রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা
করোনা ভাইরাসের কারণে বন্ধ থাকার পর গত ১৯ আগস্ট থেকে রাঙ্গুনিয়া উপজেলার কোদালা বন বিটের শেখ রাসেল এভিয়ারি পার্ক পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়া হয়। এরপর থেকেই শেখ রাসেল এভিয়ারি পার্কে আসতে শুরু করেছে পর্যটকরা। প্রকৃতিপ্রেমীদের আগমনে মুখর হয়ে উঠছে পার্কের প্রান্তর। প্রতিদিন হাজার হাজার পর্যটকের আগমনে এখন চঞ্চল হয়ে উঠছে পার্ক। পার্কে পর্যটকরা প্রাণখুলে নিঃশ্বাস এবং নানা বৈচিত্র্য উপভোগ করে বিকালে সন্তুষ্টচিত্তে ফিরছেন নিজ নিজ আশ্রয়ে।
সরেজমিনে দেখা যায়, খোলা আকাশের নিচে বনে ঘেরা পার্কের স্থানে স্থানে স্থাপন করা হয়েছে খাঁচা। আর এসব খাঁচায় দেশি পাখির পাশাপাশি রয়েছে আফ্রিকার পলিক্যান, প্যারট, সেয়ান, রিংন্যাক, মেকাউ টার্কি প্রজাতির বিদেশি পাখি। এছাড়া পার্কের অন্যতম আকর্ষণ কেবলকার। কেবলকারে পর্যটকরা লেকের একপ্রান্ত থেকে শুরু করে আড়াই কিলোমিটার দীর্ঘ রোপওয়েতে সবুজ বনাঞ্চলে দৃশ্য উপভোগ করেন। পর্যটক ও ভ্রমণ পিপাসুদের জন্য রয়েছে রেস্টহাউজ, বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজনের জন্য মঞ্চও মুক্ত হলো। পার্কের কৃত্রিম লেক এবং লেকের মধ্যে দ্বীপে পর্যটকের ভিড় বেশি।
চট্টগ্রাম নগরীর খুলসি থেকে রাসেল এভিয়ারী পার্কে বেড়াতে এসেছেন ব্যাংকার দম্পতি ফয়শল শাহ ও তার স্ত্রী ফারজানা শাহ। তারা জানান, করোনা মহামারির কারণে দীর্ঘদিন ঘরে বন্দি দশায় ছিলাম। পার্কে বেড়াতে এসে সার্বিক ব্যবস্থাপনা এবং প্রাকৃতিক পরিবেশ উপভোগে আমরা মুগ্ধ হয়েছি।
পার্কে দায়িত্বে নিয়োজিত হাসিবুল আলম জানান, খোলা জায়গা ছাড়াও পার্কের সবুজ অরণ্যে অদৃশ্য হয়ে শত শত পর্যটন প্রকৃতি ও বৈচিত্র্য উপভোগ করেন। যথাসময়ে সন্ধ্যার দিকে তারা ফিরে যান। পার্কের নির্বাহী কর্মকর্তা চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের ডিএফও শফিকুল ইসলাম জানান, নানা আয়োজনে পার্ককে সাজানো হয়েছে। এছাড়া সর্বোপরি পার্কের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় পর্যটকবান্ধব করে তোলা হয়েছে। ফলে প্রকৃতিপ্রেমিদের জন্য পার্কটি উপভোগ্য হয়ে উঠেছে।