ইত্তেফাক রিপোর্ট
দেশের সব মানুষের জনতাত্ত্বিক ও বায়োমেট্রিক তথ্যসহ একটি বিশদ ও স্বয়ংসম্পূর্ণ তথ্যভান্ডার তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জাতীয় জনসংখ্যা নিবন্ধীকরণ (এনপিআর) নামে এই তথ্যভান্ডারে শূন্য থেকে শুরু করে সব বয়সি মানুষের তথ্য থাকবে। এতে একজন মানুষের তথ্য প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম পর্যন্ত সংরক্ষিত থাকবে। গতকাল রবিবার এনইসি সম্মেলন কক্ষে ন্যাশনাল পপুলেশন রেজিস্ট্রার (এনপিআর) বিষয়ক কর্মশালায় এ তথ্য জানানো হয়। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, আমরা প্রথম বারের মতো জাতীয় জনসংখ্যা নিবন্ধীকরণ (এনপিআর) নামে বিশদ তথ্যভান্ডার তৈরিতে কাজ করছি। আমাদের অনেক চ্যালেঞ্জ নিতে হবে। ওভারলেপিং (দ্বৈততা) এ ধরনের প্রকল্পে সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়। এতে সময় ও রাষ্ট্রের অর্থ অপচয় হয়। এই প্রকল্পে এমন যেন না হয় সেদিকে নজর দিতে হবে। এনপিআরে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মের তথ্য থাকবে। এ তথ্য যেন বেহাত না হয়, মানুষ যাতে বেকায়দায় না পড়ে সেজন্য আমাদের সচেতন থাকতে হবে।
পরিকল্পনামন্ত্রী আরো বলেন, প্রাইভেসি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সে দিকেও আমাদের নজর রাখতে হবে। এখন এমন সব কোম্পানি গড়ে ওঠেছে যারা আমাদের ঘরের সব খবর জানে। তারা আমাদের তথ্য ব্যবহার করে অনেক পয়সা কামাচ্ছে। এনপিআরে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মের তথ্য থাকবে। এ তথ্য যেন বেহাত না হয়, মানুষ যাতে বেকায়দায় না পড়ে সেজন্য আমাদের সচেতন থাকতে হবে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) আয়োজিত এ কর্মশালায় বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম। কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব মুহাম্মদ ইয়ামিন চৌধুরী। পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম বলেন, জনশুমারি আর এনপিআর দুটো আলাদা বিষয়। এনপিআরে জনশুমারির চেয়ে আরো বিস্তৃত তথ্য থাকবে। এখানে নাগরিকের ২৯ ধরনের তথ্য জমা থাকবে। সরকার তার নিজের প্রয়োজনে এসব তথ্য ব্যবহার করবে। যাতে যে কোনো ধরনের সিদ্ধান্ত খুব সহজে নেওয়া যায়। অন্য কারো জন্য এই তথ্য উন্মুক্ত থাকবে না। কর্মশালায় জানানো হয়, বর্তমানে দেশে ১৮ বছরের বেশি নাগরিকদের জাতীয় পরিচয় পত্র রয়েছে; কিন্তু এর নিচে নাগরিকদের কোনো তথ্যভান্ডার নেই। এ তথ্যভান্ডারের মাধ্যমে সব ধরনের জনমিতি পরিসংখ্যান, আগমন-বহির্গমন, জন্ম-মৃত্যু, বিবাহ-তালাক ইত্যাদির রিয়েল টাইম তথ্য-উপাত্ত থাকবে।