বেতাগীতে ভরা মৌসুমে ইলিশের খরা

বেতাগী (বরগুনা) সংবাদদাতা

জ্যৈষ্ঠ, আষাঢ়, শ্রাবণ, ভাদ্র, আশ্বিন এই পাঁচ মাস ইলিশের ভরা মৌসুম। কিন্তু উপকূলীয় বরগুনার বেতাগী উপজেলার বিষখালী নদীতে মিলছে না তেমন ইলিশ। বঙ্গোপসাগরেও ইলিশ ধরা পড়ছে খুবই কম। তাই বাজারে সামান্য পরিমাণ যে ইলিশ মিলছে, তার দাম নাগালের বাইরে। স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ীরা বলেন, এই সময়ে ইলিশ মাছে বাজারগুলো ভরা থাকার কথা। কিন্তু এবার পরিস্থিতি ভিন্ন।

জানা যায়, বঙ্গোপসাগর, বিষখালী ও বলেশ্বর নদীর ইলিশকে ঘিরেই এখানকার জেলেদের জীবন ও জীবিকার চাকা ঘুরছে। ইলিশের ভরা মৌসুম চললেও দেখা নেই রুপালি ইলিশের। গেল কয়েকদিনের বৈরী আবহাওয়া থাকায় জেলেরা সাগরে ঠিকমতো মাছ ধরতে পারছেন না। সাগর কিংবা নদীতে জাল ফেলে দু-একটা ইলিশের দেখা পেলেও তা হয়তো পরিবারের আহারেই চলে যায়। উপজেলার সদর ইউনিয়নের ক্যাওড়াবুনিয়া গ্রামের জেলে উজ্জ্বল হাওলাদার জানান, ‘ভরা মৌসুমেও বিষখালী নদীতে ইলিশের দেখা মেলেনি। যে মাছ প্রতিদিন পাই তাতে খরচের টাকাই ওঠেনি। এ মৌসুমে ইলিশ বিক্রির টাকা দিয়ে এনজিওর ঋণ পরিশোধ করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু ইলিশ ধরা না পড়ায় দেনাও শোধ করতে পারছি না। এখন পরিবার নিয়ে কষ্টে দিন কাটাতে হচ্ছে।’

গতকাল শুক্রবার বেতাগী পৌরবাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাজারে নেই পর্যাপ্ত ইলিশ। সামান্য যে ইলিশ ধরা হয়েছে তাও আকারে খুব বড় নয়। পৌরবাজারের মাছ ব্যবসায়ী মো. শাহিন বলেন, গত কয়েক দিনে মোকামে সাগরের ইলিশের আমদানি কমে গেছে। এছাড়া বিষখালী নদীতেও কম মাছ ধরা পড়েছে। তাই দাম অনেক বেড়ে গেছে। অনেক জেলে খুব কম পরিমাণ ইলিশ নিয়ে এলেও বেশির ভাগ ট্রলারই থাকে ইলিশ শূন্য।

উপজেলা মত্স্য সমিতির সভাপতি আব্দুর রব সিকদার বলেন, চাহিদার তুলনায় কম মাছ ধরা পড়ায় দাম বেড়েছে। তবে আবার বেশি মাছ ধরা পড়লে দামও কমবে। বেতাগী উপজেলা মত্স্য কর্মকর্তা মো. কামাল হোসেন বলেন, কিছু দিন আগে অমাবস্যার জো কেটে যাওয়ায় এখন তেমন একটা মাছ ধরা পড়ছে না। আবার সামনের পূর্ণিমার জো এলেই ইলিশ ধরা পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি আরো বলেন, এবারের এ মৌসুমে জেলেদের জালে কম ইলিশ ধরা পড়েছে। চাহিদা বেশি থাকায় দাম বেড়েছে। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি মণ গ্রেডের (বড় সাইজের) ইলিশের দাম ১০ হাজার টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে।