খুনের নির্দেশদাতা হলেও চার্জশিটে নাম নেই

আওয়ামী লীগ নেতা ফরহাদ আলী হত্যা মামলার চার্জশিট দিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। ভারতে আত্মগোপন করা রাজধানীর অন্যতম শীর্ষ সন্ত্রাসী নরোত্তম সাহা আশিকসহ ৯ জনকে আসামি করা হয়েছে এতে। তবে অপরাপর আসামিদের জবানবন্দিতে এ হত্যাকাণ্ডের মূল নির্দেশদাতা হিসেবে যার নাম এসেছে সেই শীর্ষ সন্ত্রাসী মেহেদী হাসানের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে চার্জশিট থেকে।

পুলিশ বলেছে, মেহেদী হাসানের ঠিকানা না পাওয়ায় চার্জশিট থেকে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তবে ভবিষ্যতে মেহেদীর ঠিকানা পাওয়া গেলে সম্পূরক চার্জশিট দেওয়া হবে।

এদিকে, মামলার বাদী নিহত ফরহাদের স্ত্রী মুর্শিদা বেগম গত বুধবার আদালতে চার্জশিটের বিরুদ্ধে নারাজি আবেদন করেন। আবেদনে বাদী অভিযোগ করেছেন, শীর্ষ সন্ত্রাসী মেহেদীর ঠিকানা জানা সত্ত্বেও পুলিশ চার্জশিটে ঠিকানা না পাওয়ার কথা উল্লেখ করেছে। এছাড়া এই হত্যার সঙ্গে মানিক ও আরেক আরিফ জড়িত রয়েছে; কিন্তু তাদের নামও উল্লেখ করা হয়নি।

আদালত শুনানি শেষে মেহেদীর নাম অন্তর্ভুক্ত করার জন্য ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশকে নির্দেশ দেয়। বাকি দুই জনের নাম আসামিদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে      না থাকায় আদালত নাম দুটি বাদ দেওয়ার নির্দেশ দেয়। প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালের ১৫ জুন উত্তর বাড্ডার পিরু সরণির বায়তুস সামাদ জামে মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়ে বের হওয়ার পর শত শত মুসল্লির সামনে সন্ত্রাসীরা বাড্ডা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ফরহাদ আলীকে মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে গুলি করে হত্যা করে। 

হত্যার নির্দেশদাতা হিসেবে মেহেদীর নাম নিশ্চিত হওয়ার পরও চার্জশিটে কেন তার নাম অন্তর্ভুক্ত হয়নি—জানতে চাইলে পুলিশের সাবেক আইজি এ কে এম শহীদুল হক বলেন, একজন শীর্ষ সন্ত্রাসীর নাম ও ঠিকানা সবাই জানে। পুলিশ সন্ত্রাসীদের যে তালিকা করে সেখানে পূর্বের ঠিকানা উল্লেখ করা হয়। এ মামলার ক্ষেত্রে আসামির বাবার নাম ও পৈতৃক ঠিকানা উল্লেখ করে চার্জশিটে বলতে হতো যে, ঐ শীর্ষ সন্ত্রাসী বিদেশে আত্মগোপন করে আছে। এভাবে একজন শীর্ষ সন্ত্রাসীর নাম সম্পূরক চার্জশিটে দেওয়ার কথা উল্লেখ করা ঠিক হয়নি। চার্জশিট সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে আমেরিকায় আত্মগোপনে রয়েছেন মেহেদী হাসান। মামলা তদন্ত করে ডিবির পরিদর্শক আব্দুস সোবাহান চলতি বছরের ৪ ফেব্রুয়ারি আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।