স্টাফ রিপোর্টার, বগুড়া
দাম কম হওয়ায় আলু নিয়ে এবার শঙ্কায় রয়েছেন কৃষক ও ব্যবসায়ীরা। তাদের সঙ্গে বেকায়দায় পড়েছেন হিমাগার মালিকরাও। বর্তমান বাজারে ৬০ কেজির এক বস্তা আলুতে লোকসান হচ্ছে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা। ফলে কমে গেছে আলুর বেচা-কেনা। দাম কমে যাওয়ায় লোকসানের ভয়ে বগুড়া ও জয়পুরহাটের কৃষক ও ব্যবসায়ীরা হিমাগার থেকে আলু তুলছেন না। এতে হিমাগারগুলোতে আলুর বস্তা জমছে। এমন পরিস্থিতিতে মৌসুম শেষে বিপুল পরিমাণ আলু অবিক্রিত থাকার আশঙ্কা করছেন সংশ্নিষ্টরা।
কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত বছর দাম বেশি পেয়ে এবার কৃষকের পাশাপাশি হিমাগারে আলু সংরক্ষণ করেন ব্যবসায়ীরা। হিমাগার ভাড়াসহ ৬০ কেজির প্রতিবস্তা আস্টেরিক জাতের আলুতে এবার খরচ পড়েছে ১ হাজার টাকা আর দেশি পাকরি (লাল) জাতের আলুতে খরচ পড়েছে ১ হাজার ২০০ টাকা। কিন্তু বর্তমানে প্রতি বস্তা আস্টেরিক আলু ৫০০ এবং পাকরি আলু বিক্রি হচ্ছে সর্বোচ্চ ৬০০ থেকে ৭০০ টাকায়।
কৃষক ও ব্যবসায়ীরা জানান, আলু রাখার সময় হিমাগারের মালিকের থেকে ঋণ নিয়েছিলেন কৃষক ও ব্যবসায়ীরা। এখন আলু বিক্রি করতে না পেরে হিমাগার মালিক ও ব্যাংক ঋণ পরিশোধ করা নিয়েও বেকায়দায় পড়েছেন তারা। দাম কমের পাশাপাশি বাজারে চাহিদা না থাকায় হিমাগারে মজুতের মাত্র ২০ শতাংশ আলু বিক্রি হয়েছে। ৮০ শতাংশ আলু এখনো মজুত রয়েছে দুই জেলার হিমাগারগুলোতে। অথচ হিমাগার খালি করার সময়সীমা রয়েছে আগামী ১৫ নভেম্বর।
বগুড়া ও জয়পুরহাটের হিমাগারে গত বৃহস্পতিবার প্রতি কেজি আলুর পাইকারি দাম ছিল ১০ টাকা। কিন্তু উত্পাদন থেকে হিমাগারে রাখা পর্যন্ত এক কেজি আলুর পেছনে কৃষক ও ব্যবসায়ীর খরচ হয়েছে ১৮ টাকা। এই হিসাবে হিমাগারে আলু রেখে কৃষক ও ব্যবসায়ীরা প্রতি কেজিতে ৮ টাকা করে লোকসান গুনছেন। বাংলাদেশ কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশনের হিসাব অনুযায়ী, বগুড়া-জয়পুরহাটের ৫৫টি হিমাগারে এবার ৫ লাখ মেট্রিক টনের বেশি আলু সংরক্ষণ করা আছে। এর মধ্যে প্রায় ১ লাখ মেট্রিক টন বীজ আলু। বাকি প্রায় ৪ লাখ মেট্রিক টন এখন বিক্রির জন্য আছে।
বগুড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. দুলাল হোসেন বলেন, এ মৌসুমে রেকর্ড পরিমাণ আলু উত্পাদন হয়েছে। অন্যদিকে এবার বন্যা হয়নি। সবজি রেকর্ড উত্পাদন হয়েছে। তাতে আলুর চাহিদা সামান্য কমেছে। আবার বগুড়া অঞ্চল থেকে অন্য জেলায়ও আলু খুব একটা যায়নি। সব মিলিয়ে আলুর বাজারমূল্য কমে গেছে।
বগুড়ার পুরোনো হিমাগার হিমাদ্রি কোল্ড স্টোরেজে ১১ হাজার বস্তা আলু রেখেছিলেন জামালপুর সদরের ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আবদুল্লাহ। তিনি বলেন, ‘আলু বিক্রির জন্য কয়েক দিন ধরে হিমাগারে ঘুরছি। কিন্তু ক্রেতা নেই। গত এক সপ্তাহে এক বস্তা আলুও বিক্রি করতে পারিনি।’ বর্তমান বাজারদর অনুসারে তার লোকসান হবে ৪৪ লাখ টাকা। দাম কমলে লোকসানের অঙ্ক প্রতিদিনই বাড়বে। হিমাদ্রি কোল্ড স্টোরেজের ব্যবস্থাপক মোস্তফা কামাল বলেন, আলুর বাজারমূল্যে এই বিপর্যয় ঠেকাতে প্রক্রিয়াজাত কারখানার সংখ্যা বৃদ্ধি ও রপ্তানির উদ্যোগ দরকার। চাষিদের লোকসান থেকে বাঁচাতে আলুর বহুমুখী ব্যবহারে সরকারকে সমন্বিত পরিকল্পনা নিতে হবে।
জয়পুরহাটের মোলামগাড়ী বাজারের আলু ব্যবসায়ী বুলবুল হোসেন জানান, মৌসুমের শুরুতে ১১ হাজার বস্তা আলু হিমাগারে রেখেছিলেন। বাজারের বর্তমান অবস্থায় ঐ আলু বিক্রির পরও ঋণের টাকা পরিশোধ করতে আরো ৩০ লাখ টাকা পকেট থেকে দিতে হবে। সে কারণে তিনি এক বস্তা আলুও বিক্রি করেননি।