বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাক বিভিন্ন দেশে রপ্তানির জন্য চট্টগ্রাম বন্দরে নিয়ে যাওয়ার পথে সড়ক থেকে লাখ লাখ টাকার পোশাক চুরি করে আসছিল একটি চক্র। এই চোর চক্রটি কৌশলে কাভার্ড ভ্যান থেকে মাল সরিয়ে নেয়। সম্প্রতি রাজধানীর তেজগাঁও এলাকার একটি গার্মেন্টস প্রতিষ্ঠান বিদেশে রপ্তানির জন্য ২৮ হাজার ৮২০ পিস তৈরি পোশাক বিদেশে পাঠায়। কিন্তু বিদেশি ক্রেতা ১১ হাজার পিস কম পায়। পণ্য ১১ হাজার পিস কম থাকায় বিদেশি ক্রেতা বাংলাদেশি ঐ গার্মেন্টস মালিককে ২৮ হাজার ৯০৮ ডলার ক্ষতিপূরণ বাবদ জরিমানা করে। বিষয়টি পুলিশকে জানানোর পর রপ্তানির পোশাক চোর সিন্ডিকেটের মূল হোতা সাঈদসহ চক্রের সাত সদস্যকে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
সাহেদ ওরফে সিলেটি সাঈদের পরিকল্পনায় ও যোগসাজশেই যানবাহন থেকে চার থেকে পাঁচ হাজার চুরির ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় তার বিরুদ্ধে ২৪টি মামলাও হয়েছে। চোরাই গার্মেন্টস পণ্য বিক্রি করে স্ত্রী-সন্তানদের তিনি লন্ডনে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। হয়েছেন বিপুল ধনসম্পদের মালিক। বাড়ি, গাড়ি, কয়েক শ ট্রাক, কাভার্ড ভ্যানসহ অনেক কিছুই আছে তার। এসবই তিনি করেছেন গার্মেন্টস পণ্য চুরির টাকায়। চোর চক্রের এই হোতা সম্প্রতি আট মাস কারাভোগ শেষে বেরিয়ে আবার যুক্ত হন তার পুরোনো পেশায়। গতকাল সোমবার দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) এ কে এম হাফিজ আক্তার।
তিনি জানান, গত ১৫ সেপ্টেম্বর নেটওয়ার্ক ক্লোথিং লিমিটেড নামের গার্মেন্টসের ১৭ হাজার ১৫২ পিস তৈরি পোশাক বিদেশে রপ্তানির উদ্দেশে চট্টগ্রাম বন্দরে নেওয়ার পথে চুরির ঘটনা ঘটে। ঐ ঘটনায় তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় একটি মামলা হয়। ঐ ঘটনায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে গার্মেন্টস পণ্য চোর চক্রের মূলহোতা সিলেটি সাঈদসহ সাত জনকে গ্রেফতার করে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা তেজগাঁও বিভাগের একটি টিম। গত ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে ১৯ সেপ্টেম্বর রাত পর্যন্ত রাজধানীর উত্তরা এবং কুমিল্লা জেলার বুড়িচং থানা এলাকায় ধারাবাহিক অভিযানে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত অন্যরা হলেন—রাজ্জাক, ইউসুফ, মাইনুল, আলামিন, দুলাল হোসেন ও খায়রুল। এ সময় তাদের হেফাজত থেকে ৪ হাজার ৭০৫ পিস তৈরি পোশাকসহ দুটি কাভার্ড ভ্যান জব্দ করা হয়।
হাফিজ আক্তার বলেন, দীর্ঘদিন ধরে পরিবহনে যুক্ত ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান, এজেন্সি, চালক ও শ্রমিকদের যোগসাজশে গার্মেন্টস পণ্য চুরি করছে সংঘবদ্ধ চোর চক্রটি। এতে বাংলাদেশের গার্মেন্টস শিল্পের সুনাম নষ্ট হচ্ছে। তিনি জানান, গ্রেফতারকৃত সিলেটি সাঈদের বিরুদ্ধে ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন থানায় ২৪টি মামলা রয়েছে। চট্টগ্রামে তিনি ছয়টি মামলায় দীর্ঘদিন কারাভোগ করেছেন। চোর চক্রের অন্য সদস্যদের সহায়তায় তিনি এ পর্যন্ত কয়েক হাজার কোটি টাকার পণ্য হাতিয়ে নিয়েছেন। গার্মেন্টস পণ্য চুরির টাকায় তিনি বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি গড়ে তুলেছেন। মৌলভীবাজারে তার বিশাল অট্টালিকা রয়েছে। তার রয়েছে প্রায় পাঁচ শতাধিক ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান ও পিকআপ। এসব যানবাহন তিনি ভাড়ায় ব্যবহার করতেন গার্মেন্টস পণ্য শিপমেন্টের কাজে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে গার্মেন্টস পণ্য পরিবহনে যুক্ত। নিজের ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান ব্যবহার করে ও এজেন্সি, চালক এবং শ্রমিকদের সহায়তায় সংঘবদ্ধ চোর চক্রটি পরিচালনা করতেন সাঈদ।