বাংলাদেশে আঞ্চলিকভাবে জাম্বুরা, বাতাবিলেবু, বাদামিলেবু, ছোলম, বড় লেবু ইত্যাদি নামে পরিচিত। আমাদের দেশে লেবু জাতীয় ফলের মধ্যে এটাই সর্বাপেক্ষা পুষ্টিগুণ ও প্রচুর ভিটামিন সি সমৃদ্ধ। কাঁচা অবস্থায় ফলের বাইরের দিকটা সবুজ এবং এই ফল পাকলে হালকা সবুজ বা হলুদ রঙের হয়। সাধারণত ফলের ভেতরের কোয়াগুলো সাদা বা গোলাপি রঙের হয়। খোসা বেশ মোটা এবং খোসার ভেতরের অংশটা ফোমের মতো নরম। লেবু জাতীয় ফলের মধ্যে এটাই সবচেয়ে বড়—ওজন প্রকারভেদে ১ থেকে ২ কেজি হয়। প্রতি ১০০ গ্রাম এই ফলে পাওয়া যায় খাদ্যশক্তি ৩৮ কিলোক্যালরি, প্রোটিন ০.৫ গ্রাম, স্নেহ ০.৩ গ্রাম, শর্করা ৮.৫ গ্রাম, খাদ্যআঁশ ১ গ্রাম, থায়ামিন ০.০৩৪ মিলি গ্রাম, খনিজ লবণ ০.২০ গ্রাম, রিবোফ্লেভিন ০.০২৭ মিলি গ্রাম, নিয়াসিন ০.২২ মিলি গ্রাম, ভিটামিন বি২- ০.০৪ মিলিগ্রাম, ভিটামিন বি৬- ০.০৩৬ মিলিগ্রাম, ভিটামিন সি ১০৫ মিলিগ্রাম, ক্যারোটিন ১২০ মাইক্রোগ্রাম, আয়রন ০.২ মিলিগ্রাম, ক্যালসিয়াম ৩৭ মিলিগ্রাম, ম্যাগনেসিয়াম ৬ মিলিগ্রাম, ম্যাংগানিজ ০.০১৭ মিলিগ্রাম, ফসফরাস ১৭ মিলিগ্রাম, পটাশিয়াম ২১৬ মিলিগ্রাম ও সোডিয়াম ১ মিলিগ্রাম।
ঠান্ডা, সর্দি-জ্বরজনিত সমস্যার জন্য খেলে ভালো ফল পাওয়া যায়। এটি মানুষের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে। এতে বায়োফ্লভনয়েড বেশি থাকায় স্তন ক্যান্সারের সংক্রমণ থেকে রক্ষা করে। ভিটামিন সি বেশি থাকায় রক্তনালির সংকোচন-প্রসারণ ক্ষমতা বৃদ্ধি পাওয়ায় ডায়াবেটিস, জ্বর, নিদ্রাহীনতা, মুখের ভেতরে ঘা, পাকস্থলী ও অগ্নাশয়ের বিভিন্ন রোগ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ করে। নিয়মিত এই ফল খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয় ও পেটের হজমজনিত সমস্যার প্রতিকার হয়। এই ফলের বিভিন্ন উপাদান শরীরের দূষিত রক্ত পরিষ্কারে সাহায্য করে। এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম যা হূদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। ভিটামিন সি ও বি হাড়, দাঁত, ত্বক ও চুলে পুষ্টি জোগায়। যে কোনো চর্মরোগ ফোঁড়া ও ঘায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করে রোগ প্রতিরোধ করে। প্রতিদিন এক গ্লাস জাম্বুরার রস খেলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকে।
আশরাফুল আলম