পরিকল্পিতভাবে উন্নয়ন কাজ করা গেলে মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন নিশ্চিত হয় ------- আনোয়ার হোসেন মঞ্জু

জাতীয় পার্টি-জেপির চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এমপি বলেছেন, পরিকল্পিতভাবে উন্নয়ন কাজ করা গেলে মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন নিশ্চিত হয়। স্বাধীনতার পরের রাজনীতি এবং পরাধীন আমলের রাজনীতির মধ্যে পার্থক্য থাকতে হবে। অতীতের মতো ঐক্যবদ্ধ থাকলে এলাকার ন্যায্য হিস্যা অবশ্যই আমরা আদায় করতে সক্ষম হবো।

তিনি গতকাল শনিবার রাতে পিরোজপুর জেলার ভাণ্ডারিয়া উপজেলার নদমূলা মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে স্থানীয় জনসাধারণের সাথে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে আরো বলেন, ৩৬ বছর ধরে আমি আপনাদের মাঝে আছি। এই সময়কালে এলাকার মানুষের কাছ থেকে যেসব সমস্যার কথা শুনেছি, দাবি-দাওয়ার কথা শুনেছি তা হলো রাস্তা-ঘাট প্রয়োজন, বিদ্যুত্ প্রয়োজন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রয়োজন। এখন সবাই চাকরির কথা বলেন,      চাকরি মানে কর্মসংস্থানের দাবি। অতীতে যেসব উন্নয়ন কাজ হয়েছে তা হলো অবকাঠামোগত উন্নয়ন, এখন প্রয়োজন শিক্ষিত বেকার ছেলেদের জন্য কাজ। এর জন্য আমাদের পরিকল্পিতভাবে এগোতে হবে। মনে রাখতে হবে নতুন প্রজন্মের কর্মসংস্থান দিতে না পারলে যে বেকারত্বের ঢেউ সৃষ্টি হবে তা সামাল দেওয়া কঠিন হবে। আমরা সব সময় মানুষের ভাগ্য উন্নয়নের চেষ্টায় সক্রিয় ছিলাম। বাংলাদেশে যতদিন নির্বাচন ব্যবস্থা থাকবে, যতদিন মানুষ ভোট দিতে সক্ষম হবে, ততদিনই ভাণ্ডারিয়ার মানুষ আমাদের পক্ষে থাকবে। আগামীতে ভাণ্ডারিয়ায় নতুন নেতৃত্ব আসবে। যা আগামী দিনে ভাণ্ডারিয়াসহ এ অঞ্চলে রাজনীতিতে নতুন ধারা, উন্নয়নের নতুন অধ্যায় সৃষ্টি করবে।

তিনি আরো বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনা কোনো জমিদারি প্রথা নয়। দেশটা জনগণের পয়সায় চলে। জনগণের আকাঙ্ক্ষা ও চাহিদার প্রতি লক্ষ্য রেখে কাজ করতে হবে। এলাকায় কোনো ভ্রান্ত বা ত্রুটিপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে কারো সংশ্লিষ্টতা কাম্য নয়। ঢাকায় যারা থাকেন তারা আমাদের উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে যেন কোনো প্রশ্ন তুলতে না পারেন। কাজটা যাতে সুন্দরভাবে সম্পন্ন করা যায় তার জন্য প্রকল্প বাস্তবায়নে মনোযোগী, সতর্ক ও আন্তরিক হতে হবে। আমরা চেষ্টা করি যাতে কোনো অন্যায় কাজ না হয়। আমাদের দ্বারা এখানকার মানুষ বিগত ৩৬ বা ৩৮ বছরে অত্যাচারিত হয়নি। আমরা এলাকার মানুষের সাথে ভালো ব্যবহার করে এসেছি। তাই এলাকার মানুষ সব সময় আমাদের সাথে আছে। আমাদের প্রতি মানুষের এই ঐক্যবদ্ধ সমর্থনই এলাকার উন্নয়ন বরাদ্দ আনয়নে কেন্দ্র থেকে সুনজর নিশ্চিত করেছে। আমাদের এ এলাকায় জলোচ্ছ্বাস, নদীভাঙন, লবণাক্ততা রোধে ৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ের বেড়িবাঁধ প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। পাশাপাশি বাংলাদেশের মধ্যে উপকূলীয় এই ঘূর্ণিঝড়প্রবণ ভাণ্ডারিয়া এলাকায় বেশি বেশি সাইক্লোন শেল্টার নির্মাণ করতে সক্ষম হয়েছি। এই জন্য আল্লাহর প্রতি আমাদের শুকরিয়া আদায় করতে হবে। আপনারা দোয়া করবেন যাতে যতদিন বেঁচে থাকব আল্লাহর ইচ্ছা ও রহমতে ততদিন যেন মানুষের সেবা করতে পারি। আপনারা সুখে থাকবেন, শান্তিতে থাকবেন এই দোয়া করি। এলাকার ছেলেমেয়েরা যাতে লেখাপড়া করে মানুষের মতো মানুষ হয় তার জন্য চেষ্টা থাকতে হবে। পাশাপাশি মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

নদমূলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি শাহজাহান তালুকদার এই মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ভাণ্ডারিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান মিরাজুল ইসলাম, ইউএনও সীমা রানী ধর, নদমূলা ইউপি চেয়ারম্যান মেজবাহ উদ্দিন আরিফ জোমাদ্দার, উপজেলা জেপির সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক ও পৌর কাউন্সিলর গোলাম সরওয়ার জোমাদ্দার, উপজেলা জেপির সদস্য সচিব ও ধাওয়া ইউপি চেয়ারম্যান সিদ্দিকুর রহমান টুলু, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফয়জুর রশীদ খসরু জোমাদ্দার, আওয়ামী লীগ নেতা এমরান হোসেন তালুকদার প্রমুখ।

বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধন, ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও  পরিদর্শন

জাতীয় পার্টি-জেপির চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এমপি গতকাল শনিবার গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি উন্নয়নমূলক কাজের পৃথকভাবে উদ্বোধন, ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও পরিদর্শন করেন। এসব নির্মাণকাজ দেশের দক্ষিণাঞ্চলে আয়রন ব্রিজ পুনর্নির্মাণ, পুনর্বাসন প্রকল্প, বিশ্বব্যাংক সহায়তাপুষ্ট এলজিইডির অধীনে ‘বহুমুখী দুর্যোগ আশ্রয়কেন্দ্র প্রকল্প’ ও ‘গুরুত্বপূর্ণ পল্লি অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প : বরিশাল, ঝালকাঠি ও পিরোজপুরভুক্ত। পাশাপাশি শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের আওতায় কয়েকটি প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন।

গতকাল যেসব নির্মাণকাজের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয় সেগুলো হচ্ছে—বড় কানুয়া সরকারি বিদ্যালয়ে ‘বহুমুখী ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র’ নির্মাণকাজ, ভাণ্ডারিয়া জিসি, ভাণ্ডারিয়া বাসস্ট্যান্ড-আরএসডি স্টিলব্রিজ ভায়া ভাণ্ডারিয়া লঞ্চঘাট সড়কে ২৩ মিটার দৈর্ঘ্যের আরসিগার্ডার ব্রিজ পুনর্নির্মাণ কাজ, ভাণ্ডারিয়া-কাউখালী সওজ সড়ক-কাপালিরহাট সড়কে ১৪ মিটার দৈর্ঘ্য আরসিসি গার্ডার ব্রিজ নির্মাণকাজ, ভাণ্ডারিয়া-কাউখালী আরএসডি সড়ক কাপালিরহাট জিসি সড়কে ১৮ মিটার দৈর্ঘ্যের আরসিসি গার্ডার ব্রিজ নির্মাণকাজ।

আরো যেসব প্রকল্পের নির্মাণকাজের উদ্বোধন করা হয় তাহলো-বরিশাল আঞ্চলিক মহাসড়ক কাপালিরহাট জিসি ভায়া ১১ নম্বর সরকারি বিদ্যালয় সড়কে ১৭ মিটার দৈর্ঘ্যের আরসিসি গার্ডার ব্রিজ নির্মাণকাজ, কাপালিরহাট জিসি-ভাণ্ডারিয়া আরএসডি (সরদার বাড়ি ব্রিজ) ভায়া চিংগুরিয়া বাজার সড়কে ১২ মিটার দৈর্ঘ্যের আরসিসি গার্ডার ব্রিজ পুনর্নির্মাণকাজ ও ভিটাবাড়িয়া ইউপি অফিস-কাপালিরহাট ভায়া তহশিল অফিস সড়কে ১৮ মিটার আরসিসি গার্ডার ব্রিজ পুনর্নির্মাণকাজ। এছাড়া যেসব প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয় তাহলো ৮ নম্বর ভিটাবাড়িয়া হাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ‘বহুমুখী ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র’ নির্মাণ ও ১৭ নম্বর নদমূলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ‘বহুমুখী ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র’ নির্মাণ। পাশাপাশি নদমূলা ইউপি-নদমূলা মাদ্রাসা হাট ভায়া চিংগুরিয়া-কালোনি বাজার সড়কে ২৩ মিটার দৈর্ঘ্যের আরসিসি গার্ডার ব্রিজ নির্মাণ ও চিংগুরিয়া এনআইএইস মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের চার তলা ভিতবিশিষ্ট নবনির্মিত একাডেমি ভবনের উদ্বোধন করা হয়।

এসব কর্মসূচিতে পৃথকভাবে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এমপি দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন।  এ সময় আরো অংশ নেন ভাণ্ডারিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান মিরাজুল ইসলাম, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সীমা রানী ধর, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মশিউর রহমান মৃধা, উপজেলা প্রকৌশলী বদরুল আলম, উপজেলা জেপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও পৌর কাউন্সিলর গোলাম সরওয়ার জোমাদ্দার, উপজেলা জেপির সদস্যসচিব ও ধাওয়া ইউপি চেয়ারম্যান সিদ্দিকুর রহমান টুলু, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফয়জুর রশীদ খসরু জোমাদ্দার, টুঙ্গীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা হাফিজুর রশীদ তারিক, ভিটাবাড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান খান এনামুল করিম পান্না, ভিটাবাড়িয়া ইউনিয়ন জেপির সভাপতি আব্দুল হালিম শরীফ, সাধারণ সম্পাদক রেজা আহম্মেদ দুলাল প্রমুখ।

এছাড়া শনিবার রাতে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এমপি ধাওয়া ইউনিয়নে এলজিইডির ‘বহুমুখী ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র’ প্রকল্পের আওতায় ৬৩ নম্বর ধাওয়া-রাজপাশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন।