খুলনায় ২০০ কৃষকের ভাগ্য বদল
এনামুল হক, খুলনা অফিস
খুলনার রূপসা উপজেলার ৩০টি গ্রামে চাষ হচ্ছে উচ্চ ফলনশীল সাতটি জাতের শসা। বিস্তীর্ণ বিল জুড়ে শুধুই সবুজে ঘেরা শসাখেত। ঘেরের পাড়ে সারি সারি মাচায় ঝুলছে শসা আর শসা। এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় শসার বাম্পার ফলন হয়েছে। বাজারে ভালো দামও মিলছে। শসা চাষ বদলে দিয়েছে গ্রামগুলোর চিত্র। এতে করে ভাগ্য খুলেছে রূপসা উপজেলার প্রায় ২০০ কৃষক পরিবারের। তাদের মুখে এখন খুশির ঝিলিক।
রূপসা উপজেলা কৃষি অফিসের সূত্র জানায়, এ বছর রূপসা উপজেলার দুর্জ্জনীমহল, ডোমরা, চন্দনশ্রী, বাধাল, ভবানীপুর, পেয়ারা, জাবুসা, আমদাবাদ, দেবীপুর, নৈহাটী, সামন্তসেনা, তিলক, খাজাডাঙ্গা, পাথরঘাটা, স্বল্পবাহিরদিয়া, আলাইপুর, পুটিমারী, আনন্দনগর, পিঠাভোগ, গোয়ালবাড়িরচর, সিন্দুরডাঙ্গা, নারিকেলী চাঁদপুর, ডোবা, বলটি, নতুনদিয়া, ধোপাখোলা, গোয়াড়া, শিয়ালী, চাঁদপুর ও বামনডাঙ্গা গ্রামের মাছের ঘেরের পাড়ে প্রায় ২৫০ হেক্টর জমিতে শসা চাষ হয়েছে। তবে সবচেয়ে বেশি জমিতে শসা চাষ হয়েছে ঘাটভোগ ইউনিয়নের গ্রামগুলোতে। ঘেরের পাড়ে শসা চাষ করে কম সময়ে অধিক ফলন ও ভালো দাম পেয়ে এসব গ্রামের কৃষকরা খুব খুশি। মূলত ঘেরের পাড়ে শসা চাষ পালটে দিয়েছে রূপসা উপজেলার অন্তত ৩০টি গ্রামের আর্থ-সামাজিক চিত্র।
অপরদিকে ঘেরের পাড়ে উত্পাদিত শসা কেনাবেচার জন্য গ্রামে গ্রামে গড়ে উঠেছে শসার মৌসুমি আড়ত। স্থানীয়ভাবে এ আড়তকে ‘গালা’ বলা হয়। তাই শসা বিক্রি করতে সাধারণত পরিবহন খরচ লাগে না। কৃষকেরা খেত থেকে শসা তুলে এনে আড়তে বিক্রি করেন। শসা চাষে নারী ও বেকার যুবকসহ স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদেরও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়েছে। শসা পরিবহনে মিলেছে এলাকার ভ্যানগাড়ি ও অটোটেম্পো চালকদেরও আয়। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এখানকার শসা ট্রাকযোগে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় চলে যাচ্ছে। স্থানীয় বাজারের ক্রেতারা টাটকা শসা কিনতে পেরে খুশি।
উপজেলার আনন্দনগর গ্রামের শসাচাষি মো. টিপু সুলতান বলেন, ‘এ বছর মত্স্য ঘেরের পাড়ে এক বিঘা জমিতে গ্রিন লাইন নামক হাইব্রিড জাতের শসা চাষ করেছি। এতে বীজ, সার, মাচা তৈরি, শ্রমিক ও কীটনাশক বাবদ প্রায় ১৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। ইতিমধ্যে মণপ্রতি ৭০০ টাকা করে ২০ মণ শসা স্থানীয় আড়তে পাইকারি ব্যবসায়ীদের কাছে ১৪ হাজার টাকায় বিক্রি করেছি। আরো প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকার শসা বিক্রি করতে পারব বলে আশা করছি।’
পুটিমারী গ্রামের কৃষক মো. শহিদুল শেখ বলেন, ‘ঘেরের পাড়ে চার বিঘা জমিতে শসা চাষ করতে ৩০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। ৮০০ টাকা মণ দরে এ পর্যন্ত ১০০ মণ শসা ৮০ হাজার টাকায় বিক্রি করেছি। এরকম দাম থাকলে আরো ১৫ থেকে ১৬ হাজার টাকার শসা বিক্রি করতে পারব।’
রূপসার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. আবদুর রহমান বলেন, অন্য ফসলের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি লাভ হওয়ায় মত্স্য ঘেরের পাড়ে শসা চাষে ঝুঁকে পড়েছেন এখানকার কৃষকেরা। তাই গত চার বছরে রূপসা উপজেলার অনন্ত ৩০ গ্রামে ঘেরের পাড়ে শসা উত্পাদনের এ কর্মযজ্ঞ ছড়িয়ে পড়েছে। রূপসা উপজেলা কৃষি অফিসার মো. ফরিদুজ্জামান বলেন, উপজেলার প্রতিটি ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাগণ চাষিদের পাশে থেকে সার্বক্ষণিক পরামর্শ দিয়ে চলেছেন।