অস্ত্র মামলায় স্বাস্থ্যের মালেকের ৩০ বছর সশ্রম কারাদণ্ড

অস্ত্র মামলায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের গাড়িচালক আব্দুল মালেককে ৩০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। অস্ত্র আইনের দুটি ধারায় তাকে এই দণ্ড দেওয়া হয়েছে। তবে দুই ধারার সাজা একত্রে চলবে বলে মালেককে ১৫ বছর সাজা খাটতে হবে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে। গতকাল সোমবার ঢাকার বিশেষ ট্রাইবুনাল-৪-এর বিচারক রবিউল আলম জনাকীর্ণ আদালতে এই রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণা শেষে আসামিকে সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

এদিকে রায় ঘোষণার পর আদালতে কান্নায় ভেঙে পড়েন তার স্বজনরা। আর কারাগারে নিয়ে যাওয়ার সময় সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে আব্দুল মালেক বলেন, আমাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। আমার বাসা থেকে কোনো কিছুই পায়নি। আমি ন্যায়বিচার পাইনি। আদালতের কাঠগড়া থেকে মালেককে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে হাজতখানায় নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় তার ছবি তুলতে গেলে তিনি ‘ভি’ চিহ্ন দেখান। পরে তাকে হাজতখানা থেকে প্রিজন ভ্যানে করে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।

রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সহকারী       পাবলিক প্রসিকিউটর সালাহউদ্দিন হাওলাদার সাংবাদিকদের বলেন, আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ করতে আমরা সক্ষম হয়েছি। বিচারক ৩০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন। মালেকের আইনজীবী শাহীনুর ইসলাম অনি বলেন, এ রায়ের বিরুদ্ধে আমরা উচ্চ আদালতে যাব।

মালেকের ছেলে বলেন, আমার বাবার নাকি এত টাকা, কোথায় গেলো এসব টাকা? ১০০-২০০ কোটি টাকা নাকি আমার বাপের, কোথায় গেল? মালেকের স্বজনরা আদালতের বাইরে বিলাপ করতে থাকলে কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যরা তাদের ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের দ্বিতীয় তলা থেকে নিচে নামিয়ে দেন।

অবৈধ অস্ত্র, জাল নোটের কারবার ও চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে গত বছরের সেপ্টেম্বরে ঢাকার তুরাগ থানার কামারপাড়া এলাকার বাসা থেকে গাড়িচালক মালেককে গ্রেফতার করে র্যাব। সে সময় তার কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, ম্যাগাজিন, পাঁচ রাউন্ড গুলি, দেড় লাখ বাংলাদেশি টাকার জাল নোট উদ্ধারের কথা জানানো হয়। এ ঘটনায় করা মামলায় গত ১১ জানুয়ারি মালেকের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেওয়া হয়। গত ১১ মার্চ অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় বিচার। সাক্ষ্য গ্রহণ, আত্মপক্ষ সমর্থন ও যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে গতকাল এ রায় ঘোষণা করা হয়।

গাড়িচালক আব্দুল মালেক ওরফে বাদল বাংলাদেশ সরকারি গাড়িচালক সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মচারী সমিতির সভাপতি হিসেবে প্রায় ২০-২৫ বছর ধরে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। এ কারণে তিনি নিজেকে খুবই প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে পরিচয় দিতেন। এছাড়া সাংগঠনিক পদবি কাজে লাগিয়ে ‘বদলি ও নিয়োগ বাণিজ্য করে অবৈধভাবে বিপুল পরিমাণ অর্থের’ মালিক হন তিনি।