিক-দৈনিক ভাড়া উত্তোলন করে। এমনকি এ সকল স্থাপনাগুলোতে বিভিন্ন অনৈতিক কাজ, মাদক ব্যবসা ইত্যাদি হয়ে আসছে। এসব অনৈতিক কার্যকলাপ বন্ধ করতে ইতিপূর্বে জেলা প্রশাসন থেকে কোনোরূপ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। এসব অবৈধ ও অনুমোদনহীন স্থাপনাসমূহ উচ্ছেদে ব্যবস্থা না নিয়ে জেলা প্রশাসন সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির স্থাপনাসমূহ নিয়ে সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে পত্র প্রেরণপূর্বক মিথ্যাচার করে আসছে। কোর্ট বিল্ডিং এলাকায় কোনো ছাত্রাবাস নেই—যা জেলা প্রশাসনের কল্পনাপ্রসূত।