প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগ

আবাহনীর ঘর গোছানো

ঘরোয়া ক্রিকেটের অন্যতম আকর্ষণ ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগ শুরু হবে আগামী বছর মার্চে। গত বুধবারই এ ঘোষণা দিয়েছে সিসিডিএম (ক্রিকেট কমিটি অব ঢাকা মেট্রোপলিস)। কিন্তু ছয় মাস আগেই প্রিমিয়ার লিগ আলোচনায় এসেছে মোহামেডানের কারণে। গত সপ্তাহে এক ঝাঁক তারকা ক্রিকেটারকে দলে টেনেছে সাদা-কালো শিবির। সাকিব আল হাসান, তাসকিন থাকলেও ঘটা করে মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, সৌম্য সরকার, মেহেদী হাসান মিরাজের সঙ্গে চুক্তি করেছে মোহামেডান।

বসে নেই তাদের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী শিবির আবাহনীও। প্রিমিয়ার লিগের ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা ঘর গুছিয়ে ফেলেছে। গত আসরের দল থেকে এখন পর্যন্ত শুধু মুশফিককেই হারিয়েছে ক্লাবটি। চ্যাম্পিয়ন দলটার বাকি সবাই রয়ে গেছেন। গতকাল আবাহনীর ম্যানেজার শেখ মামুন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বর্তমান দলটার বাইরে নতুন করে জাতীয় দলের তরুণ ক্রিকেটার শামীম পাটোয়ারী, পেসার কামরুল ইসলাম রাব্বি ও বাঁহাতি স্পিনার তানভির ইসলামকে দলে নিয়েছে আবাহনী। নাঈম শেখ, লিটন দাস, সাইফউদ্দিন, মোসাদ্দেক, শান্ত, আফিফ, বিপ্লব, তাইজুল, আরাফাত সানি, শহীদুল, তানজিম হাসান সাকিব, মেহেদী হাসান রানা, মুনিম শাহরিয়ার আছেন আবাহনী শিবিরে। কিছুটা তারুণ্যনির্ভর হলেও দারুণ সব পারফরমার নিয়ে তাই আবাহনীর দলটিও বেশ শক্তিশালী।

দুই ক্লাবই ভালো দল গড়ায় প্রিমিয়ার লিগে আবাহনী-মোহামেডান দ্বৈরথ আগের আমেজে ফিরতে পারে। এমনটাই আশা আবাহনীর ক্রিকেট কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান জালাল ইউনুসের। গতকাল তিনি বলেছেন, ‘আবাহনী-মোহামেডান খেলায় যে আমেজটা থাকে, প্রতিযোগিতা থাকে সেটি থাকলে তো ভালোই লাগে। আমরা কিন্তু আগেও সেরা দল বানিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছি। আমরা সবসময় কাগজে কলমে তিন নম্বর দল বানিয়েছি, তার পরও কিন্তু আমরা চ্যাম্পিয়ন হয়েছি। এর একটা না, কয়েকটা উদাহরণ আছে। এবং এই জন্য আমরা চিন্তিত নই।’

প্রিমিয়ার লিগে মোহামেডানের শিরোপা খরা কাটছেই না। ২০০৯ সালে শেষবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ক্লাবটি। গতকাল চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের সেই স্মৃতিও মনে করিয়ে দিলেন জালাল ইউনুস, ‘মোহামেডান কখনো চ্যাম্পিয়ন হয় না। প্রায় ১০ বছরের ওপরে হয়ে গেছে। সামনের দিকে শিরোপা নেওয়ার তারা চেষ্টা করবে। এটা ভালো কথা।’

আবাহনীও রাখতে চেয়েছিল মুশফিককে। কিন্তু ভালো অফার পেয়ে মোহামেডানে চলে গেছেন অভিজ্ঞ এ ক্রিকেটার। আবাহনী অবশ্য বলছে, এখনো ক্লাব ছাড়ার বিষয়টি মুখে জানাননি মুশফিক। আগামী সপ্তাহে আরো দুজন ক্রিকেটারকে দলভুক্ত করার চেষ্টায় আছে আবাহনী।