বান্দরবান প্রতিনিধি
বান্দরবানে ভ্রমণকারীদের গাড়িতে পাহাড়ের সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের এলোপাতাড়ি গুলির ঘটনায় নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ভ্রমণকারীরা সবাই ছিল উপজাতীয় জনগোষ্ঠী এবং যারা গুলি করেছে তারাও ছিল পাহাড়ি সশস্ত্র সন্ত্রাসী। গতকাল সোমবারও ঘটনাস্থলসহ আশপাশের এলাকাগুলোতে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছিল বলে স্থানীয়রা জানিয়েছে।
নিরাপত্তা বাহিনীর দাবি, জনমনে আতঙ্ক তৈরির জন্য ব্রাশফায়ার করেছে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা। অস্ত্রধারীদের ধরতে অভিযান চালাচ্ছে যৌথ বাহিনীর সদস্যরা্। এদিকে পর্যটন শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ব্রাশফায়ারের ঘটনাটি পর্যটনসংশ্লিষ্ট কোনো বিষয় নয়। বান্দরবান হোটেল মোটেল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম জানান, এ ঘটনা পাহাড়ের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিরোধের কোনো বিষয়, কারণ ভ্রমণকারীরা সবাই রাঙ্গামাটি জেলার বাসিন্দা। গত শনিবার সন্ধ্যায় বান্দরবান-রাঙ্গামাটি সড়কের গলাচিপা নামক স্থানে ১৯ ভ্রমণকারীর একটি জিপ গাড়িকে টার্গেট করে ব্রাশফায়ার করে দুর্বৃত্তরা। ভ্রমণকারীরা রাঙ্গামাটি জেলার রাজস্থলী উপজেলা থেকে বান্দরবানের রুমা উপজেলার পর্যটন এলাকা বগালেকপাড়ায় সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ শেষে রাজস্থলী ফেরার পথে বান্দরবানের গলাচিপা এলাকায় পাহাড়ি সন্ত্রাসীরা এলোপাতাড়ি গুলি করে। এতে গাড়ির চাকা ফুটো হয়ে গাড়িটি রাস্তার পাশে খাদে পড়ে যায়। এতে কেউ নিহত না হলেও চার জন নারী ভ্রমণকারী আহত হন। ঐদিন রাতে নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মকর্তারা সাংবাদিকদের জানান, পাহাড়ের আঞ্চলিক সংগঠন জনসংহতি সমিতির সশস্ত্র সদস্যরা এ ঘটনা ঘটিয়েছে। সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম চৌধুরী জানান, এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।