কারখানার বিষাক্ত কালো ধোঁয়া এবং বর্জ্যের পঁচা দুর্গন্ধে এলাকার পরিবেশ হুমকির মুখে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অপরিকল্পিতভাবে তিন ফসলি আবাদী জমির ওপর কারখানা গড়ে উঠায় এলাকার চারপাশের ফসলি জমিতে সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা।
ফলে এলাকার কৃষকরা নির্ধারিত মৌসুমে জমিতে আবাদ করতে না পেরে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। একদিকে জলবদ্ধতা, অপরদিকে অপরিকল্পিতভাবে কারখানার বিষাক্ত ধোঁয়া ও দূষিত বর্জ্যের পঁচা দুর্গন্ধ। টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার গোড়াই এলাকার কোদালিয়া, বাইমাইল ও সোহাগপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে। এলাকাবাসীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে আজ সোমবার ঐ এলাকায় গিয়ে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু একসেস রোড মহাসড়ক ও গোড়াই-সখীপুর-ঢাকা আঞ্চলিক রোডের আশপাশে অর্ধশত ছোট-বড় মিল কারখানা গড়ে উঠেছে। দেওহাটা এলাকার এসব কারখানার মধ্যে বেঙ্গল এফ এন কে গ্রুপ, কদিমধল্যা এলাকায় সাদিয়া টেক্সটাইলস লি. জামুর্কি ও ডুবাইলে নাসির গ্রুপ, গোড়াইতে কাশেম ড্রাইসেল লি. মাসাফি ব্রেড এন্ড বিস্কুট কারখানা, উত্তরা সাইকেল মাঠ লি. উত্তরা স্পিনিং মিল, নিউটেক্স গ্রুপ, নিউএইজ গ্রুপ ও সৈয়দপুরে মেঘনা গ্রুপ উল্লেখযোগ্য।
এদের মধ্যে ঢাকা-টাঙ্গাইল- বঙ্গবন্ধু একসেস রোড মহাসড়কের ধেরুয়া, কোদালিয়া ও বাইমাইল এলাকায় নাসির গ্লাসওয়ার এন্ড টিউব ইন্ডাস্ট্রিজ লি. অন্যতম। এই কারখানাটি অপরিকল্পিতভাবে তিন ফসলি জমির উপর গড়ে ওঠায় কয়েকটি গ্রামের জনসাধারণ পড়েছে চরম বিপাকে। তিন ফসলি জমির ওপর কারখানা গড়ে উঠায় আশপাশের কয়েকটি গ্রামে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে জমি থাকছে বছরের অধিকাংশ সময় অনাবাদী। কারখানার বিষাক্ত ধোঁয়া ও দুষিত বর্জ্যের পঁচা দুর্গন্ধে এলাকায় টিকে থাকা দায় হয়ে পড়েছে বলে ভুক্তভোগিরা অভিযোগে করেছেন। বিষাক্ত বর্জ্যের দুর্গন্ধে এলাকার পরিবেশ এখন হুমকির মুখে।
ভুক্তভোগির মধ্যে কোদালিয়া গ্রামের বাসিন্দা মো. শাজাহান (৪৫), আবু কালাম মিয়া (৬৩) ও বাইমাইল গ্রামের বাসিন্দা মো. ইকবাল হোসেন (৫৬) অভিযোগ করেন, 'আবাদী জমি রক্ষার জন্য কারখানার দুষিত বর্জ্য ফেলা নিষিদ্ধ। কারখানার মালিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ ও এলাকার পরিবেশ রক্ষার রাখার জন্য উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, সহকারী কমিশনার(ভুমি) ও স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মহোদয়ের কাছে একাধিক লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। কিন্ত প্রয়োজনীয় কোন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। কারখানার দুষিত বর্জ্যে আশপাশের গ্রামের পুকুর, ডোবা-নালা ও নদ-নদীর মাছ মরে যাচ্ছে। সেই সঙ্গে বিভিন্ন প্রজাতির কাঠ ও ফলমুলের গাছাপালা মরে যাচ্ছে।
উপজেলার কদিমধল্যা, কাটরা, সাটিয়াচড়া, পাকুল্যা-গোড়ান, জামুর্কি, ডুবাইল, নাটিয়াপাড়া, গোড়াই নাজিরপাড়া, গোড়াই হাটুভাঙ্গা, সৈয়দপুর, ক্যাডেট কলেজসহ ৩০-৩৫ টি গ্রামের আশপাশে ও তিন ফসলি জমির ওপর অপরিকল্পিতভাবে মিল-কারখানা গড়ে ওঠায় দুষিত বর্জ্যে এলাকাবাসি চরম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এলাকার পরিবেশ ও তিন ফসলি জমি রক্ষাসহ কারখানার বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য এলাকাবাসী উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট জোর দাবি জানিয়েছে।
এ ব্যাপারে কোদালিয়া এলাকায় প্রতিষ্ঠিত নাসির গ্লাসওয়ার এন্ড টিউব ইন্ডাস্ট্রিজ লি. এর জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) মো. ফজলুল করিম ফজলুর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘটনার আংশিক সত্যতা স্বীকার করে বলেন, 'প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমোদনসাপেক্ষে কারখানার বর্জ্য নিষ্কাশনের (শোধানাগারের জন্য) জন্য ইটিপি প্লান্ট বসানো হয়েছে। তারপরও যদি দুর্গন্ধ বের হয় তবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'
এ ব্যাপারে টাঙ্গাইল জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ পরিচালকের সঙ্গে টেলিফোনে যোগাযোগ করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি। তবে অফিসের সংশ্লিস্ট সুত্র জানিয়েছেন, এ বিষয়ে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরও পড়ুনঃ নীলফামারী জেলায় নৌকা পেলেন যারা
এ ব্যাপারে মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবদুল মালেক এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আজগার হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বলেন, 'এলাকার পরিবেশ রক্ষার জন্য পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে কারখানায় দুষিত বর্জ্য বন্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'
ইত্তেফাক/নূহু