প্রতারণার অভিযোগে এক গ্রাহকের মামলায় ই-কমার্স প্ল্যাটফরম ইভ্যালির এমডি মোহাম্মদ রাসেল এবং তার স্ত্রী প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান মোছা. শামীমা নাসরিনকে গ্রেফতার করেছে র্যাব। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে ঢাকার মোহাম্মদপুরে রাসেলের বাসায় ঘণ্টাখানেক অভিযান চালানোর পর তাদের দুই জনকে র্যাবের গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। র্যাবের গোয়েন্দা শাখার প্রধান খায়রুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, তাদের র্যাব সদর দপ্তরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। যে মামলা হয়েছে, তাতে তাদের গ্রেফতার দেখানো হবে।
র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন জানান, আজ শুক্রবার তাদের গ্রেফতারের ব্যাপারে সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত তথ্য জানাবে র্যাব। আরিফ বাকের নামে এক ব্যক্তি গতকাল ভোরে রাসেল ও শামীমার বিরুদ্ধে গুলশান থানায় প্রতারণার মামলা করেন। পণ্যের জন্য আগাম অর্থ দিয়ে না পাওয়ার পাশাপাশি ‘প্রাণনাশের হুমকি’ দেওয়ার অভিযোগ করা হয় সেখানে।
এদিকে রাসেল গ্রেফতার হওয়ার খবরে গ্রাহকদের অনেকে তার মোহাম্মদপুরের বাসার সামনে ভিড় করেন। রাসেলকে র্যাব নিয়ে যাওয়ার সময় প্রতিবাদ জানিয়ে অর্ধশতাধিক লোককে সেখানে বিক্ষোভ করতেও দেখা যায়। তারা নিজেদের ইভ্যালির গ্রাহক হিসেবে পরিচয় দিয়ে রাসেলকে ছেড়ে দেওয়ার দাবি জানান।
প্রতারণা ও গ্রাহক হয়রানির অভিযোগে ইভ্যালি এমডি রাসেল ও চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিনের বিরুদ্ধে এর আগেও কয়েকটি মামলা হয়েছে বিভিন্ন জেলায়। ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে যাত্রা শুরু করে মাত্র আড়াই বছরের মাথায় সরবরাহকারী কোম্পানি ও গ্রাহকদের কাছে ৫৪৩ কোটি টাকার দায়ে পড়েছে ইভ্যালি। এত অল্প সময়ে এই বিপুল টাকা কোথায় গেল, তার হদিস এখনো মেলেনি। আত্মসাত্ ও পাচারের অভিযোগ অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে গত জুলাই মাসে দুদকের আবেদনে ইভ্যালির শীর্ষ কর্তাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করে আদালত।
মামলায় কী অভিযোগ আনা হয়েছে :মামলার বাদী আরিফ বাকের তার অভিযোগে বলেন, তিনি ও তার বন্ধুরা চলতি বছরের মে ও জুন মাসে কিছু পণ্যের অর্ডার বাবদ মূল্য বিকাশ, নগদ ও সিটি ব্যাংকের কার্ডের মাধ্যমে সম্পূর্ণ পরিশোধ করেন। সর্বশেষ গত ৫ সেপ্টেম্বর যোগাযোগ করে পণ্য পাওয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। ৯ সেপ্টেম্বর ইভ্যালির ধানমন্ডির অফিসে যান বাদী। ইভ্যালির এমডি মোহাম্মদ রাসেলের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে সেখানকার কর্মীরা উত্তেজিত হয়ে চিত্কার-চ্যাঁচামেচি করেন। ইভ্যালির এমডি রাসেল উত্তেজিত হয়ে তার রুম থেকে বেরিয়ে এসে বাদীকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন এবং তাদের অর্ডারের পণ্য অথবা টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানান।
নানা অনিয়মের অভিযোগে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় রয়েছে ইভ্যালি। গত ২৫ আগস্ট ইভ্যালির এমডি ও চেয়ারম্যানের সব ব্যাংক অ্যাকাউন্টের হিসাব চায় বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)।
ইভ্যালির বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ :ইভ্যালির বিরুদ্ধে যত দ্রুত সম্ভব আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করেছে ই-কমার্স বিষয়ক জাতীয় কমিটি। আর সেজন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। গ্রাহকদের কাছ থেকে অগ্রিম অর্থ নিয়েও প্রতিশ্রুত সময়ে পণ্য সরবরাহ না করার অভিযোগ ইভ্যালির বিরুদ্ধে। এছাড়া এ সংক্রান্ত বিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ব্যাখ্যা চাইলে তার জবাবেও ইভ্যালির দেওয়া তথ্যে গরমিল পেয়েছে মন্ত্রণালয়।