বাড়ছে না বিপিসির এলপি গ্যাস উত্পাদন
মুহাম্মদ নিজাম উদ্দিন,চট্টগ্রাম অফিস
চট্টগ্রামে পতেঙ্গায় বিপিসি’র এলপি গ্যাসের কারখানা গড়ে উঠেছে দুষ্টচক্র। তারা অনিয়মের মাধ্যমে কারখানা থেকে এলপি গ্যাস কিনে চড়া দামে বিক্রি করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গত এক বছর যাবত সিলেটের কৈলাশটিলা প্ল্যান্ট বন্ধ থাকায় বিপিসি’র এলপিজি উত্পাদন এমনিতে কমে গেছে। বিগত সময়ে কারখানা থেকে সাড়ে ৩ হাজার কার্ডধারীর কাছে এলপিজি বিক্রি নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠায় এখন বন্ধ রাখা রাখা হয়েছে। তবে বিশেষ বরাদ্দের নামে চট্টগ্রামের কারখানা থেকে এখনো দৈনিক ২/১ গাড়ি এলপি গ্যাস বিক্রি করা হচ্ছে বলে বিপিসি’র পরিবেশকরা অভিযোগ করেছেন। এলপিজি কর্মকর্তারা জানান, কার্ডধারীদের বরাদ্দের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে বিপিসি একটি কমিটি গঠন করেছে। তবে বিশেষ বরাদ্দের মাধ্যমে বিক্রির বিষয়টি অস্বীকার করেছেন তারা।
বিপিসি’র ডিলারদের অভিযোগ সীমিত উত্পাদন এলপিজি বাজারজাত নিয়ে ভাগভাটোয়ারা চলছে। বিপিসি’র এলপিজি তেল বিপলন কোম্পানি গুলোর মাধ্যমে বাজারজাত করার কথা থাকলেও কারখানা থেকে বিশেষ প্রক্রিয়ায় আসাধু ব্যবসায়ী ও প্রশাসনের লোকজনের যোগসাজসে গ্যাস বিক্রি করা হচ্ছে। বিগত সময়ে সাড়ে ৩ হাজার কার্ডধারীকে মাসে দুটি সিলিন্ডার গ্যাস বিক্রি করা হতো। এই প্রক্রিয়ায় মাসে ৭ হাজার সিলিন্ডার গ্যাস পতেঙ্গায় এলপিজি’র কারখানা থেকে বিক্রি হয়ে আসছে। বিষয়টি নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠায় গত কিছুদিন যাবত এই প্রক্রিয়ায় গ্যাস বিক্রি বন্ধ রয়েছে। তবে এখন বিশেষ বরাদ্দের নামে গ্যাস বিক্রি নতুন প্রক্রিয়ায় দৈনিক ২/১ ট্রাক এলপিজি বিক্রি হচ্ছে বলে পরিবেশকরা অভিযোগ করেছেন। ফলে অনুমোদিত পরিবেশকরা আশানুরুপ গ্যাস বরাদ্দ পাচ্ছে না।
চট্টগ্রামে বিপিসি’র অনুমোদিত প্রায় ৩৫০ জন ডিলার রয়েছে। তারা বিপিসি’র এলপিজি গ্যাস বিপণনে অনিয়মের অভিযোগ তুলেছে। এলপি গ্যাস পরিবেশক সমিতি চট্টগ্রামের সভাপতি মো. খোরশেদুর রহমান বলেন, ‘আমরা ডিলাররা প্রতি মাসে মাত্র ২৫ বোতল এলপি গ্যাস বরাদ্দ পাচ্ছি। কার্ডধারীদের সরবরাহ আপাতত বন্ধ থাকলেও বিশেষ প্রক্রিয়ায় এলপিজি কারখানা থেকে দৈনিক ২/১ ট্রাক এলপিজি সিলিন্ডার সরবরাহ দেয়া হচ্ছে। যা সম্পূর্ণ অবৈধ। কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ও প্রশাসনের লোকজন এর সাথে জড়িত। যার ফলে বিপিসি’র পরিবেশকদের বরাদ্দ কমে গেছে।’
সংশ্লিষ্টরা জানান, সিলেটের কৈলাশটিলা প্ল্যান্ট চালু করা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। বিপিসি’র কর্মকর্তারা এই প্ল্যান্টের আশার আলো দেখছেন না। এব্যাপারে বিপিসি’র পরিচালক (অর্থ ও বিপণন) কাজী মো. মোজাম্মেল হক ইত্তেফাককে বলেন, কৈলাশটিলা প্ল্যান্ট হয়ত লে-অপ হয়ে যেতে পারে। আর কার্ডধারীদের এলপি গ্যাস সরবরাহ নিয়ে একটি কমিটি গঠিত হয়েছে। কমিটির রিপোর্ট এখনো হাতে আসেনি।’
সংশ্লিষ্টরা জানান,সিলেটের গোপালগঞ্জে রুপান্তরিক প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের(আরপিজিসিএল) অধীনে কৈলাশটিলা এলপিজি প্ল্যান্ট নির্মাণ করা হয়। পরবর্তীতে এই প্ল্যান্টের নিকটে আরেকটি এনজিএল ও কনডেনসেট ফ্রাকশনেশন প্ল্যান্ট টার্ন-কী ভিত্তিতে স্থাপন করা হয়। এই প্ল্যান্টে সিলেটের গ্যাস ফিন্ড গুলো থেকে কনডেনসেট এনে পরিশোধন করে এলপিজিতে রুপান্তরিত করে। পরে এসব গ্যাস পাশের বটলিং প্ল্যান্টে নিয়ে বটলিং করে বাজারজাত করা হয়। কিন্তু মানসম্মত গ্যাস উত্পাদিত না হওয়ায় সরকারি ভাবে আরপিজিসিএল’র এই প্ল্যান্ট গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে বন্ধ করে দেয়া হয়। এতে গ্যাস সংকটে পড়ে কৈলাশটিলা এলপিজি প্ল্যান্ট।
জানতে চাইলে এলপি গ্যাস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আবু হানিফ ইত্তেফাককে বলেন, উত্পা;ন কমে যাওয়ায় আমরা দৈনিক ৪ হাজার সিলিন্ডার এলপিজি বাজারজাত করছি। এসব গ্যাস ইস্টার্ন রিফাইনারী প্ল্যান্ট থেকে উত্পাদন করা হচ্ছে। তবে ওভারটাইম দিলে বিকাল ৫টার পর কায়ক্রম চালু রেখে উত্পাদন বাড়ানো যেতে পারে।তবে ওভারটাইমের বিষয়টি বিপিসিকে অনুমোদন দিতে হবে। কার্ডধারীদের এখন এলপিজি বিক্রি বন্ধ রয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিশেষ বরাদ্দের নামে কোন গ্যাস বিক্রি হচ্ছে না।’
বিপিসি’র সাড়ে ১২ কেজি ওজনের প্রতি সিলিন্ডার গ্যাস ৫১১ টাকা দরে এলপি গ্যাস লিমিটেড বিক্রি করেন। পরে তেল বিপণন কোম্পানি গুলো প্রতি বোতল ৫৬১ টাকা দরে এবং ডিলারগণ ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি বোতল গ্যাস ৫৯১ টাকা দরে বিক্রি করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। অন্যদিকে বেসরকারি কোম্পানি গুলোর এলপিজি সিলিন্ডারের দাম আরো কয়েকশত টাকা বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে এবং ওজনে এসব বোতলে ১২ কেজি গ্যাস রয়েছে।