সন্ত্রাসী আলেকীন গ্রুপের কর্মকাণ্ডে আতঙ্কে
উখিয়া-টেকনাফের বাসিন্দারা
রফিক উদ্দিন বাবুল, উখিয়া (কক্সবাজার) সংবাদদাতা
২০১৯ সালের মে মাসের প্রথম দিকে খুন হন রোহিঙ্গা নেতা আরিফুল্লাহ। তাকে খুন করে রোহিঙ্গাদেরই একটি সন্ত্রাসী গ্রুপ। আরিফুল্লাহ অটোরিকশাযোগে পালংখালী থেকে কক্সবাজার যাওয়ার পথে বালুখালী ঢালে আলেকীন গ্রুপের অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা অটোরিকশার গতিরোধ করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে তাকে হত্যা করে। ঘটনাটি স্থানীয় লোকজনসহ রোহিঙ্গারা প্রত্যক্ষ করলেও সন্ত্রাসীদের ভয়ে আরিফুল্লাহকে বাঁচাতে কেউ এগিয়ে যায়নি। তার মৃত্যুর ঘটনায় উখিয়া-টেকনাফের বৃহত্তর রোহিঙ্গা ও স্থানীয়দের মধ্যে দেখা দিয়েছে আতঙ্ক, উদ্বেগ-উত্কণ্ঠা। রোহিঙ্গাদের দাবি এলাকায় আলেকীন গ্রুপের আধিপত্য বিস্তারের লক্ষ্যেই আরিফুল্লাহকে হত্যা করা হয়েছে।
রোহিঙ্গা নেতাদের মতে, আরিফুল্লাহ জীবিত থাকলে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কোনো দল বা সংগঠনের পক্ষে অনধিকার চর্চা অথবা রোহিঙ্গাদের উপর অত্যাচার, নিপীড়ন, চাঁদাবাজি- কোনো কিছুই করা সম্ভব ছিল না।
মে মাসেরই মাঝামাঝি সময়ে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা গভীর রাতে কুতুপালং ক্যাম্পে হামলা চালিয়ে মাটির গুদামঘর ভেঙে মাওলানা আব্দুল্লাহ ও মাওলানা মুহাম্মদ হাসেম নামে দুই জন রোহিঙ্গা নেতাকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। এসময় তাদের রক্ষায় কোনো রোহিঙ্গা এগিয়ে যায়নি। উপরন্ত সন্ত্রাসীদের ভয়ে যে যেদিকে পারে পালিয়ে আত্মরক্ষা করেছে। দুই দিন পর দুই জনের গলাকাটা লাশ স্থানীয়রা মাসকারিয়া খাল থেকে উদ্ধার করে। এ ঘটনায় উখিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা রুজু করা হয়।
জানা গেছে, সন্ত্রাসী আলেকীন গ্রুপের ভয়ে অনেক রোহিঙ্গা নেতা ক্যাম্প ছেড়ে অন্যত্র বসবাস করছেন। স্থানীয় বাসিন্দা আবুল হাসিম, সিরাজ উল্লাহসহ অনেকেই জানান, রোহিঙ্গাদের একটি অংশ এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের লক্ষ্যে খুন, ডাকাতি, অপহরণের ঘটনা ঘটিয়ে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অরাজক পরিস্থিতির সৃষ্টি করলেও তাদের প্রতিরোধে কেউ এগিয়ে আসছে না।
রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ভেতরে ও আশেপাশে বসবাসকারী স্থানীয় বাসিন্দা আশরাফ আলী, আলী আকবরসহ অনেকে জানান, কিছু সংখ্যক রোহিঙ্গা রাতের বেলায় অস্ত্রসহ রোহিঙ্গাদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে চাঁদা আদায় করছে, জোর করে নিয়ে যাচ্ছে ঘরের মূল্যবান সামগ্রী। তারা স্থানীয়দের কোনোরকম তোয়াক্কাই করছে না। প্রতিবাদ করলে অপহরণ করে লাশ গুম করে ফেলবে—এই ভয়ে স্থানীয়রা কেউ বিষয়টিতে জড়াচ্ছেন না।
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অপরাধ দমনে নিয়োজিত আর্মড পুলিশ (এপিবিএন)-৮ সম্প্রতি উখিয়ায় কর্মরত সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় কালে বলেছেন, স্থানীয় বৃহত্ জনগোষ্ঠীর জানমাল রক্ষায় এপিবিএ পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে।
এপিবিএনের কমান্ডিং অফিসার শিহাব কায়সার বলেন, ক্যাম্পে রোহিঙ্গারা মাদক, ইয়াবা, চোরাচালান, অপহরণ ও খুনখারাবিতে লিপ্ত। ক্যাম্পের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় তথ্যবহুল সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করেছেন আর্মড পুলিশ ব্যাটেলিয়নের কর্মকর্তারা। তারা বলেন, ভবিষ্যতে রোহিঙ্গারা আরো জঘন্য অপরাধের দিকে ধাবিত হতে পারে। তাই এখন থেকে আমাদের সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।