সমন্বয়হীনতায় কাজ হয়নি বেশির ভাগ ওয়ার্ডে

জলাবদ্ধতা নিরসনে কাউন্সিলরদের জন্য ডিএনসিসির বরাদ্দ

নিলয় মামুন

জলাবদ্ধতা নিরসনে জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় কাজ করতে প্রত্যেক কাউন্সিলরকে ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয় উত্তর সিটি করপোরেশন। গত ১০ জুন বোর্ড সভায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আতিকুল ইসলাম এ ঘোষণা দেন। পরে এ সংক্রান্ত একটি অফিস আদেশ থেকে জানা যায়, তাত্ক্ষণিক জলাবদ্ধতা নিরসন, নাগরিক দুর্ভোগ লাঘব, জরুরি রাস্তা মেরামত, পানি নিষ্কাশনের জন্য এ অর্থ কাউন্সিলরদের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তাদের মাধ্যমে দেওয়া হবে। তবে এ আদেশ জারি হওয়ার পর বর্ষাকাল শেষ হলেও অনেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর এখনো অর্থ পাননি। আবার অনেক কাউন্সিলর তা  পাওয়ার আশায় কাজ করালেও এখনো পাননি। কেউ কেউ ৪ লাখ টাকা পেয়ে কাজ করে প্রতিবেদন দিলেও পরবর্তী বরাদ্দের টাকা কবে পাবেন, তারা তা জানেন না। কাউন্সিলররা বলছেন, সমন্বয়ের অভাবে এভাবে কেউ টাকা পেয়েছে আবার কেউ পায়নি। আর এখনো বৃষ্টি হলে অনেক এলাকায় রাস্তায় পানি জমে। তাই টাকা ছাড় হতে এত দীর্ঘসূত্রিতা হলে তারা কাজ করবেন কখন। অন্যদিকে সিটি করপোরেশন বলছে, কাউন্সিলরদের জন্য সিটি করপোরেশন আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাছে টাকা দেওয়া হয়েছে। অনেক কাউন্সিলর সুনির্দিষ্ট কোনো পরিকল্পনা না দিতে পারায় টাকা পেতে দেরি হয়েছে।

জানা যায়, কোনো কোনো আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা ইতিমধ্যে কিছু কিছু ওয়ার্ডে ৪ লাখ টাকা করে দিয়েছেন। এরই মধ্যে তারা সেই টাকা দিয়ে কাজ শেষ করে প্রতিবেদন দিয়েছেন। কিন্তু পরবর্তী টাকা কবে পাবেন, তারা তা জানেন না। এ বিষয়ে ডিএনসিসির ৫০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ডি এম শামীম বলেন, এ পর্যন্ত তিনি ৪ লাখ টাকা পেয়েছেন। কাজ করে প্রতিবেদনও জমা  দিয়েছেন। বাকি টাকা কবে পাবেন  জানেন না।  যে কাজের জন্য টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সেটি নিশ্চিত করার জন্য এখনি টাকা দরকার। এ বিষয়ে ডিএনসিসির ৪৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আনিছুর রহমান নাঈম বলেন, গত ২০ জুলাই তিনি ৪ লাখ টাকার চেক পেয়েছেন। এই টাকায় পানি জমে থাকা রাস্তায় বালু-মাটিভর্তি বস্তা ফেলে হাঁটার ব্যবস্থা করেছেন। নালা পরিষ্কার করে জমে থাকা পানির পরিমাণ কমিয়ে আনা হয়েছে। তবে বাকি ৬ লাখ টাকা কবে পাবেন, তা জানেন না। বাকি টাকা যত দ্রুত পাবেন সে মোতাবেক আরো কিছু কাজ করবেন।  

অন্যদিকে ডিএনসিসির ৫৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর জাহাঙ্গীর হোসেন যুবরাজ বলেন, এ পর্যন্ত তিনি কোনো টাকা পাননি। ভাউচার জমা দিলে টাকা দেওয়া হবে বলে জেনেছেন। অন্যদিকে আরো কয়েকটি ওয়ার্ডে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সংশ্লিষ্ট কাউন্সিলররা এখনো বরাদ্দের টাকা পাননি। তাই কাজও শুরু হয়নি। কবে পাবেন তা জানেন না। এ বিষয়ে অঞ্চল-১০ এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাসুদ হোসেন বলেন,  টাকা হস্তান্তর করার প্রক্রিয়া চলছে। ধাপে ধাপে সব টাকা দেওয়া হবে। এ বিষয়ে ডিএনসিসির সচিব মোহাম্মদ মাসুদ আলম ছিদ্দিক বলেন,  বরাদ্দকৃত টাকা আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে এই টাকা কাউন্সিলরদের দেওয়ার কথা। এর বেশি তিনি কিছু বলতে অস্বীকৃতি জানান।