পদে থেকেই প্রার্থী হতে পারবেন বর্তমান চেয়ারম্যানরা

আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বর্তমান চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও নারী সদস্যরা স্বপদে বহাল থেকেই নির্বাচন করতে পারবেন। প্রার্থী হতে চাইলে তাদের পদত্যাগ করতে হবে না। তবে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি), পৌরসভা ও জেলার পরিষদের চেয়ারম্যান/মেয়র এবং সদস্য বা কাউন্সিলররা উপজেলা নির্বাচনে প্রার্থী হতে চাইলে তাদের বর্তমান পদ থেকে পদত্যাগ করতে হবে। গতকাল রবিবার নির্বাচন কমিশন (ইসি) সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধি-বিধান পর্যালোচনা করে এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেছে। কমিশন সচিবালয়ের কর্মকর্তাদের মতে ইসির এ সিদ্ধান্ত জাতীয় সংসদের নির্বাচনী আইনের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ। সংসদ সদস্যরাও নিজ পদে থেকে নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারছেন। ইতিমধ্যে কমিশনের এই সিদ্ধান্ত মৌখিকভাবে রিটার্নিং অফিসারদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। 

যদিও গত ৩ ফেব্রুয়ারি উপজেলা পরিষদের তফসিল ঘোষণার সময় ইসির অতিরিক্ত সচিব মো. মোখলেছুর রহমান জানান, স্বপদে থেকে কেউ নির্বাচন করতে পারবেন না। উপজেলা আইনের ৮(২) ধারা মতে, জাতীয় সংসদের সদস্য বা অন্য কোন স্থানীয় কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান বা সদস্য হন বা থাকেন তাহলে তিনি চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার যোগ্য হবেন না। তবে গতকাল নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ ইত্তেফাককে বলেন, এটি নিয়ে বিভ্রান্তি ছিল। তবে উপজেলা পরিষদ আইন ও নির্বাচন বিধিমালায় কোথাও বলা নেই— বর্তমান চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও সদস্যরা নিজ পদে থেকে এ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। সেজন্য কমিশন মনে করছে, আসন্ন নির্বাচনে অংশ নেয়ার জন্য তাদের পদত্যাগের প্রয়োজন নেই। ২০১৪ সালেও উপজেলা চেয়ারম্যানরা পদে থেকে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন।

সম্প্রতি একাদশ সংসদ নির্বাচনে উপজেলা ও ইউপি চেয়ারম্যানরা প্রার্থী হতে পারেননি। ওই নির্বাচনে প্রথমে ৩২ জন চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যানের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়। এক্ষেত্রে  দণ্ডবিধির ২১ ধারা এবং তাদের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা না করার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয়। ওই ধারায় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য ও মিউনিসিপ্যালের কমিশনারদের সরকারি কর্মচারী বলা হয়। এছাড়া গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের ১২ ধারা অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি প্রজাতন্ত্রের বা সংবিধিবদ্ধ কোনো সরকারি প্রতিষ্ঠানের কোনো লাভজনক পদে থাকলে তিনি সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। এ ধারা সম্পর্কে ইসি ও আদালতের ব্যাখ্যায় সিটি করপোরেশন ও পৌর মেয়রের পদকে লাভজনক পদ হিসেবে দেখানো হয়েছে। ইসি সচিবালয়ের একজন কর্মকর্তা জানান, জাতীয় সংসদের সদস্য পদে নির্বাচনের জন্য প্রার্থীদের আয়কর দাতা হওয়া বাধ্যতামূলক না হলেও উপজেলা নির্বাচনে তা আইনত বাধ্যতামূলক। ২০১৪ সালে উপজেলা পরিষদের  চতুর্থ সাধারণ নির্বাচনে এটি বাধ্যবাধকতা ছিল না।

মনোনয়ন জমার শেষদিন আজ: আজ সোমবার উপজেলা পরিষদের পঞ্চম সাধারণ নির্বাচনের প্রথম ধাপে ৮৭টি উপজেলায় প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন। গত ৩ ফেব্রুয়ারির তফসিল অনুযায়ী প্রথম ধাপে দেশের চার বিভাগের ১২ জেলার ৮৭ উপজেলায় ১০ মার্চ ভোট নেওয়া হবে। প্রথম ধাপের মনোনয়নপত্র জমার শেষ দিন ১১ ফেব্রুয়ারি, বাছাই ১২ ফেব্রুয়ারি, মনোনয়ন প্রত্যাহার করা যাবে ১৯ ফেব্রুয়ারি। আর আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দ্বিতীয় ধাপের ১২৯টি উপজেলা পরিষদের সম্ভাব্য প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারবেন।