প্রকল্পের সভাপতি নিজেই জানতেন না তিনি সভাপতি
মো. কামরুল ইসলাম সোহাগ, দশমিনা (পটুয়াখালী) সংবাদদাতা
পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় ২০২০-২১ অর্থবছরে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) মাধ্যমে দুইটি প্রকল্পের কাজ না করেই এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (এডিবির) প্রায় ৪ লাখ টাকা উত্তোলন করে নেওয়া হয়েছে। কিন্তু ঐ প্রকল্প দুটি বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি (সিপিসি) নিজেরাই জানতেন না তারা প্রকল্পের সভাপতি। ঐ দুটি প্রকল্পের মাধ্যমে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্রীড়াসামগ্রী ও গরিব অসহায় নারীদের মধ্যে সেলাই মেশিন বিতরণ করার কথা ছিল।
সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, ২০২০-২১ অর্থবছরে এডিবির অর্থায়নে প্রায় ৪ লাখ টাকা ব্যয়ে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্রীড়াসামগ্রী বিতরণ ও গরিব অসহায় নারীদের মধ্যে সেলাই মেশিন বিতরণের নামে দুটি প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়। ঐ প্রকল্প দুটির সভাপতি (সিপিসি) করা হয় উপজেলার আলীপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. আফজাল হোসেন ও দশমিনা সদর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. দেলোয়ার হোসেন সিকদারকে। নিয়ম অনুযায়ী গত ৩০ জুন প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু কাজ না করেই প্রকল্প সভাপতিদের স্বাক্ষর নিয়ে ঐ দুটি প্রকল্পের বরাদ্দকৃত অর্থ প্রকল্প উত্তোলন করে নেওয়া হয়েছে। উপজেলা প্রকৌশলী মো. মোকবুল হোসেনের কাছে স্থানীয় সংবাদকর্মীরা এ বিষয়ে জানতে গেলে তিনি ইউএনওর কাজ তাই তথ্য দেওয়া যাবে না বলে গড়িমসি করে ফিরিয়ে দেন। তিনি আরো বলেন, ইউএনও এবং উপজেলা চেয়ারম্যান না বললে তথ্য দেওয়া যাবে না। সংবাদকর্মীরা বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্য এস এম শাহজাদাকে অবহিত করলে তিনি উপজেলা প্রকৌশলীকে তথ্য দেওয়ার কথা বলে দেন। কিন্তু উপজেলা প্রকৌশলী স্থানীয় এমপির কথায় কর্ণপাত করেননি।
সেলাই মেশিন বিতরণ প্রকল্পের সভাপতি দেলোয়ার হোসেন জানান, ‘ঠিকাদার মো. মিজানুর রহমানের (পঞ্চম আলী) কথায় স্বাক্ষর দিয়েছি। তবে কাজ হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি (পঞ্চম আলী) বলেন, কাজ শেষ হয়েছে।